আজ‌কাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সারা পৃথিবীতে বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জলস্তর। সম্প্রতি রিপোর্ট মিলেছে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা প্রতিবছর প্রায় ১০ ইঞ্চি করে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে চললে ২০৫০–র মধ্যে জাকার্তার ৯৫ শতাংশই সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। শুধু জাকার্তাই নয়, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির ফলে আশঙ্কায় সমুদ্র তীরবর্তী বিভিন্ন রাষ্ট্র, দ্বীপ এবং শহর।
প্রকৃতির রোষ সামলাতে এক অভিনব পন্থা খুঁজেছে দ্য আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্ট নামে বাংলাদেশের একটি সংগঠন। প্রযুক্তিবিদ সৈফ উল–হক স্থপতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং মালেকা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পটি বাংলাদেশের কেরানিগঞ্জের দক্ষিণ কণারচর অঞ্চলে ধলেশ্বরী নদীর তীরে তৈরি করেছে অভিনব জল–নিরোধক বাঁশের স্কুল।

তিনবছর ধরে বাংলাদেশে আসা বন্যা, সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝাতেও কোনও ক্ষতি হয়নি বাঁশের স্কুলের। প্রাণবল্লভ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২০১৪–র ডিসেম্বর থেকে ২০১৬–র ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫০৮০০ মার্কিন ডলার ব্যয়ে গড়ে উঠেছে স্কুলটি। বিভিন্ন ধরনের বাঁশ দিয়ে ৪৮৬ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে স্কুল। নির্মাতারা প্রথমে সংলগ্ন গ্রামগুলি থেকে বাঁশ সংগ্রহ করেন। তারপর গাব ফল জ্বাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের রাসায়নিক তৈরি করে সেই রাসায়নিকে বাঁশগুলি চুবিয়ে সেগুলি জল–নিরোধক করা হয়। তারপর মরচে এড়াতে স্টিলের তারের বদলে দড়ি দিয়ে গাবরসে জারানো সেই বাঁশ পরপর জুড়ে দিয়ে তৈরি হয়েছে স্কুল। 
কম খরচে অভিনব জল–নিরোধক স্কুল তৈরির জন্য রাশিয়ার কাজানে আয়োজিত আগা খান পুরস্কার, ২০১৯ পেয়েছে এডুকেশন প্রজেক্ট।

তার সঙ্গেই এই পুরস্কার পেয়েছে আরও পাঁচজন। আগা খান পুরস্কার আয়োজকদের তরফে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে প্রযুক্তিবিদ, গ্রাহক এবং নির্মাতাদের একত্র সহযোগের ফল এই বিশেষ স্কুল। তাঁদের পারস্পারিক সহযোগিতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই কম খরচে, স্থানীয় জিনিসপত্র দিয়েই এরকম স্কুল তৈরি করতে পেরেছেন তাঁরা। এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনা প্রযুক্তিগতভাবে মানুষকে সাহায্য করবে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির এই অসময়ে যেকোনওরকম নির্মাণে।
ছবি:‌ ইন্ডিয়া টুডে 

জনপ্রিয়

Back To Top