আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৯ সালের মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। ২০২০-র মে মাসে পুরোপুরি নেভে সেই ভয়াবহ আগুন। এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া জমা হয় বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে। গবেষকরা বলছেন, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জমা এই পরিমাণ ধোঁয়া বিশাল কোনও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়ার সমান।
ভূপৃষ্ঠকে জড়িয়ে যে বায়ুমণ্ডল রয়েছে, যার মধ্যে আমরা বাস করি, তাকে বলা হয় ট্রোপোস্ফিয়ার। তার ঠিক ওপরের স্তর হল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনি রশ্মি, গামা রশ্মি থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে। সাধারণ কোনও অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া ওই স্তরে পৌঁছতেই পারে না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ওই ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া শুধু পৌঁছয়ইনি, অনেকদিন ধরে পাক খেয়েছিল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ছ’ মাস ধরে ওই ধোঁয়া দেখতে পেয়েছিলেন তাঁরা।
বিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় সবথেকে বড় আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯১ সালে। ফিলিপিন্সের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ে। সেই ঘটনার সমান ধোঁয়া নির্গত হয় অস্ট্রেলিয়ার দাবানলেও। ইজরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সেস-এর গবেষকরা এই তথ্য দিচ্ছেন। 
কিন্তু স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে কীভাবে পৌঁছল ধোঁয়া? 
বিজ্ঞানীরা তিনটে কারণ তুলে ধরেছেন। এক, দাবানলের আকার ছিল প্রকাণ্ড। দুই, এই ঘটনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার একেবারে দক্ষিণ দিকে, যেখানে ট্রোপোস্ফিয়ার এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যেকার ব্যবধান সবথেকে কম। তিন, দাবানলের কাছাকাছিই ছিল শক্তিশালী ঝড়, যা ধোঁয়াকে ওপরের দিকে ঠেলে তুলে দেয়।     
  
 

জনপ্রিয়

Back To Top