আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাস্তায় পড়ে পাঁচ রক্তাক্ত যুবক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ওই অবস্থাতেই তাঁদের জোর করে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হুকুম করছে পুলিশ। আর সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি সপ্তাহে উত্তর–পূর্ব দিল্লিতে হিংসা চলাকালীন।
ফৈজান নামে ২৩ বছরের ওই যুবক গত বৃহস্পতিবার মারা যান। তিনি উত্তর–পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীর বাসিন্দা। ওই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। আর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের নিন্দনীয় ভূমিকা ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ফৈজান সহ পাঁচ রক্তাক্ত যুবককে ঘিরে রেখেছেন একদল পুলিশকর্মী। তাঁদের সাহায্য করা বা হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগের বদলে দুজন পুলিশকর্মী লাঠি উঁচিয়ে রক্তাক্ত যুবকদের হুকুম করছেন, জাতীয় সঙ্গীত ভাল করে গাইতে হবে। পরে গুরু তেঘবাহাদুর বা জিটিবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ফৈজানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ফৈজান এবং বাকি চার যুবকের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশের হেপাজতে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়েছিল তাঁদের।
ফৈজানের মা পরে অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলে কোনও প্রতিবাদে জড়িত ছিলেন না। তবুও তাঁকে প্রথমে রাস্তায় ফেলে তারপর থানায় নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে পেটায় পুলিশ। মারের চোটে ফৈজানের সারা শরীরে কালসিটে পড়ে গিয়েছিল। বৃদ্ধার আরও অভিযোগ, ফৈজানের এক পরিচিত তাঁকে পুলিশের মারধরের খবর দিলে তিনি রাস্তায় গিয়ে ছেলেকে দেখতে পাননি। পরে খবর পেয়ে জ্যোতি কলোনি থানায় গিয়ে পরদিন ভোররাত একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি ছেলের সঙ্গে। এমনকি তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় আটকে রাখার। তারপর রাত ১১টা নাগাদ তাঁকে যখন পুলিশ ফোন করে, তখন ফৈজানের শেষ অবস্থা। কর্দমপুরীর চিকিৎসক খালিক আহমেদ শেরওয়ানি বললেন, ফৈজানের মাথায় এবং অভ্যন্তরীণ চোট ছিল। তাঁর পিঠ মারের চোটে নীলচে হয়ে গিয়েছিল।        ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top