স্বপ্নময় চক্রবর্তী: সবাইকে নিয়ে প্রফুল্লনগর কলোনিতে গেলেন অনঙ্গমোহন। হরেন ভৌমিককে জানাননি। যদি সোজাসুজি ব্যবস্থাটা হয়ে যায়, তবে দালালিটা বেঁচে যায়। তবে সে আশা কম। ওরা ঠিক এসে হাজির হয়ে টাকা নিয়ে যাবে। লালমোহনবাবু বললেন, আপনাকে ব্রাহ্মণের পাশেই বসাব। দেবনাথ ব্রাহ্মণ। ওর দু’‌কাঠা বেশি আছে, আর একজনের এক কাঠা বেশি। সে অবশ্য নমশূদ্র। কলোনিতে বাঁওনপাড়া, নমোপাড়া, কৈবর্তপাড়া চলে না। সবাই পাশাপাশি। এই দুজনের এক্সট্রা জমি অ্যাড কইরা একখান প্লট। এইখানে আরও একশো টাকা কম লাগবে। দ্যাবনাথ তিন, আর নিকুঞ্জ দুই। কলুনি কমিটি আঠারো‌শো। এত কমে কলকাতার কাছে কে জমি দেবে?‌
অঞ্জলিরও বেশ পছন্দই হয়েছে জমি। অঞ্জলির দেশের বাড়িটার কথা মনে পড়ছিল। ওর নিজের মা কমবয়সে মারা যায় ও মামাবাড়িতে বড় হয়েছিল। বঙ্গবালা ইস্কুলে ও অনেকটা পড়েছিল। ইংরেজি পড়তে পারে। মামারা ছয় ভাই। ছয় মামা। একবাড়িতে কত ভাইবোন।
বিলুর ভাল লাগছিল না। সব এখানে কেমন যেন। বস্তির মতোই তো। এখানে কি গৌরের ঘুগনি আছে?‌ হারুদার ফুলুরি?‌ গঙ্গার ধারটাই তো নেই। বাগবাজারের সঙ্গে দমদমের তুলনা হয় কোনও?‌ কিন্তু ইস্কুলটা কী হবে?‌ ইস্কুল অবশ্য বেশিদিন নেই। টেস্ট হয়ে গেলেই ছুটি। তারপর পরীক্ষা। পাস করলে কলেজ।
অনঙ্গমোহনের তো প্রথম দিনেই ভাল লেগেছিল। আজ আরও ভাল লাগল।
অঞ্জলির কাজের ক্ষেত্র উল্টোডাঙা অঞ্চলে। দমদম রেল স্টেশন থেকে উল্টোডাঙা একটা মাত্র স্টেশন। সবই তো ভাল। শত হলেও নিজের ঘর। বাবুইপাখি আর চড়াইপাখির কবিতাটা মনে পড়ে অঞ্জলির। চড়াই থাকে পরের বাড়িতে, বাবুই নিজের বাসায়। পাকা দলিল পাচ্ছে না। কিন্তু কেউ আবার চলে যেতে বলবে না তো?‌ অঞ্জলির সন্দেহ যায় না। জিজ্ঞাসা করে, যদি কিছুদিন পরে বলেন ছেড়ে দিতে হবে, তখন যাব কোথায়?‌
লালমোহন সাহা বললেন, আমি বলার কে?‌ আমিও তো দখলদার। বেআইনি দখলদার। এটা তো রেলের জমি। রেল এখনও এই দখল স্বীকার করে নাই। আমাদের লড়াই চলতাছে। বিলুর দিকে তাকিয়ে হাত মুঠো করে বলল, আদায় করা লাগবে। এইগুলি তোমাদের দায়িত্ব।
বেআইনি দখলদার শব্দটা একদম ভাল লাগল না বিলুর। জোর করে রেলের জমি দখল?‌ এই যে দাদু, এত বড় বড় কথা বলে, সৎ থাকার কথা বলে, নিজের আদর্শ নিয়ে অহঙ্কার করে যে জন্য যজমানি করল না, সেই দাদু দখলদার হবে, বেআইনি দখলদার?‌ আর আমরা দখলদার পরিবার.‌.‌.‌।
