আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিগ ব্যাং থিওরির ফলেই মহাশূন্য থেকে ব্রহ্মাণ্ডের জন্ম হয়েছিল। এতদিন এই যুক্তিই দিয়েছিলেন প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তিনি বলেছিলেন, মহাশূন্যে বিশাল বিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং–এর পর একটি অসীম ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছিল। বিস্ফোরণের ধাক্কায় সব মহাজাগতিক বস্তু পরস্পরের থেকে ছিটকে সরে যায়। তারপর ক্রমাগত ব্রহ্মাণ্ডে বিস্ফারিত হয়েই চলেছে এবং ওই সব মহাজাগতিক বস্তু পরস্পরের থেকে আরও দূরে চলে যাচ্ছে। তাঁর সেই যুক্তি মেনেই এতদিন ধরে যাবতীয় গবেষণা চলছিল।  কিন্তু মৃত্যুর কয়েকদিন আগে করা শেষ গবেষণায় সম্পূর্ণ নতুন বিপরীত তত্ত্ব দিয়ে গেলেন হকিং। ১৪ মার্চ মৃত্যুর মাত্র ১০ দিন আগে বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টমাস হারটগের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি ওই রিপোর্টটি হকিং জমা দেন ‘‌জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স’‌–এ।

‘‌আ স্মুদ এক্সিট ফ্রম ইটারনাল এক্সপ্লোশন’‌ শীর্ষক ওই গবেষণাপত্রের একাংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায়। সেখানে হকিং বলেছেন, অসীম বা একমাত্র নয়। একই রকম প্রচুর ব্রহ্মাণ্ড আছে এই মহাশূন্যে এবং তা স্বল্প পরিসরের মধ্যেই অবস্থিত। শেষ গবেষণাপত্রে হকিং, ব্রহ্মাণ্ড ক্রমাগত স্ফিত হতে হতে সীমাহীন হওয়ার তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে বলেছেন, আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ড সীমিত। জটিল নয় মোটেই, বরং অনেক সহজে এর রহস্য ভেদ করা সম্ভব। 
আইনস্টাইন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ১৪ বিলিয়ন বছর আগে ব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে তা খোলসা করেননি। ১৯৮০ সালে মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জেমস হার্টেলের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় হকিং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব দিয়ে বলেছিলেন কীভাবে মহাশূন্য থেকে তৈরি হয়েছিল ব্রহ্মাণ্ড।

কিন্তু পরে এব্যাপারে তাঁরা দীর্ঘ গবেষণায় বুঝতে পেরেছিলেন, বিগ ব্যাং, কখনও একটিমাত্র ব্রহ্মাণ্ড নয়, একইরকম প্রচুর ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করতে সক্ষম। মহাকাশের এই রহস্যের জট ছাড়াতে এরপরই হারটগের সঙ্গে গবেষণা শুরু করেন হকিং। হারটগ বলছেন, তাঁরা যখন সময়ের থেকে পিছিয়ে গিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের জন্মের সময় হিসাব করছিলেন, তখন বুঝতে পারেন সময় থমকে যাওয়ার তত্ত্ব অর্থহীন। হকিং–এর আগের তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাশূন্যে আগে একটি গোলকের মতো ছিল ব্রহ্মাণ্ড। তখন কোনও সীমা ছিল না। বিগ ব্যাং–এর পর তা ছিটকে যায়। হারটগ বললেন, শেষ গবেষণায় হকিং বুঝতে পেরেছিলেন, আগেও সীমানা ছিল ব্রহ্মাণ্ডের। 
হকিং–এর এই নতুন গবেষণা মহাশূন্য এবং ব্রহ্মাণ্ডের আবির্ভাব নিয়ে পড়াশোনায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন হারটগ।

তিনি এও বললেন, যদি সত্যিই ক্রমাগত স্ফিত হতে থাকত ব্রহ্মাণ্ড, তাহলে যে সব মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গের দীর্ঘ ওয়েভলেন্‌থ আছে তা লিগো ডিটেক্টরে ধরা পড়ত না। সাধারণ টেলিস্কোপের সাহায্যেও যাতে এবার ব্রহ্মাণ্ডের গূঢ় তত্ত্ব ভেদ করা যায়, হকিং–এর নতুন গবেষণার হাত ধরে সেই চেষ্টাই করছেন টমাস হারটগ।                   ‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top