আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পাক্কা দুমাস সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা এবং সেই দুমাস বৃক্ষ রোপণ করা। এই শর্তে এবং ব্যক্তিগত ৫০,০০০ টাকার বন্ড এবং সলভেন্ট শিওরিটিতে ১৮ বছরের এক তরুণকে জামিন দিল মধ্য প্রদেশ হাই কোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ। শনিবার একথা জানান সরকারি আইনজীবী। পুলিশ সূত্রে খবর, মধ্য প্রদেশের ভিন্দ জেলার অস্বর গ্রামের বাসিন্দা, হরেন্দ্র ত্যাগী নামে ওই তরুণ গতবছর ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেন। কৃষি কলেজে ভর্তির জন্য প্রি–অ্যাগ্রিকালচারাল টেস্ট বা পিএটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হরেন্দ্র। এবছরের মার্চে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও লকডাউনে তা পিছিয়ে যায়। গত জুনে লকডাউন চলাকালীন তামাক কিনতে একটি দোকানে গিয়ে বিক্রেতাকে মারধর এবং কটূক্তি করেন হরেন্দ্র। ২৩ জুন তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ (ইচ্ছা করে মারধর)‌, ২৯৪ (‌কটূক্তি করা)‌, ৫০৬ (‌হুমকি দেওয়া)‌ এবং ৩২৯ (‌সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় ইচ্ছা করে মারধর করা) ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। তারপর আদালতের নির্দেশে ২৪ জুন থেকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতেই ছিল হরেন্দ্র। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারপতি আনন্দ পাঠকের এজলাসে মামলা ওঠে। হরেন্দ্র‌র হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী, সুশান্ত তিওয়ারি বলেন, পিএটি পরীক্ষার জন্য তাঁকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া গত কয়েক মাস জেলে থেকে নিজের ভুলও বুঝতে পেরেছেন তরুণ। তারপরই দুমাস সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা, প্রতি মাসে ডিজিটাল ডিটক্সিফিকেশনের মসিক রিপোর্ট স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযুক্তের নিজের হাতে জমা দেওয়া এবং পাঁচটি গাছ লাগানোর শর্তে জামিন দেওয়া হয় হরেন্দ্রকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে মানুষের, বিশেষত যুব সমাজের মানসিক স্থিরতা, ধৈর্য বা সহনশীলতা কমে যাচ্ছে। যার ফলে অস্থির হয়ে পড়া মানুষ এধরনের ছোটখাটো ব্যাপারে মাথা গরম করে ফেলছে। তাই মানুষকে ধৈর্যশীল করে তুলতে এধরনের পদক্ষেপ জরুরি, বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top