আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এ যেন আর এক জর্জ ফ্লয়েড। আরও এক পি জয়রাজ। হেফাজতে পুলিশি নিগ্রহের ছবিটা দেশেবিদেশে প্রায় একই। শুধু জায়গাটা বদলে যায়। কখনও মিনিয়াপোলিস, কখনও তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন। কখনও মেরঠ। হেফাজতে চরম পুলিশি অত্যাচারে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে যায় পুলিশ।
মেরঠের ঘটনা যদিও সাম্প্রতিক নয়। গত অক্টোবরের। তুতিকোরিনের ঘটনার পর নতুন করে সামনে এল। মেরঠের এক হাসপাতালে মারা যান ৩৫ বছরের প্রদীপ তোমর। নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন তিনি। একটি খুনের ঘটনায় জেরার জন্য তাঁকে ছিজারসি ফাঁড়িতে ডাকা হয়। উত্তরপ্রদেশের হাপুরে পিলখুয়া কোতয়ালির অন্তর্গত এই ফাঁড়ি। সেখানে তোমরের ওপর চলে চরম অত্যাচার। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। 
তোমরের সঙ্গে সেদিন ফাঁড়িতে গেছিল তাঁর ১০ বছরের ছেলে। ছেলের কথায়, তার সামনেই বাবাকে লাথি, ঘুষি চালায় পুলিশকর্মীরা। বিদ্যুতের শক দেয়। কাঠের তক্তা দিয়ে পেটায়। স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় ফুটো করে দেয়। বাবা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। ছেলে জানায়, পুলিশকর্মীরা তখন মদ্যপান করছিল। তোমরের অবস্থার অবনতি হলে হাপুরের এক হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে রেফার করা হয় মেরঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তোমরকে। 
তোমরের ছেলের বয়ানের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তোমরের শরীরে আঘাতের চিহ্নের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সোশাল সাইটে। চাপে পড়ে ডিএসপি সন্তোষ মিশ্র, পিলখুয়ার এসএইচও যোগেশ বলিয়ান, এসআই আজব সিং এবং চার পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। শুরু হয় পুলিশি তদন্ত। সেই তদন্তে যদিও সাত জনকেই ক্লিনচিট দেওয়া হয়। এফআইআর–এ তোমরের ছেলে যা বলেছিল, তদন্তকারী অফিসারদের সামনে কিছুই স্বীকার করেনি। ওই সাত অভিযুক্তকে ক্লিনচিট দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ে আদালতে। আদালত তাই মেনে নেয়। ডিএসপি–কে আগেই বেকসুর ঘোষণা করা হয়। মার্চে বাকিদেরও ক্লিনচিট দেয় আদালত।


 

জনপ্রিয়

Back To Top