বিলু তো ভাগ করা দেশেই জন্মেছে। বিলুর কোনও বর্ডার পার হওয়ার স্মৃতি নেই। তবে বাড়িতে আসা আত্মীয়দের কাছ থেকে শুনেছে— আপনারা ভাগ্যবান, শিয়ালদা স্টেশনে থাকতে হয়নি আপনাদের, ক্যাম্পে থাকতে হয়নি, লাইন দিয়ে গুড়–‌চিঁড়া নিতে হয়নি। আর বলতে নেই আমাদের ঘরে অনেক মেয়েকে গুন্ডাদের কোলেও বসতে হয়েছে।
আরও সৌভাগ্যের কারণ কলের জল। বাগবাজারে শুনেছে বিলু–‌খগেন পাগলার মুখে— গঙ্গায় নায় পাপীতাপী, কুঁয়োতে নায় চোর, টালার জলে চ্যান করে সে বহু পুণ্যের জোর।
কিন্তু বাগবাজারের ওই ভাড়া করা ঘরও তো থাকছে না। ছেড়ে দিতে বলেছে। জোর করে থাকাও তো দখলদারি। বিলুর মনে হয় দখলদারিই যদি থাকব, তবে ওই বাগবাজারই ভাল।

 

কালো ট্রাঙ্কের ওপরে এককালে পদ্মফুল আঁকা ছিল। প্রস্ফুটিত পদ্ম। এখন ঝাপসা। এই বাক্সটি অনঙ্গমোহনের বিয়েতে পাওয়া। বাক্সতে একটা রুমালে বাঁধা আছে কয়েকটা রুপোর টাকা। টাকায় রানীর মুখ, রাজার মুখ। ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম জর্জ, ষষ্ঠ জর্জ। গুনলেন অনঙ্গমোহন। ছত্রিশটা। এগুলি রৌপ্যমুদ্রা। ধুতির ভিতরে বটুয়াটা বেঁধে, ঝুলিয়ে নিয়ে বর্ডার পার হয়েছিল। বটুয়ার ভিতরে শিমুলতুলা ভরা ছিল। এবং ফাঁকে ফাঁকে মুদ্রাগুলি ভরা, যেন কোনও শব্দ না হয়। এটাও ভাবা ছিল— যদি ‘‌সার্চ’‌ হয়, সেটা ধুতির ওপর দিয়েই তো হবে, যদি কিছু অনুভব করে, বলতে হবে ‘‌জলাণ্ড’‌ আছে, যার ইংরেজি নাম হাইড্রোসিল।
একটা রূপার টাকা মেঝেতে ফেলে শব্দ শুনলেন— ঠং.‌.‌.‌। পাথরে ফেলে শব্দ শুনে রৌপ্যমুদ্রার সতীত্ব পরীক্ষা হত। অশুদ্ধতা ও বিশুদ্ধতার শব্দ পৃথক। পাঁচটি রৌপ্যমুদ্রা বিবাহে প্রাপ্ত। সুরবালার মাতুল ছিলেন ধনী ব্যক্তি। বাড়িতে নিজস্ব পালকি ছিল, নৌকো তো ছিলই। বিভিন্ন সময়ে জমিদারের পারিতোষিক ছিল। তখন তো রৌপ্যমুদ্রার কোনও বিশেষ গুরুত্ব ছিল না। কাগজের নোটের প্রাধান্য তো যুদ্ধের সময়। এখন রূপার বাজারদর কত জানা নেই। এই মুদ্রাগুলি যক্ষের মতো এতদিন আগলে ছিলেন।
আবার একটা আওয়াজ করিয়ে শুনলেন— ঠং.‌.‌.‌।
আইয়েন, আইয়েন কত্তা। বইয়েন বড় আসনে। বড় আসন আপনের।
জমিদারবাড়ি। ঠং ঠং। টাকার শব্দ। পু্ণ্যাহ। ওইদিন ব্রাহ্মণসেবা। ভোজনান্তে দক্ষিণা। রৌপ্যমুদ্রা।
