আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মানুষ বোধহয় তাঁর মৃত্যুর ইতিহাসটা এবার জেনে ফেলল। আজ যখন মোট আটটি টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তাঁরা তুলে ফেলল, তখনই, সেই মুহূর্তে মরণকে নিজের মতো সংজ্ঞায়িত করে ফেলল মানুষ। এই সৌরজগতের থেকে ৬৫০০০ কোটি গুন বড় এই কৃষ্ণগহ্বর। লাভা ও ধূমায়িত গ্যাসে পূর্ণ। এই পৃথিবী তো এর কাছে পিঁপড়ে। কিম্বা হয়ত অনূজীব। 
বিজ্ঞানের ছাত্ররা এই বিষয়ে অনেক সহজে অনেক কথা বুঝিয়ে হয়ত বলতে পারবেন, কিন্তু এর বিশাল চেহারা দেখে অবাক হই। বুঝতে পারছেন?‌ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি গুন বড়, কয়েকশো লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরে, বলা চলে এটি একটি দানব। এর যে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে যে আলোকবৃত্ত দেখা যাচ্ছে বাইরে, তা নাকি গ্যাসের সমাহার, যা অবিরত ওই কৃষ্ণগহ্বরের অন্দরে প্রবেশ করে চলেছে। তেমনইটাই লিখেছে বিবিসি। আরও লিখেছে, বলছে এই কৃষ্ণগহ্বর এত উজ্জ্বল যে তার সামনে মহাবিশ্বের সমস্ত তারাকে এক জায়গায় করলেও তাকে হারানো যাবে না।

আর ওই মিশকালো বিন্দু, যা আসলে কৃষ্ণগহ্বর, তার এতটাই আকর্ষণ ক্ষমতা যে আলোও সেই বলকে অতিক্রম করতে পারে না। 
আজ ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের ‘‌দূর’‌ দৃষ্টি যে সত্য উদঘাটনের পথে এর এক ধাপ আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেল, তা কিছুটা ওই ‘‌এআই’‌ এর মতো সভ্যতার অস্তিত্ব সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে। আসলে এসবই হয়ত শেষের শুরু, বা হয়ত নতুন করে শুরুর শুরু। কী আছে এই মহাবিশ্বের শেষে? যদি একটি কৃষ্ণগহ্বরে বিশ্বের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে অন্য একটি কৃষ্ণগহ্বরও তো থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর নাগাল পাওয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্ভবত অসম্ভব। কারণ, কৃষ্ণগহ্বর ভেদি আলো এই মহাবিশ্বে নেই, তাই আমাদের দৃষ্টি সেখানে অন্ধ। 
মনে মনে ভাবতে তাই অবাক লাগে, একেবারে শেষ প্রান্তে হয়ত ঘুমন্ত এই বিশাল দানবের অস্তিত্ব যতদিন মানুষ জানতে পারেনি, ততদিন তাঁর মধ্যে অন্তিম পরিণতি নিয়ে একটা সংশয় ছিল। কিন্তু ইভেন্ট হরাইজন সেই সংশয় শেষ করে দিয়ে এটা কী প্রমাণ করে দিল না, যে হ্যাঁ, মৃত্যুতেই জীবনের পরিসমাপ্তি।

জনপ্রিয়

Back To Top