আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নেপচুনের পরের অঞ্চলের গ্রহাণু এবং মহাজাগতিক বস্তুগুলি সৌরমণ্ডলে পরিচিত ট্রান্স নেপচুনিয়ান অবজেক্টস বা টিএনওএস নামে। এর মধ্যে আছে প্লুটো–শ্যারন এবং এরিস–ডাইনোমিয়া সিস্টেম, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এই বস্তুগুলির ভর অনেকটা আমাদের চাঁদের মতো। এগুলির মাটির নিচে রয়েছে তরল জলের সমুদ্র। এধরনের সমুদ্রের দেখা মেলে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইওরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোতে, শনির উপগ্রহ এনসিলেডাসে এবং নেপচুনের উপগ্রহ ট্রাইটনে। আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, গ্রহাণুগুলির জন্মের পর তেজস্ক্রিয় উপাদান ঠাণ্ডা হয়ে মাটির নিচের সমুদ্র জমে গিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় তাঁরা মনে করছেন, সৌরমণ্ডল তৈরির পর নিজেদের কক্ষপথে স্থির হওয়ার আগে সব গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুই নিজেদের মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কি করেছে জায়গা পাওয়ার জন্য। এর মধ্যে টিএনওএস–এর সদস্যরা সব থেকে বেশি ধাক্কাধাক্কি করে কিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিছু তাদের অভিভাবক বস্তুর কক্ষপথেই নিজের জায়গা করে নিয়েছে, যেমন প্লুটোকে ঘিরে ঘুরছে শ্যারন বা এরিসকে ঘিরে ঘুরছে ডাইনোমিয়া। ওই বস্তুগুলির মাধ্যাকর্ষণের ফলে তাদের উপগ্রহরা আরও কুঁকড়ে গিয়ে প্রচণ্ড পরিমাণে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সেই উত্তাপেই গ্রহাণুর গর্ভস্থ জলের সমুদ্র তরলই থাকছে। নাসার অধ্যাপক ওয়েড হেনিং–এর মতে জোয়ার ভাটার টানেই আজও প্লুটো এবং এরিসে গর্ভস্থ জলীয় সমুদ্রের অস্তিত্ব আছে।    ‌‌

প্লুটো এবং শ্যারন। 

জনপ্রিয়

Back To Top