জল নয়, মঙ্গলে রয়েছে অন্য কোনও তরল, দাবি বিজ্ঞানীদের

আজকাল ওয়েবডসেস্ক:‌ জল নেই মঙ্গল গ্রহে।

বইছে অন্য কোনও তরলের স্রোত। অন্তত র‌্যাডার এর সিগন্যালে এমনটাই ধরা পড়েছে। যা দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জল তরল আকারে থাকার জন্য মঙ্গল অনেক বেশি শীতল।
মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে ভূগর্ভে স্রোতপ্রবাহের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির বিশেষ যন্ত্রের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছিল, লালগ্রহের অভ্যন্তরে রয়েছে জলের স্রোত। মনে করা হচ্ছিল, তা কোনও হ্রদের অংশ কি না। সেই জলে প্রাণধারণ আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল বিস্তর জল্পনা। কিন্তু সম্প্রতি সেই পর্যবেক্ষণ কিংবা ইঙ্গিত বদলে যাচ্ছে আরেকদল বিজ্ঞানীর দাবিতে। এ নিয়ে ৩ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত জার্নালে। তারপর থেকেই ভিন্নতর জল্পনা উসকে উঠেছে। বলা হচ্ছে, যদি বা জলের কোনও উৎস থেকে থাকে, তাহলে তা মঙ্গলের মাটির অনেকটা ভিতরে এবং তা মাটি চুঁইয়ে আসা তরল। অত্যধিক শীতল তাপমাত্রায় এখানকার হ্রদ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। এদিকে লালগ্রহ নিয়ে যখন এমনই আশা–আকাঙ্খার দোলাচল, সেসময় নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে বসে র‌্যাডারে ধরা পড়া সিগন্যাল পরীক্ষায় মগ্ন ছিলেন দুই বিজ্ঞানী আদিত্য আর খুল্লার এবং জেফ্রি জে প্লট। ৪৪ হাজার প্রতিধ্বনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, এগুলো সবই মঙ্গলপৃষ্ঠের ভিতর দিকের। আর সেই অংশ এতটাই শীতল যে তরল আকারে জল থাকার পক্ষে বস্তুত অসম্ভব। মঙ্গলের অন্তভাগের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, কার্ভার বিয়েরসন এবং আইজ্যাক স্মিথ নামে দুই বিজ্ঞানী পরীক্ষানিরীক্ষা করে দাবি করেছেন, মঙ্গলে শুধু মাটি আর কাদার উপস্থিতি। জলীয় অংশের উৎস সম্ভবত সেটাই। কিন্তু সেই তরল অংশ কি অন্য কিছু? এই নিয়ে নতুন গবেষণা শুরু হয়ে গেল। আর তার ফলে ফের সন্দেহের মুখে পড়ল মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা।

আকর্ষণীয় খবর