মুনাল চট্টোপাধ্যায়: নওগা ইন্ডিপেনডেন্টস কাপে রানার্স হওয়ার দুঃখ মিটল। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির নেহরু স্টেডিয়ামে অসমের অয়েল ইন্ডিয়াকে ৩–‌‌১ গোলে হারিয়ে বরদলুই ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হল মহমেডান। গোলদাতা চার্লস ও আজা (‌২)‌। সর্বভারতীয় স্তরে শেষবার গুরুত্বপূর্ণ কোনও ট্রফি জিতেছিল মহমেডান সিনিয়র দল ২০১৬–‌য়। সিকিম গভর্নর্স গোল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে অসমের নিউ বনগাইগাঁওয়ে জেসিবি গোল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় মহমেডান বি দল। ওই প্রতিযোগিতা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মহমেডানের বিদেশি ফুটবলার ফিলিপ আজা। কলকাতা লিগে দুই প্রধানের জালে বল জড়ানোর কৃতিত্ব ছিল আজার। বরদলুই ট্রফিতেও তাঁর দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। এদিন ফাইনালের আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল মাঠে ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচিত হতে দেরি করায় ম্যাচ শুরু হয় নির্দিষ্ট সময়ের আধঘণ্টা পর। মহমেডানে রঘু নন্দী টেক্কা দিলেন অয়েল ইন্ডিয়ার বাঙালি কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যকে (‌পটলা)‌। খেলা শুরুর আগে থেকেই মহমেডান ফুটবলারদের গ্যালারিতে হাজির দর্শকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। তার মাঝেই তেড়েফুঁড়ে খেলে ২৬ মিনিটে উজ্জ্বল হাওলাদারের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন চার্লস। বিরতির পরও চাপ বজায় রেখে ৫৮ মিনিটে সত্যমের পাস থেকে আজা ২–‌‌০ করেন। ৬২ মিনিটে চার্লসের থ্রু থেকে আজার গোলে ৩–‌‌০। ম্যাচের শেষদিকে অয়েল ইন্ডিয়ার মিলন বোরো গোল করে ব্যবধান কমালেও মহমেডানের ট্রফি জয় আটকায়নি। ম্যাচ শেষে মহমেডান কোচ রঘু নন্দীর প্রতিক্রিয়া, ‘কালীপুজো, দীপাবলি, ভাইফোঁটা ছেড়ে ফুটবলাররা এই ট্রফিটা জিততে মুখিয়ে ছিল। গোলকিপার লাল্টু মণ্ডল তার দাদার মৃত্যুর দু’‌দিন বাদেই খেলতে এসেছিল। কারণ নওগাঁর ফাইনালে টাইব্রেকারে হারটা কেউ ভোলেনি। এদিন প্রতিপক্ষকে পেড়ে ফেলতে শুরু থেকেই আজা ও চার্লসকে খেলানোটা কাজে দিয়েছে। এই সাফল্যটা আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনে ভাল খেলতে মোটিভেট করবে গোটা দলকে।’ ট্রফি জিতে আসামে নিহত ৫ বাঙালিকে উৎসর্গ করলেন মহমেডান কোচ রঘু নন্দী। ম্যাচের সেরা‌ আজা উচ্ছ্বসিত স্বরে বলেন, ‘ভাষায় বোঝাতে পারব না কতটা আনন্দ হচ্ছে। অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জেতার অনুভূতি দারুণ। ফাইনালে গোল পেয়ে খুব খুশি।’‌ আর এক গোলদাতা চার্লসের বক্তব্য, ‘এই ট্রফি জেতাটা স্পেশ্যাল। কারণ ইন্ডিপেনডেন্টস কাপের ফাইনালে গোল করলেও দল চ্যাম্পিয়ন হয়নি। তাই খারাপ লাগাটা ছিল। সেই আক্ষেপ মিটে গেল। এই জয়ে কোচ ও সতীর্থ ফুটবলারদের সমান অবদান আছে।’‌ প্রতিযোগিতার সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পেলেন লাল্টু। প্রয়াত দাদা সৌমিত্র মণ্ডলকে ট্রফি উৎসর্গ করলেন তিনি। বলেন, ‘বাবা সুবীর ও মা সুমিত্রার প্রেরণা ছাড়া এই অবস্থায় খেলতে আসা সম্ভব ছিল না। কৃতজ্ঞ রঘু স্যর ও মহমেডান কর্তাদের কাছে, আমাকে সুযোগ দেওয়ায়।’‌ আই লিগ প্রথম ডিভিশনে দলকে তোলা লক্ষ্য লাল্টুর।

হিপ হিপ হুররে.‌.‌.‌। বরদোলুই ট্রফি নিয়ে মহমেডান ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি:‌ পিটিআই

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top