আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমুদ্রের অতি গভীরে, যেখানে সূর্যালোক পৌঁছয় না, সেখানকার বাসিন্দা অতি–কালো মাছ। কিন্তু তার রং এমনতর গভীর কৃষ্ণকালো কেন তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা। এবার তাঁরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়েছেন তা হল, খাদ্যখাদকের এই রাজত্বে জলের অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই এই অতি–কালো রং এধরনের মাছেদের। যাতে শিকার হঠাৎ করে বুঝতে না পারে যে শিকারি তার নিকটস্থ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পেসিফিক ব্ল্যাকড্রাগন, এঞ্জেল, ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার বা ফ্যাংটুথ, এই প্রজাতির মাছ। একেকটি মাছ একেক আকার বা ওজনের হলেও এদের সবার চামড়ার পিগমেন্টকে এরা এমনভাবে ব্যবহার করতে পারে যাতে শরীরের উপর পড়া আলোর মাত্র ০.‌৫ শতাংশই তারা প্রতিফলিত করে। অতি–কালো মাছদের ১৬টি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেগুলিকে ছয়টি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রাণীবিজ্ঞানী কারেন অসবোর্ন বলছেন, গভীর সমুদ্রের তলদেশে চারপাশে শিকারি এবং লুকনোর জায়গার অভাব। তাই কোনও প্রাণীর নিজেকে বাঁচাতে পরিপার্শ্বের সঙ্গে মিশে যাওয়াই একমাত্র বিকল্প পথ। সাধারণত সমুদ্রের ৬৫০ ফুট বা ২০০ মিটার নীচ পর্যন্ত অল্পই সূর্যালোক পৌঁছতে পারে। আর এধরনের কিছু মাছ প্রায় ৩০০০ মিটার গভীরে বাস করে। সেখানে আলোর একমাত্র উৎস, সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করা উদ্ভিদ বা প্রাণীদের শরীরের আলো। বিজ্ঞানীরা আরও বলছএন, এই মাছগুলির শরীর আলো এতটাই গাঢ়ভাবে টেনে নেয় যে প্রচুর আলোর মধ্যে আনলেও তাদের আবছা দেখায়। কারণ এদের চামড়ায় পিগমেন্টেশন মেলানিন অত্যধিক মাত্রায় আছে এবং সেগুলি এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে সব আলোই এদের চামড়া শুষে নিলেও তা বেরোয় না।                  ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top