আরও তো ছিল। বিভিন্ন সময়ে খরচ হয়ে গেছে। দেশ থেকে পঞ্চাশেরও অধিক মুদ্রা এনেছিলেন অনঙ্গমোহন।
একটা নোটবুক বের করলেন। ১৯৫৫ সালের। প্রথম কয়েকটা পাতায় ঠিকানা। সোনাইমুড়ির অমূল্য বিদ্যাভূষণ। বিজয়গড়। তিন নম্বর। চাটখালির সুধীর ভট্টাচার্য। কুপার্স ক্যাম্প। পাঁচ নম্বর ব্লক। জিলা নদীয়া। ময়নার চরের হারাধন। ১৬ নং বেনিয়াটোলা লেন। কলিকাতা পাঁচ। মুকুন্দ মিত্রর আস্তাবল। এখানে যাতায়াত আছে এখনও। কাছেই তো, ধনী পরিবার মিত্রবাড়ির একদা নায়েব আস্তাবলটা দুইভাগ করে ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। তার এক ভাগে হারাধন সপরিবার থাকে। বাবার পিসতুতো ভাইয়ের ছেলে। এই সব ঠিকানার পর টুকটাক জরুরি তথ্য। অম্বল– অ্যাসিডে বিসম্যাগ ট্যাবলেট। হার্টের অসুবিধায় অর্জুন মাদার টিংচার। বিধান রায় রোগী দেখেন সোম ও বুধবার। সমীরণ সরকার এল এম এফ। ফোন নং বি বি ৬৩২।
চৌদ্দ বছরের পুরাতন ডায়েরি। অনঙ্গ ভাবেন কী পরিবর্তন। এখন পোস্ট অফিসে গিয়ে পয়সা দিয়ে নম্বর ঘুরিয়ে ফোন করা যায়। চোদ্দ বছর আগেও ফোন তুলে বলতে হত নম্বর। অপারেটর যুক্ত করে দিত। জগদীশের অসুখের সময় ফোন করতে হত। বি বি মানে বড়বাজার। ডি টি, কে জি এরকম বলতে হত ধর্মতলা–‌কালীঘাট ইত্যাদি বোঝাতে। গ্রীষ্ম সেফাটকে কালাজিরা পিষ্টক। ঘর্মগুটিকায় চন্দন। এসবও লেখা আছে। বিলুর বড় গরমের গোটা উঠত। বৌমারও।
থাক। ডায়েরির পাতা উল্টিয়ে লাভ কী?‌ অনঙ্গমোহন খুঁজছে জব্বার আলির সেই চিঠিগুলি। যা নিয়ে পুনরায় চেষ্টা করলে কিছু টাকাপয়সা পাওয়া যেতে পারে।
একটা খাকি রঙের খাম পাওয়া গেল। এখানেই চিঠিগুলি আছে।
চিঠিগুলি বের করেন অনঙ্গমোহন।
খাকি রঙের বড় খামের ভিতরে পোস্টকার্ডের গোছা। ঠিকানা লেখার লাইনের ওপরে সবুজ রঙের চৌকো খোপে চাঁদতাঁরা, ভিতরে উর্দুভাষায় কিছু কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং। কিছুদিন চিঠি চালাচালি হয়েছিল। চোখে গোল চশমাটা লাগিয়ে চিঠিগুলি পড়তে থাকেন অনঙ্গমোহন।
সম্বোধনেই কাটাকুটি। প্রথম চিঠিটি জব্বার আলির। শ্রীচরণকমলেষু কেটে পাকজনাবেষু। শ্রীচরণকমলেষু লিখিয়ে হয়তো জব্বারের মনে হয়েছিল এই দেশ এখন আমাদের। এখন আমাদের নিয়ম।
চিঠির ওপরে লেখা এলাহি ভরসা।
তাং শ্রাবণের ৭। ১৩৫৮।
