আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহাপ্লাবনের সময় প্রাণিকুলকে বাঁচাতে সমস্ত প্রাণীদের একটা করে পুরুষ এবং স্ত্রী নৌকোয় তুলেছিলেন নোয়া। ভারতীয় পুরাণে একইরকম কাজ করেছিলেন মনু। তেমনই কিছু একটা হতে চলেছে, তবে এবার প্রাণী নয়, প্রাণীদের শুক্রাণু অথবা ডিম সংরক্ষণ করা হবে, তাও পৃথিবীতে নয়, চাঁদে। সবমিলিয়ে ৬৭ লক্ষ প্রজাতির প্রাণীর শুক্রাণু বা ডিম চন্দ্রপৃষ্ঠের গভীরে সযত্নে রেখে দিতে চান বিজ্ঞানীরা। থাকবে উদ্ভিদের বীজ, এককোষী জীবের ভ্রূণও। 
‘শেষের সেদিন’ যে কোনও দিনই আসতে পারে। উল্কার আঘাত, জলবায়ুর পরিবর্তন কিংবা সুপার ভলক্যানোর (আগ্নেয়গিরি) অগ্নুৎপাত, কারণ হতে পারে যে কোনও কিছুই। আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার জেকান থাঙ্গা বলছেন, ৭৫,০০০ বছর আগে টোবা সুপার ভলক্যানোর অগ্নুৎপাতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে বসেছিল জীবকুল। পৃথিবী ঠান্ডা হতে লেগে যায় ১০০০ বছর। এর ফলে কমে গেছিল মানুষের প্রজাতির বিভিন্নতাও। 
মানুষ সহ গোটা জীবজগতকে সংরক্ষণ করতে ‘জিন ব্যাঙ্ক’ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাজটা কঠিন এবং ব্যয়সাপেক্ষ কিন্তু অসম্ভব নয়। হিসেব করে দেখা গেছে, ৬৭ লক্ষ প্রজাতির প্রতিটির ৫০টি করে নমুনা চাঁদে নিয়ে যেতে ২৫০ বার রকেট ছাড়তে হবে। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক স্পেস-স্টেশন গড়তে ৪০ বার রকেট লঞ্চ করতে হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা, চাঁদের মাটির নীচে বায়ুশূন্য ঠান্ডা লাভা টিউবে রাখা হবে শুক্রাণু, ডিম, ভ্রূণ ইত্যাদি। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য চাই বিদ্যুৎশক্তি। চাঁদের মাটিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে তা থেকেই কাজ চালানো যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, পৃথিবী বাসযোগ্য না থাকলেও জীবকুল শেষ হয়ে যাবে না, আশা বিজ্ঞানীদের।    
      
 

জনপ্রিয়

Back To Top