আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাতের আকাশে আতসবাজির খেলা পৃথিবীতে খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু তা যদি হয়ে থাকে কোনও ছায়াপথের দ্বারা। নাসার নিউস্টার স্পেস অবজার্ভেটরি বা নিউস্টার মহাকাশ মানমন্দির এনজিসি ৬৯৪৬ নামে ওই ছায়াপথের ছবি তুলেছে। পৃথিবী থেকে ২২.‌৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ‌অবস্থিত ছায়াপথ থেকে আসা আতসবাজির মতো ওই আলোর ঝলকানি আসলে এক্স–রে। মহাশূন্য থেকে আসা অন্যান্য আলোর রেখার থেকে পৃথক ওই এক্স–রে হঠাৎ উদয় হচ্ছে আর হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। নাসা বলেছে আলোর খেলার মধ্যে যে উজ্জ্বল সবুজ এবং নীল বিন্দুগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি মহাজাগতিক বস্তু থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে। এগুলিকে বলা হয় আল্ট্রালুমিনাস এক্স–রে বা ইউএলএক্স। সাধারণত সুপারনোভার নীল–সবুজ আলোর রেখা দেখতে অভ্যস্ত নিউস্টার মানমন্দিরের কাছে এই সবুজ ইউএলএক্স অন্য রকমের। কারণ এগুলি দেখা গিয়েছিল হঠাৎ ছায়াপথের একদম নিচে এবং তারপর হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। ১০ দিন পর আবার চনদ্র এক্স–রে মানমন্দির ওই সবুজ ইউএলএক্স চিহ্নিত করে। এই গবেষক দলের অন্যতম সদস্য হানা আর্নশ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‌এধরনের উজ্জ্বল আলোর এভাবে ১০ দিনের মধ্যে উধাও হয়ে যাওয়া সত্যিই অস্বাভাবিক।’‌ সবুজ আলোর রেখার নাম নাসা দিয়েছে ইউএলএক্স–৪ কারণ এটাওই ছায়াপথে আবিষ্কৃত চতুর্থ বস্তু। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণ গহ্বর কোনও নক্ষত্রকে গ্রাস করার ফলেই ওই সবুজ ইউএলএক্স–৪ দেখা যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, কোনও মহাজাগতিক বস্তু যখন কৃষ্ণ গহ্বরের কাছে চলে যায় সেটা এতো দ্রুত ঘুরতে থাকে যে সেটা গরম হয়ে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি এক্স–রে নির্গত করে। কৃষ্ণ গহ্বরের জন্য যে ইউএলএক্স দেখা যায় সেটা ইউএলএক্স–৪–এর থেকে অনেক বেশি সময় ধরে দেখা যায়। তাই গবেষকদের অনুমান, ওটা নিউরন নক্ষত্রও হতে পারে। নিউরন নক্ষত্রও খুব দ্রুত কোনও বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে যার ফলে প্রচুর এক্স–রে নির্গত হয়। আর্নশ বলছেন, এই নতুন আবিষ্কার ব্রহ্মাণ্ডের অনেক রহস্যের সামান্য কিছু বুঝতে পৃথিবীর মানুষকে সাহায্য করবে। 
ছবি:‌ নাসা     ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top