আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যন্ত্র মানুষের মতো কাজ করলে মানুষ কী করবে?‌ এই প্রশ্ন চিন্তা বাড়িয়েছে গোটা বিশ্বের। অফিসে যাঁরা হিসেব–রক্ষকের কাজ করেন, তাঁদের কাজে ভুল হলেও কম্পিউটার ওই হিসেবে কোনওদিন ভুল করবে না। তাহলে কেন খামোখা বেতন দিয়ে একজন কর্মীকে পুষে রাখবে কোম্পানি?‌ একটি কম্পিউটারের মস্তিস্কে মানুষের সমান বুদ্ধি ভরে দিলে কোটি কোটি মানুষ কাজ হারাবেন। যার পরিণাম ভয়ঙ্কর। তাহলে কী করা যায়?‌ মানুষের মগজাস্ত্র ‌নাকি কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স!‌ কোনটাকে বেছে নেওয়া হবে আগামীদিনে?‌ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মানুষ ও রোবট– পাশাপাশি কাজ করলে কাজের ধরন–চেহারায় বদল ঘটবে। গতি বাড়বে। কাজ, কাজের জায়গা এবং মানুষ– একটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি স্তম্ভই ভেঙেচুরে নতুন করে গড়ে উঠবে, বলছেন ডেলয়েট ইন্ডিয়া কোম্পানির তিন বিশেষজ্ঞ রবি মেহতা, কুমারস্বামী, সুধী এইচ, প্রশান্ত কুমার। তাঁদের বক্তব্য, অতিসক্রিয় কম্পিউটার বাজারে চলে আসা সত্ত্বেও এমন বহু কাজ আছে, যেগুলির পেছনে মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করে। মানুষের মগজকে এমন কিছু কাজে লাগানো যেতে পারে যা কিনা ওই যন্ত্রের পক্ষে সম্ভব নয়। হিসেবের কাজ বা তথ্য সংগ্রহের কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া হোক। তাঁরা বলছেন, যন্ত্রের প্রয়োগ বাড়লে পৃথিবীজুড়ে আরও নতুন নতুন কাজ তৈরি হবে, যেগুলির আজ অস্তিত্বই নেই, কিংবা বর্তমানে এমন বহু কাজ আছে যা আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে করি না, সেই কাজও ভবিষ্যতে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। কাজের ধরন এবং মানুষের ভূমিকায় বদল এলে কাজের জায়গাতেও বদল আসা স্বাভাবিক। করোনাসঙ্কটেই মানুষ অদ্ভূতভাবে নিজেকে দ্রুত পরিবর্তন করেছে। অফিস ভুলে ‘‌বাড়ি থেকে কাজ’‌ এখন  নিউ নর্মাল। কাজেই যন্ত্রের হাতে মানুষের কাজ চলে গেলে অফিস–কাছারির চেহারাও হয়ত বদলে যাবে। অর্থাৎ মানুষের জমি যন্ত্রমানব দখল নেবে কিনা, এই বিতর্কে না গিয়ে কীভাবে এই দু’‌টি অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনক্ষমতা ও সক্রিয়তা বাড়ানো যায়, সেটা ভাবা যেতে পারে, বলছেন ডেলয়েট ইন্ডিয়া–র তিন বিশেষজ্ঞ।

জনপ্রিয়

Back To Top