বাংলা সনটা খ্রিস্টাব্দে ১৯৫২ দাঁড়াবে। সবুজ চৌকোয় চাঁদ‌–তারার ওপর পোস্ট অফিসের ছাপটা আর পড়া যায় না।
পাকজনাবেষু ঠাকুরদাদা, প্রথমে আমনে আমার সাত কুটি আদাব মানিবেন। আমার পূর্ব পত্রের জবাব না পাইয়া চিন্তাযুক্ত আছি। এই পত্রপাট আপুনিদিগের কোশলসংবাদ জানাইয়া সুকি করিবেন। গত চারদিন যাবৎ ঘোর বর্ষা হইতেছে। আপুনার উঠানে পানি জমিয়া গিয়াছে। (‌পানি কেটে জল লেখা হয়েছিল। তারপর জলের উপর পানি)‌ আমনের ঘর হেলিয়া পরিয়াছে খুঁটির গোড়ায় মাটি দিয়া দিছি। আমনে বলিয়াছিলেন এই ঘর রক্ষা করিতে। আমি যথাসাধ্য করিতেছি। আমনের গাছের সুপারি পাকিয়াছিল। বিক্রয় করিয়া ৩৫ টাকা মসজিদে দিয়ছি, বাকি টাকা দিয়া ঘর সারাই করিয়াছি। গাছের আম পোলাপানে খাইয়া ফেলিয়াছে। আমি বাধা দিমু কি করিয়া?‌ আপুনার পুকুরে জাল ফেলিয়া সমস্ত মাছ কাদের মিঞা লৈয়া গেছে গৈ।
এইটুকুর পর পোস্টকার্ডে আর জায়গা নেই। চাঁদতারা বসানো সবুজের ওপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখা— এই জমি জান দিয়া রক্ষা করিতেছি জানিবেন। আমাকেই দলিল করিয়া দিবেন বলিলাম। ইমান রাখিবেন। সেবক জব্বার আলী।
ভাদ্র মাসে লেখা আর একটি পোস্টকার্ড।
এবারের সম্বোধন— মান্যবর।
মান্যবর ঠাকুরদাদা।
আমনের পত্র পাইয়া সুকী হইলাম। আমনের আটচালা ঘরের পালার গোড়ায় মাটি দিয়ছি।  ছুড হিস্যার ঘরেও মেরামতি করিতে হইবে। খুঁটিতে আলকেত্রা দিয়াছি। এইসব করি বলিয়া অনেকে বলে তোর কী সাথ্য?‌ ক্যান করস?‌ কিন্তু চোখ্যের সামনে উলিপোকা ঘর নষ্ট করিবে কি রূপে দেখিব?‌ আমনের কৃষি জমিতে সুকুর আলি চাষ করিতেছে। আমি আমনের ভিটার তিন কানি জমি ঘরসহ ক্রয় করিব। ইচ্ছা কইল্যে আমি এতদিনে দখল করিয়া লইতে পারিতাম। কিন্তু পাকিস্তান হইয়াছে বৈলা প্রতিবেসির সম্পত্তি লুট করা ইমানদারি কাজ নহে, হোক সে হিন্দু। খোদার ফজলে আমি টাকা দিয়াই নিব। ছুড ঠাকুরদাদার ভাগের ভিটাও কিনিব। তাহার সহিত আমার কথা চলিতেছে। আমনেরা দুই ভাই একত্র হইয়া আমাকে দস্তখত করিয়া দিবেন এই আশায় আছি। আমনের উপর আমার দাবী আছে। আমনের পরিবারকে রক্ষা করিয়াছিলাম তাহা আশা করি মিত্যু পইয্যন্ত ভুলিবেন না। আর বিশেষ কী। খোদায় জ্যান আপুনিদিগকে ভাল রাখেন সেই দোয়া সব্বদা করি। ইতি সেবক জব্বার।
বড় খাম থেকে বের হওয়া একটা ছোট খাম। খামের ওপর একটা পোকা। ফুঁ দিয়ে তাড়ালেন। নগেন শীল লিখছে। ওপরে শ্রীশ্রীকালীমাতা সহায়:‌
