আজকালের প্রতিবেদন,কটক: সাড়ে ছয় ঘণ্টার দাঁতে–দাঁত চাপা লড়াই শেষেও কোনও ক্লান্তির ছাপ নেই। মুখে পরিচিত হাসি। গোটা বাংলা দল মাঠ লাগোয়া শামিয়ানার তলায় নেমে এসেছে নায়ককে কুর্নিশ জানাতে। কেরিয়ারের চড়াই–উতরাই, হতাশা, অবিচার, লক্ষ্য, দায়িত্ব নিয়ে মুখ খুললেন অনুষ্টুপ মজুমদার।
‌ আজকে আক্ষেপ মিটল?‌ ইডেনে দিল্লি ম্যাচে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি হয়নি। রান আউটের পর আপনার হতাশা গোটা দেশ দেখেছিল।
‌ অনুষ্টুপ মজুমদার:‌ তা ঠিক। তিন বছর পর সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে নিজের ভুলে ওভাবে রান আউটের পর ওটা কি অস্বাভাবিক ছিল?‌ তবে আজকে সেই আক্ষেপ মিটেছে। রাতে অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারব। ক্রিকেটারের কাছে রনজির সেঞ্চুরি সবসময় স্পেশ্যাল। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে এই ইনিংস খেলতে পারার অনুভূতিটা বলে বোঝানো যাবে না।
‌ অথচ এবার রনজির প্রথম তিন ম্যাচে তো দলেই রাখা হয়নি?‌
অনুষ্টুপ:‌‌ ওটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। যেগুলো নিজের হাতে নেই, সেসব নিয়ে আমি কখনও চিন্তা করি না।
‌ রেলের চাকরি ছেড়ে বাংলায় খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ওই পরিস্থিতিতে কখনও মনে হয়েছিল আবার রেলে ফিরে যাই বা খেলা ছেড়ে দিই?
অনুষ্টুপ:‌‌ মিথ্যে বলব না। এক–একসময় মনে হত রেলে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়। তবে যে ক্রিকেট খেলার জন্য এতকিছু, সেটা ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা কখনওই মাথায় আনিনি।
‌ তবুও মোট রানের হিসেবে এখন মনোজ তেওয়ারির পরেই আপনি।
অনুষ্টুপ:‌‌ তাই নাকি!‌ সত্যি বলতে কি, আমি কখনও মোট রান নিয়ে ভাবি না। ম্যাচ জিততে পারলাম কিনা, দলে কতটা অবদান রাখতে পারছি, সেটাই আসল। জিততে না পারলে আমার এই ইনিংসের কোনও মূল্য থাকবে?‌ দিনের শেষে আমার কাছে ফলাফলটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচ জিতলে এই ইনিংসকে কেরিয়ারের অন্যতম সেরার তালিকায় রাখব।
‌ তাহলে আপনার লক্ষ্যটা কী?‌
অনুষ্টুপ:‌‌ ৩৬ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে একজন ক্রিকেটার খুব বেশিদিন খেলার স্বপ্ন দেখে না। ১৬ বছরের কেরিয়ারে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ট্রফি জিতেছি। দলীপ, ইরানি, বিজয় হাজারে, মুস্তাক আলি— সব। শুধু রনজি ট্রফিটাই পাইনি। অধরা রনজি জয়ের স্বপ্নটাই এখনও তাড়া করে যাচ্ছি। এবার সেটা পূরণ করতে চাই।
‌ কোচ অরুণলালও তো বলছেন, আপনার মতো নিখুঁত টেকনিকের ক্রিকেটারের ক্যাবিনেটে রনজি ট্রফি না থাকাটা হতাশাজনক।
অনুষ্টুপ:‌‌ (‌হাসতে হাসতে)‌ ভালবাসেন বলে বলছেন। উনি হয়তো একটু বাড়িয়েই বলেছেন।
‌ যখন নামলেন বাংলা ৪৬/‌৪ স্কোরে ধুঁকছে। কী মনে হচ্ছিল?‌
অনুষ্টুপ:‌‌ ৪ কোথায়!‌ আমি নামার পরের ওভারেই তো মনোজ আউট। স্কোরবোর্ডে ৪৬/‌৫। তখন নিজেকে শুধু একটা কথাই বলছিলাম, সারাদিন ব্যাট করতে হবে রুকু (‌অনুষ্টুপের ডাকনাম)‌। জানতাম লাঞ্চের পর উইকেট অনেক সহজ হয়ে যাবে। সেসময় শ্রী–কেও (‌শ্রীবৎস)‌ কথাটা বলেছিলাম। সেটাই হল। ওর সঙ্গে ৯৫ রানের পার্টনারশিপটা না হলে এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।
‌ আর শাহবাজের সঙ্গে অপরাজিত ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ?‌
অনুষ্টুপ:‌‌ ওটা তো এখনও শেষ হয়নি। অনেক কাজ বাকি। ওডিশা সবে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দিনের সকালে প্রথম ঘণ্টাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট যা আচরণ করছে, তাতে ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলার সময় এখনও আসেনি।
‌ এই মরশুমে বাংলার টপ অর্ডার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। এখানেও সেই ছবি। এমন চাপের মুখে সিনিয়র হিসেবে শ্রীবৎস, শাহবাজকে কী বলেছিলেন?‌
অনুষ্টুপ:‌‌ চাপ নেওয়াটা আমার অভ্যেস হয়ে গেছে। ওদের শুধু বলেছিলাম, ধরে খেলে যা। কোনওভাবেই উইকেট দেওয়া যাবে না। বড় রান করতে না পারলে এতদিনের লড়াই জলে যাবে। শ্রীবৎসর আউটটা নিয়ে সংশয় আছে। ওটা না হলে আমরা হয়তো আরও ভাল জায়গায় থাকতাম। এখন শাহবাজকে নিয়ে যতটা সম্ভব রান বাড়িয়ে নিতে চাই। সেই লক্ষ্যেই নামব।

সেঞ্চুরির পর অনুষ্টুপ। ছবি: পিটিআই

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top