সিলভিয়া প্লাথ
মার্কিন কবি। মাত্র এগারো বছর বয়স থেকে শব্দ–‌সম্বল জীবন তাঁর। বাবার মৃত্যু জীবনে লেপে দেয় মরণেচ্ছার পলেস্তারা। বাপসোহাগী মেয়ের কলম থেকে ঝর্নার মতো নেমে আসে মৃত্যু–বাসনা, ‘‌‌ইট ওয়াজ মাই লাভ দ্যাট ডিড আস বোথ টু ডেড’‌ (‌ইলেক্ট্রা অন আজলিয়া পাথ)‌। এক সান্ধ্য পার্টিতে প্রেমে পড়লেন কবি টেড হিউসের। বিয়ে। সন্তান। প্রথম কাব্য সঙ্কলন প্রকাশিত। শেষ হয়েছে আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘‌দ্য বেল জার’‌ লেখার কাজ। এরই মধ্যে সংসারে তুমুল অশান্তি। হিউস প্রেমে পড়েছেন আর এক মহিলার, নাম আসিয়া উইভিল। তীব্র জোরে গাড়ি চালিয়ে গাড়িসুদ্ধ নদীতে ঝাঁপ দিলেন সিলভিয়া। আত্মহত্যার চেষ্টা। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হল। এর পরের জীবন হতাশাজর্জর।
১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩। উত্তর লন্ডনের প্রিসরোজ হিলের বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হল সিলভিয়া প্লাথের লাশ। গ্যাসের ওভেনে হেলানো ছিল তাঁর মাথা। বিষাক্ত গ্যাসে ভর্তি রান্নাঘর। কার্বন মনোক্সাইডের প্রকোপেই তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যু।
ভার্জিনিয়া উলফ
বিশ শতকের নারীবাদী আন্দোলনের অগ্রনায়িকা। কথাসাহিত্যে চেতনা স্রোতের প্রবাহ এসেছে তাঁরই সৌজন্যে। অথচ একটা ভয়, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাড়া করত তাঁকে। তেরো বছর বয়সে হারিয়েছিলেন মাকে। পনেরো বছর বয়সে বোনকে। বাইশ বছর বয়সে বাবাকেও। ২৮ মার্চ, ১৯৪১। বাড়ির কাছেই উজ নদী। ওভারকোটের পকেটে পাথর ভর্তি করে সে নদীতে নেমে গেলেন ভার্জিনিয়া। বয়স তখন মাত্র ৫৯। পাছে আত্মহত্যার পথ থেকে সরে আসেন, চেষ্টা করেন ভেসে ওঠার, সাঁতার কাটার, বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে চিৎকার করেন, তাই–‌ই পকেটে পাথর ঠেসে ভরিয়েছিলেন। সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন স্বামী লিওনার্দের উদ্দেশে। 
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন সাহিত্যিক। পার্টিজান সাংবাদিক হয়ে অংশ নিয়েছেন স্পেনের গৃহযুদ্ধে। ভালবেসেছেন বক্সিং, ষাঁড়ের লড়াই, শিকার, নৌকোয় জলবিহার।‌
প্রেমে পড়েছেন বারবার। প্রথমে অ্যাগনেস কুরোয়াস্কির অ্যাগনেস ছিলেন রেডক্রসের নার্স। আর্নেস্টের চেয়ে সাত বছরের বড়। বিয়ের সব ঠিকঠাক। এমন সময় আর্নেস্ট পেলেন তাঁর বাগদত্তার চিঠি। এক ইতালীয় অফিসারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে সে। ফলে আর্নেস্টকে বিয়েটা করা সম্ভব হচ্ছে না। এর পর জীবনে এসেছে একাধিক নারী। পরিণয়বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এলিজাবেথ হ্যাডলি রিচার্ডসন, পালিন ফেইফার, মার্থা গেলহর্ন। কেউ তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনিই ছেড়ে গিয়েছেন সঙ্গিনীকে। সচেতনভাবে এদের কাউকে অ্যাগনেস হতে দেননি আর্নেস্ট। শেষ জীবনসঙ্গিনী মেরি ওয়েলশ। এর আগে দুবার বিবাহবিচ্ছিন্না, ১৯৪৬–‌এ তিনি এলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জীবনে। বিবাহিত স্ত্রীরূপে।
১৯৫২–‌তে প্রকাশিত হল বিখ্যাত উপন্যাস ‘‌দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’‌। ১৯৫৯–‌এ বাড়ি কিনলেন ইডাহোর কেটচাম–‌এ। সেখানেই ২ জুলাই, ১৯৬১–‌র ভোরে নিজের মুখের মধ্যে শটগানের নলটা ঢুকিয়ে ট্রিগার টিপে দিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।
এবারও সঙ্গিনী তাঁকে ত্যাগ করার আগে সঙ্গিনীকে চিরদিনের জন্য ত্যাগ করলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।
মেরি ওয়েলশ বেঁচে ছিলেন ১৯৮৬–‌র নভেম্বর অবধি। আর্নেস্টের সঙ্গে জীবনে জড়াবার আগে দু–‌দুবার বিবাহবিচ্ছেদের পথে হেঁটেছিলেন। কিন্তু আর্নেস্ট চলে যাওয়ার পর বৈধব্যকেই আঁকড়ে ছিলেন আমরণ। আর বিয়ে করেননি মেরি।‌‌‌‌
রোহিত ভেমুলা
হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি–‌র ছাত্র। জন্ম ১৯৮৯–‌তে। জন্মসূত্রে দলিত। আম্বেদকর স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের সক্রিয় কর্মী। ২০১৫–‌র আগস্ট মাসে ছাত্র সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। ইস্যু দুটো। এক, ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি। দুই, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘‌মুজফ্‌ফরনগর বাকি হ্যায়’‌ ছবির প্রদর্শনে এবিভিপি–‌র বাধাপ্রদান। এবিভিপি–‌র নেতা নন্দনম সুশীলকুমার অভিযোগ আনল, আম্বেদকর স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের ৪০ জন ছাত্র তাদের পিটিয়েছে। নিট ফল, রোহিত–সহ পাঁচজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হল। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পিএইচডি–‌র ফেলোশিপ, যার আর্থিক মূল্য মাসে ২৫ হাজার টাকা। বাবা একটি প্রাইভেট হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড। মা কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। বাড়িতে বড় বোন আর ছোট ভাই। জলপানি বন্ধ হওয়ার পর বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার করেছিল রোহিত। সেটাও শেষ।
এরই মাঝে এসে গেল ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬। আর তেরো দিন বাদে রোহিতের জন্মদিন। হস্টেল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে প্রতিবাদী আন্দোলন চালাচ্ছিল রোহিতরা। সেখান থেকে উঠে হস্টেলে সহপাঠী উন্না আন্নার ঘরে যায় রোহিত। রুম নম্বর ২০৭। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় তার প্রাণহীন শরীর। গলায় আম্বেদকর স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের একটা ব্যানার বাঁধা। সঙ্গে একটা সুইসাইড নোট। তাতে লেখা, ‘‌আমার শরীর আর আত্মার মধ্যে একটা বিরাট ফারাক তৈরি হচ্ছে। আমি ক্রমশ একটা দৈত্য হয়ে উঠছি।’‌■
 

 

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
 

জনপ্রিয়

Back To Top