আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌যুগটা এখন স্মার্টফোনের। সকলের হাতেই এখন বিরাজ করছে বিভিন্ন সংস্থার স্মার্টফোন। সেইসব ফোনে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড আপনি করবেন না, এটা হতে পারে না। আর আপনি যদি নাও করেন, স্মার্টফোন কেনার সময়ই কিছু জনপ্রিয় অ্যাপস আপনার ওই ফোনে ডাউনলোড করা থাকে। বিপদটা অবশ্য সেখানেই। এক সমীক্ষায় জানতে পারা গিয়েছে, কিছু জনপ্রিয় স্মার্টফোন অ্যাপ খুব গোপনভাবে গ্রাহকদের কার্যকলাপের স্ক্রিনশট নিয়ে তা অন্যের কাছে পাচার করছে। এই স্ক্রিনশট হতে পারে আপনার ফোনের ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত তথ্য যা আপনার ফোনে রয়েছে এবং আপনি ভাবছেন তা খুব সুরক্ষিত রয়েছে। এবার এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড কফনেস বলেন, ‘‌আমরা লক্ষ্য করেছি হাজারেরও বেশি জনপ্রিয় অ্যাপস খুব দক্ষতার সঙ্গে আপনার ফোনের স্ক্রিনে যা যা হচ্ছে এবং আপনি যদি কিছু লেখেনও তাও রেকর্ড করে নিচ্ছে। অথচ আপনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। ফোনের ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ডও জেনে যাচ্ছে সেই অ্যাপসগুলি। আপনি যে পাসওয়ার্ডটা টাইপ করছেন তা কালো বিন্দুতে পরিণত হওয়ার আগেই রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।’‌ সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ফোনগুলি গোপনভাবে আমাদের কথোপকথন রেকর্ড করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে পাচার করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিজ্ঞাপনসংস্থাগুলি গ্রাহকদের বিজ্ঞাপন পাঠানোর জন্য নিশানা করছে। গবেষকরা জানতে পেরেছে, কথোপকথনের তথ্য যদি না পায় তবে তারা ফোনের কার্যকলাপ খুঁজে বের করে তা রেকর্ড করে। যা আরও সাংঘাতিক বলে মনে করছেন গবেষকরা। ডেভিড কফনেস বলেন, ‘‌আমরা জানতাম আমরা খড়ের গাদার মধ্যে সূঁচ খুঁজে বেড়াচ্ছি, কিন্তু সেখানে যে এতগুলো সূঁচ খুঁজে পেলাম সেটা দেখেই অবাক হচ্ছি।’‌ গবেষকদের মতে, এভাবে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার হওয়ার, ফোনসংস্থাগুলি গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই এগুলি করা হচ্ছে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, ১৭ হাজার জনপ্রিয় অ্যাপস রয়েছে, যার প্রোগ্রাম তৈরি করেছে পড়ুয়ারা। যার মধ্যে ৯ হাজার অ্যাপস স্ক্রিনশট নেওয়ার দক্ষতা রাখে। এমনই একটি অ্যাপ হল গোপাফ। এটি একটি ফুড–ডেলিভারি পরিষেবার অ্যাপ। এই অ্যাপটি গ্রাহকের মোবাইল থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তা অ্যাপসি নামে ডাটা অ্যানালিটিক ফার্মকে পাঠায়। এই অ্যাপ ব্যবহারকারি গ্রাহকরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এরকমই বহু অ্যাপ রয়েছে, যা গ্রাহকদের অগোচরে তাঁদের ফোন থেকে তৃতীয় পক্ষকে সব ধরনের তথ্য পাচার করছে। কিছুদিন আগে ফেসবুকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। 


 

জনপ্রিয়

Back To Top