আজকালের প্রতিবেদন: গোটা দেশের বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এখন কলকাতার নিউ টাউন। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার যেন একটি বিজ্ঞান–‌গ্রাম। আর শুধু এখানেই নয়, গ্রামের পরিধি ছড়িয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বা বোস ইনস্টিটিউটেও। পঞ্চম ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০১৯–‌কে ঘিরে। দেশ–‌বিদেশের বিজ্ঞানীরাই নন, যোগ দিয়েছেন গবেষক, পড়ুয়ারাও। উৎসব চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, বিজ্ঞানচর্চা কমিয়েছে অন্ধ বিশ্বাস।
কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞানের হাত ধরতে চাইছেন, তখন তঁারই দলের কেউ কেউ প্রচার করছেন নানা অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য। কোনও নেতা বলছেন গোমূত্রে ক্যান্সার সারে, আবার কেউ বলছেন গরুর দুধে পাওয়া যায় মূল্যবান সোনা! যা অবাক করেছে দেশের এই বিজ্ঞানচর্চায় যোগ–‌দিতে–‌আসা বিজ্ঞানীদের। তঁাদের মতে, এই ধরনের মন্তব্যে ধীর হয়ে পড়ে বিজ্ঞানের চাকা। পিছিয়ে যায় মানব সভ্যতার অগ্রগতি। 
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নভেম্বরেই জন্মেছিলেন দেশের দুই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী সিভি রামন ও জগদীশচন্দ্র বসু। ফলে এই উৎসবের আয়োজনের এটাই সেরা সময়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, উৎসবে যোগ দিয়েছেন পঁাচ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী। গোটা দেশ থেকে এসেছেন তিন হাজারের কাছাকাছি পড়ুয়া। ৩০০ জন এসেছেন উত্তর–পূর্ব ভারত থেকে।
কেরলের পড়ুয়া অ্যান্টনি সাগ্রহে জানতে চাইছেন বাংলার পড়ুয়া শ্যামলের কাছে, ধানের উৎপাদন বাড়াতে এবং কীটনাশক প্রয়োগ কমাতে কী কী ব্যবস্থা এই রাজ্যে নেওয়া হচ্ছে। ছোট ছোট তঁাবুতে চর্চা হচ্ছে বিজ্ঞানের। উৎসবের কিছুটা তাল কাটে যখন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝপথে দু’‌মিনিটের জন্য যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি এদিন কিছুটা অব্যবস্থাও লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ডা.‌ হর্ষ বর্ধন প্রমুখ। ছিলেন আফগানিস্তান, ভুটান ও মায়ানমারের কয়েকজন মন্ত্রী।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top