সংবাদ সংস্থা: নতুন শতকে বদলে যাচ্ছে পুরনো অনেক কিছুই। কেনই বা বাদ থাকবে কিলোগ্রাম। হ্যাঁ, বদলে যাচ্ছে কিলোগ্রামও। 
তা হলে কি কিলোগ্রামের বাটখারায় আর ওজন হবে না? ব্যাপারাটা মোটেই সেরকম নয়। এখনও অনেকদিন হাটেবাজারে সেই আদি, অকৃত্রিম লোহার ১ কেজি বাটখারাতেই ওজন হবে। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে ও বিজ্ঞানের জগতে আরও নিখুঁতভাবে ওজন মেপে নিতে চালু হবে কিলোর সমমানের নতুন একটা কিছু। কী সেটা? তারই খোঁজে শুক্রবার ফ্রান্সের ভার্সাইতে মাথা ঘামাতে বসছেন বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানেই মিলবে এক কিলোর ভরকে কোনও বৈজ্ঞানিক সূত্রে রূপান্তরিত করার অনুমতি। 
এখন বাজারে যে এক কিলোর বাটখারা চালু রয়েছে তাদের যে দাদু, সেই আসল  কিলোগ্রাম গ্র্যান্ডকে রাখা আছে প্যারিসের পশ্চিম প্রান্তে সেভরেসের ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারমেন্টসের ভল্টে। তৈরি হয়েছিল ১৮৮৯ সালে। দেখতে একটা গল্ফ বলের মতো। ক্ষয় প্রতিরোধী ৯০ শতাংশ প্ল্যাটিনাম ও ১০ শতাংশ ইরিডিয়ামের মিশ্রণে তৈরি। সঙ্গে ৬টা নকল। সাতটা দাদু কিলোই রাখা আছে ঘণ্টা আকৃতির কাচের জারে। ভল্টের তিনটে চাবি। রাখা থাকে তিন জায়গায়। খুব কমই দিনের আলো দেখেছে এই আদি কিলো। আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও কিছু কেজিতে পরিমাপ করার এটাই মূল ভিত্তি। 
সারা বিশ্বে কোনও কিছু মাপতে সাতটি ইউনিট ব্যবহার করা হয়– দৈর্ঘ্য মাপতে মিটার, ভর মাপতে কিলোগ্রাম, সময় মাপতে সেকেন্ড, বৈদ্যুতিক কারেন্ট মাপতে অ্যাম্পায়ার, তাপমাত্রা মাপতে কেলভিন, পদার্থের সত্ত্ব মাপতে মোল ও ঔজ্জ্বল্যের তীব্রতা মাপতে ক্যান্ডেলা। এই সব মাপের রক্ষক হল সেভরেসের বিআইপিএম। ১৭৮৫ সালে ১৭টি রাষ্ট্র মিলে এই সংস্থা তৈরি করেছিল। এগুলোর মধ্যে একমাত্র কিলোগ্রামকেই এখনও পদার্থের চেহারায় প্রকাশ করা হয়। ইতিমধ্যে বাকি সবগুলিকেই পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত করা হয়েছে। যেমন মিটারকে এখন বোঝানো হয় সেকেন্ডে আলোর গতির ভগ্নাংশ দিয়ে। বাকি ছিল কিলোগ্রাম। এবার বদলাবে সেটাও। সেই হিসেবে ধরলে শতাব্দী প্রাচীন পরিমাপের ইউনিটের শেষতম সদস্য কিলোগ্রাম এবার নতুন চেহারা পাবে। শেষ হবে পরিমাপের শতাব্দীব্যাপী ইতিহাসের একটি পর্ব।
আমেরিকানরা ওজন করেন আউন্স ও পাউন্ডে। কিন্তু সেদেশের মূল ওজন কিলোই।  আমেরিকাও তাই কিলো কান্ট্রি। আমেরিকা কিলো পেয়েছে ১৮৮৯ সালে। মার্কিন মুলুকে এক কিলো মানে ২.২ পাউন্ড। জাপান কিলো পেয়েছে ১৮৯৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫৮ সালে, চীন পেয়েছে ১৯৮৩ সালে। জানা যাচ্ছে, কিলোর ভর এবার প্রকাশ করা হবে বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের একটি ধ্রুবক অনুযায়ী, যা আসলে পদার্থবিদ্যার এক বিখ্যাত সমীকরণ। বিষয়টা জটিল। সাধারণের বোধগম্যের বাইরে। কম্পিউটার, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প, ওষুধ নির্মাণ শিল্প, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ চলবে নতুন চেহারার কিলোয়। তবে চিন্তা নেই আমজনতার। সাত সকালে মাছের বাজারে গিয়ে ওজনে মাছ কম দেওয়া হচ্ছে কিনা, সে সন্দেহ ভঞ্জন করতে পাল্লা–বাটখারার চাপান–উতোর চালিয়ে যেতেই হবে।‌‌‌

 

 

কিলোগ্রামের বাটখারার ‘দাদু’ গ্র্যান্ড কে।

জনপ্রিয়

Back To Top