আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সেই ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। অনেক বছর কাজ হল। এবার একটু অবসরের স্বপ্ন বুনছিলেন। চেয়েছিলেন এক চিলতে ছাদ। সেজন্য বড় রকম ঋণও করেন। সেই স্বপ্নের বাসায় একটা দিনও থাকা হল না। ছুয়ে দেখা হল না দেওয়ালগুলো। পরিবারের সঙ্গে হইচই করে সময় কাটানো হল না। এলেন বটে। তবে কফিনবন্দি হয়ে চার কাঁধে চেপে। 
এমনটাই জীবন কে পালানির। সোমবার রাতে লাদাখ সীমান্তে চীন সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন। তাঁদেরই এক জন কে পালানি। তামিলনাড়ুর রামানাথপুরম জেলা। সেখানকার কাদুক্কালুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ৪০ বছরের জওয়ান। 
বাবা ছিলেন কৃষক। অর্থকষ্টে ছোটবেলা কেটেছে। অভাবে স্কুল পাশ করার পর আর পড়তে পারেননি। যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। তখন পালানির বয়স ১৮। পড়াশোনার পাঠ পুরোপুরি চুকিয়ে দেননি। চাকরির পাশাপাশি ডিসটেন্সে স্নাতক পাশ করেন। পরের বছর অবসর নেবেন ঠিক করেছিলেন। তাই আগে থাকতেই বাড়ি তৈরিতে হাত দেন। এজন্য ১৭ লক্ষ টাকা ঋণ নেন।
নিজের গ্রাম থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে জমি কিনে বাড়ি শুরু করেন। সেখান থেকে ছেলেমেয়ের স্কুল কাছে। ৩ জুন ছিল গৃহপ্রবেশ। পালানি আসতে পারেননি। কারণ সীমান্ত উত্তপ্ত। তাঁকে ছাড়াই অনুষ্ঠান হয়ে যায়। ভেবেছিলেন সীমান্ত সমস্যা মিটলেই ছুটি নিয়ে বাড়ি আসবেন। আট বছরের মেয়ে আর ১০ বছরের ছেলে রয়েছে। স্ত্রী বনথ দেবী কলেজে কেরানির কাজ করেন। ছুটিতে এসে পরিবারের সঙ্গে নতুন বাড়িতে ক’‌টা দিন থাকতে চেয়েছিলেন পালানি। তা আর হল না। তাঁর ছোট ভাইও রয়েছেন সেনাবাহিনীতে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top