আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সে প্রায় ৪০ বছর। হঠাৎই এসে পড়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের দামোহ গ্রামে। কীভাবে জানা যায়নি। মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। তাই পরিবার, পরিজন, ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি। মারাঠি ছাড়া কিছু বলতে পারতেন না। বুঝতেনও না। তবু কখন যেন দামোহ আর ‘‌মওসি’‌ একাত্ম হয়ে উঠেছিল। সেই মওসিকেই এবার বিদায় জানিয়ে কেঁদে আকুল হল গোটা গ্রাম। তাঁর আশ্রয়দাতা পরিবার। নাতির কাছে ফিরে গেলেন ৯৩ বছরের পঞ্চুবাঈ। বিদায়ের সেই ভিডিও ভাইরাল। 
মহারাষ্ট্র থেকে কোনওভাবে মধ্যপ্রদেশের এই দামোহ গ্রামে চলে এসেছিলেন পঞ্চুবাঈ। তখন বয়স ছিল ৫৩ বছর। রাস্তায় মৌমাছির হুলে আক্রান্ত হন। দেখতে পেয়ে রক্ষা করে নূর খান। সেই থেকে তাঁর পরিবারের সদস্য হয়েই থেকে যান পঞ্চুবাঈ। নূরের ছেলেমেয়েদের কোলে পিঠে মানুষ করেন। তার পর ধীরে ধীরে সারা গ্রামেরই খুব কাছের হয়ে ওঠেন।
গত মাসে লকডাউনের সময় ঘরে বসে মোবাইল ঘাঁটছিলেন নূরের বড় ছেলে ইসরার। পাশে বসেছিলেন বৃদ্ধা। হঠাৎই তাঁকে গ্রামের কথা জিজ্ঞেস করেন ইসরারা। বৃদ্ধা বলে ওঠেন, ‘‌খানজনামা’‌, ‘‌পাথরোট’‌। প্রথমটি গুগ্‌ল–এ টাইপ করে কিছু মেলেনি। দ্বিতীয়টি দেখা যায় মহারাষ্ট্রের এক গ্রামের নাম। সেখানে রয়েছে বৃদ্ধার বাপের বাড়ি। ফেসবুকে সেই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইসরার। হোয়্যাটসঅ্যাপ–এর মাধ্যমে পাঠান ছবি। সেই যুবকই জানান, সত্যিই খানজানমা নামে একটি জায়গা রয়েছে। 
এর পর যুবক গ্রামের সকলকে পঞ্চুবাঈয়ের ভিডিও দেখান। চোখা পড়ে নাতি পৃথ্বী ভাইয়ালাল সিঙ্গানের। চিনতে পারেন ঠাকুমাকে। সিঙ্গানে পরিবার এখন খানজানমা ছেড়ে নাগপুরে থাকেন। নাতিই ১৭ জুন যান দামোহ গ্রামে। নিয়ে আসেন ঠাকুমাকে। আক্ষেপ একটাই, বাবার সঙ্গে ঠাকুমার দেখা করাতে পারলেন না। তিন বছর আগেই গত হয়েছেন পঞ্চুবাঈয়ের ছেলে।  
 

জনপ্রিয়

Back To Top