আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমাদের সৌরমন্ডলের প্রাণশক্তি সূর্যের অস্থির অংশের ছবি কখনও দেখেছেন। সম্ভবত না। কারণ স্থানীয় সময় বুধবারই আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের অশান্ত পৃষ্ঠের ছবি প্রকাশ করেছে বিশ্ববাসীর জন্য। হাওয়াই–এর ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন বা এনএসএফ–এর নতুন অত্যাধুনিক ড্যানিয়েল কে ইনোউই সৌর দূরবীক্ষণে সেই ছবি ধরা পড়েছে। আর সূর্যের সেই অশান্ত পৃষ্ঠের ছবি দেখে মনে হচ্ছে যেন সোনালি রং–এর ফুটন্ত পপকর্ন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যে ছবি ধরা পড়েছে সেটি আসলে প্লাজমা। যা সূর্যকে ঢেকে রাখে। এনএসএফ–এর ডিরেক্টর ফ্রান্স কর্ডোভা বললেন, ‘‌এপর্যন্ত এটাই সূর্যের সব চেয়ে পরিষ্কার এবং বিস্তারিত ছবি। এই দূরবীক্ষণের সাহায্যে সূর্যের বলয়ের চৌম্বক ক্ষেত্রের ম্যাপিং করা সম্ভব হবে। ওই খানেই সৌর বিস্ফোরণগুলি ঘটে যা পৃথিবীর প্রাণে প্রভাব ফেলতে পারে। এই দূরবীক্ষণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে ব্রহ্মাণ্ডের আবহাওয়া সম্পর্কে যা পরবর্তী স্তরে সৌরঝড়ের পূর্বাভাস পেতেও সহায়ক হবে।’‌
১৩ ফুট লম্বা আয়না সম্বলিত এই দূরবীক্ষণই এপর্যন্ত বৃহত্তম সৌর দূরবীক্ষণ। প্রথমে এটার নাম ছিল অ্যাডভান্সড এটেকনোলজি সোলার টেলিস্কোপ। ২০১৩ সালে প্রয়াত মার্কিন সেনেটর ড্যানিয়েলের নামে এর নামকরণ করা হয়। এনএসএফ–এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডেভিড বোবলজ্‌ৎ জানালেন, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত ইনোউই দূরবীক্ষণের দল আগামী ৬ মাস ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবেন আন্তর্জাতিক সৌর কমিটির বিস্তারিত গবেষণার জন্য। ১৬১২ সালে গ্যালিলিও যখন প্রথম সূর্যের দিকে দূরবীক্ষণ তাক করেছিলেন তারপর থেকে সেভাবে আর সূর্য নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয়নি। তার সূর্যের জন্মের প্রথম পাঁচ বছর থেকে শুরু করে নক্ষত্র সম্বন্ধে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে এই দূরবীক্ষণ।
ছবি:‌ এএনআই   

জনপ্রিয়

Back To Top