আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যখন দুটি কৃষ্ণ গহ্বরের পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তখন মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ উত্থাপিত হয়। সেই গোপন রহস্য জানতে সাধারণ মানুষকে তাঁদের কম্পিউটার ধার দিতে আহ্বান করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জাকারিয়া এটিন্নের উদ্যোগেই মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে কম্পিউটারের সাহায্য নেওয়ার কাজ  হচ্ছে। এটিন্নে বললেন, ‘‌যেহেতু মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ আরও জটিল হয়ে উঠছে তাই আমাদের কম্পিউটারের ব্যবস্থাপনায় বৃদ্ধি করতে হবে। সেজন্যই আমরা আমজনতার কাছে দরবার করছি। আমাদের বিশ্বাস, এই অত্যন্ত শক্তিশালী সংঘর্ষ সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ে তাঁরা অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করবেন। এভাবেই আমরা নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদেরও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে উৎসাহী করে তুলতে পারব। প্রত্যেকটি ডেস্কটপ কম্পিউটার কৃষ্ণ গহ্বরের পারস্পরিক সংঘর্ষের একটি করে অঙ্ক সমাধানে সক্ষম হবে। ’‌ 
১৯১৬ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ হচ্ছে মহাশূন্যে ওঠা অস্থিরতা যা মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ চিহ্নিতকারী আমেরিকার মানমন্দির লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র‌্যাভিটেশনাল ওয়েভ অবজার্ভেটরি বা লিগোই ২০১৫ সালে প্রথম খুঁজে পেয়েছিল, দুটি কৃষ্ণ গহ্বরের পরস্পরের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার পর মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ তৈরি হয়েছে। এরপরই মহাশূন্যে ওঠা মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ এবং কৃষ্ণ গহ্বরের পারস্পারিক সংঘর্ষ নিয়ে নতুনভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করে লিগো এবং ইওরোপের মানমন্দির ভার্গো। ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি এবং তার কাজকর্ম নিয়ে গবেষণার অনেক নতুন দিক ২০১৫ থেকে খুলে গিয়েছিল বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৫–র পর থেকে লিগো এবং ভার্গো আরও আটবার কৃষ্ণ গহ্বরের মধ্যে পারস্পারিক সংঘর্ষ লক্ষ্য করেছে।         

জনপ্রিয়

Back To Top