আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গল সত্যিই আর বেশি দূরে নেয়। আর কয়েক বছরের অপেক্ষা। তার পর তারও হাল হকিকৎ ঘরে বসেই পাবে পৃথিবীবাসী। সত্যিই সেখানে প্রাণ ছিল কখনও?‌ ভবিষ্যতে মহাকাশচারীরা কি সেখানে গিয়ে থাকতে পারবেন?‌ এসব খোঁজ নিতে এ মাসেই মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাচ্ছে আমেরিকা, চীন আর আরব আমীরশাহী।
আমেরিকার মহাকাশযানটির নাম পারসেভারেন্স। ছ’‌চাকা বিশিষ্ট এই যান একটা গাড়ির মতোই আয়তন। কয়েক বছরের মধ্যে সে মঙ্গলের পাথর নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। সেই পাথর নিয়ে চলবে গবেষণা। জানবে, কোটি কোটি বছর আগে কেমন ছিল মঙ্গল?‌ যখন সেখানে হ্রদ, নদী ছিল?‌ তখন আদৌ কি প্রাণ ছিল এই লাল গ্রহে?‌ এসবেরই উত্তর খোঁজা হবে, জানালেন প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে। ৩০ জুলাই রওনা হবে যানটি। করোনা সংক্রমণের কারণে উৎক্ষেপণের দিন খুব বেশি অতিথিকে ডাকছে না মার্কিন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসা।
তিন দেশই মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠানোর জন্য এই মাসটাকেই বেছেছে। এর পিছনে কোনও সমাপতন নেই। বরং ভেবেচিন্তেই করা হয়েছে। কারণ এই মাসেই মঙ্গল আর পৃথিবী সূর্যের একই পৃষ্ঠে ‌থাকবে। দুই গ্রহের মধ্যে দূরত্বও থাকবে সর্বনিম্ন। এর ফলে জ্বালানি, সময় দুইই বাঁচবে। ২৬ মাস অন্তর এই অবস্থানে আসে পৃথিবী এবং মঙ্গল।
এর আগে এই লাল গ্রহের বুকে ঝাঁপাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে, পুড়ে ছাই হয়েছে বেশ কয়েকটি মহাকাশযান। ২০১১ সালে রাশিয়ার হাত ধরে চীনও পাঠিয়েছিল যান। সেটিও মুখ থুবড়ে পড়ে। তার পর আবার এ মাসে সেই চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। তবে আমেরিকা আট বার সফলভাবে মহাকাশযান পাঠিয়েছে সেখানে। এখনও মঙ্গলের মাটিতে বসে কাজ করছে নাসার দু’‌টি মহাকাশযান— কিউরিওসিটি আর ইনসাইট। অক্ষরেখা থেকে মঙ্গলের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে ভারতের একটি, আমেরিকার তিনটি, ইউরোপের দু’‌টি মহাকাশযান। এবার সেই ক্লাবের সদস্য হতে চলেছে আরব আমীরশাহী এবং চীন।
আরব আমীরশাহীর মহাকাশযানের নাম ‘‌আমাল’‌। আরবি ভাষায় এর অর্থ আশা। বুধবার জাপান থেকে উড়বে আমাল। তবে বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন দুবাইয়ে বসে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই যান তৈরি করা হয়েছে। আরব আমীরশাহী প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তির দিন মঙ্গলে পৌঁছবে যানটি। প্রকল্পের ম্যানেজার ওমরান শরাফ জানালেন, ‘‌এই মঙ্গলযানের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আরব আমীরশাহী যদি ৫০ বছরের কম সময়ে মঙ্গলে পৌঁছতে পারে, তাহলে তোমরা আরও অনেক কিছু পারবে।’‌
চীনের যানটির নাম টিয়ানওয়েন। মানে আকাশের জন্য প্রশ্ন। ২৩ জুলাই রওনা দেবে যানটি। এর থেকে বেশি কিছু জানা যায়নি। নাসার পারসেভেরান্স মঙ্গলের অতি প্রাচীন নদী ডেল্টা এবং জেজেরো ক্রেটার হ্রদে অবতরণ করবে। কোটি কোটি বছর আগে এগুলোতে জল ছিল। অবতরণের আগে গ্রহের লাল আকাশ ভেদ করে ছুটতে হবে, যা সবথেকে বিপজ্জনক। একে বলা হয় ‘‌সাত মিনিটের ত্রাস’‌। তার পর মাটি খুঁড়ে পাথর নিয়ে আসবে। সেখানে রেখে আসবে মহাকাশচারীর পোশাক। বিজ্ঞানীরা দেখতে চান, মঙ্গলের আবহাওয়া, পরিবেশের সঙ্গে ওই পোশাকের উপাদান আদৌ মানিয়ে নিতে পারছে কিনা। ২০২৪ সালে চাঁদের মহাকাশচারী পাঠাবে নাসা। সেখান থেকে ২০৩০ সালে মঙ্গলে পাড়ি দেবে মহাকাশচারীরা। তার আগে মঙ্গলের পরিবেশ, আবহাওয়া, জমি মেপে রাখছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top