পরম পূজনীয় ঠাকুর ভাই, আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় কোশলে আছেন। আমনেরা বেবাকে চৈলা গেলেন পরে আমরা বড় কষ্টে আছি। আমাগোর কেহ নাই। এবার বলি জব্বার মিঞা আমনের ঘরবাড়ি দখল করার চেষ্টা করিতেছে। সে বলে আমনে তারে পারমিছন দিয়া গেছেন যেন সে ঘরে থাকে। সে কয় সে জোর দখল করিবে না, টাকা দিয়া কিনিবে। আমিও তো টাকা দিতে চাই। আমার পিতা আমনেদের বাড়ির ঘেরি করিতেন কেশ কাটিতেন। আমনেদের ঘরের অন্দরে আমার মা যাইতেন। আলতা পরাইতেন। জব্বারের চেয়ে আমি নিকটজন। আমি এখন আমনেদিগের আশীব্বাদে টাকা দিয়া কিনিবার সামর্থ করিয়াছি বলিয়াই লিখিতেছি যে আমনের ভিটা বাবদ দেড় হাজার টাকা হুন্ডি করিয়া পাঠাইয়া দিব। আপনি কাগজে রেভিনিউ স্ট্যাম্প দিয়া আমাকে লিখিয়া ডাকযোগে পাঠাইয়া দিবেন। আমি জব্বারকে এই পত্র দেখাইব। পরে রেজিস্টারি হইবে। শতকুটি প্রণাম।
আগরতলা হইতে আমনের ছোট ভাই গত মাসে আসিয়া জব্বারের সহিত কথা কহিয়া গিয়াছে। ছোট ভাইয়ের অংশ জব্বার কিনিবে বলিয়া সংবাদ আছে। আমনের অংশ আমাকেই দিবেন, এই মিনতি করি। ইতি সেবকাধম নগেন।
পুঃ। সঙ্গতি থাকিলে, কিম্বা কলিকাতায় আত্মীয় থাকিলে আমি ত আপনাদিগের মতই ইন্ডিয়া চলিয়া যাইতাম। কিন্তু উপায় নাই। এখন যে ঘরে থাকি জল উঠে। আমনের ভিটায় জল উঠে না বলিয়া চাহিতেছি। বাজারে একটি ছেলুন দিয়াছি। পাকিস্তান হইবার পর মিঞারা অনেকেই ছেলুনে আসিয়া কেশ কাটে, দাড়ি ছাটে। আমি আরও দুই এক শত বেশি দিতে রাজি আছি। আমাকে ছাড়া কাহাকেও দিবেন না।
অনেকদিন পর চিঠিগুলি দেখছেন অনঙ্গমোহন। প্রতিটি চিঠির মধ্যে দৃশ্যাবলি সুপ্ত থাকে। চিঠির ভাঁজ খুললেই বাক্যসহ দৃশ্যাবলি চোখের সামনে আবির্ভূত হয়। বায়োস্কোপ তো একেই বলে। অনঙ্গমোহন এখনও বায়োস্কোপ দেখেননি। ছবি বিশ্বাস, কানন দেবী, পাহাড়ি সান্যাল, উত্তমকুমার— এঁদের নাম অবগত আছেন।
ছোট ভাই ভূজঙ্গমোহন। সে ইস্কুলের এনট্রান্‌স উত্তীর্ণ। ইংরেজিজ্ঞানসম্পন্ন। জিলা বোর্ডের কার্যালয়ে চাকুরি করত। অনঙ্গমোহনের মতো সংস্কৃতসেবী নয়। দেশভাগের পর অপশন দিয়ে সে আগরতলায় চলে গেছে। সে সরকারের চাকুরি করে। ওর শ্বশুরালয় কুমিল্লা। র‌্যাডক্লিফ সাহেবের পেন্সিলের দাগ তার শ্বশুরালয়ের গ্রামের সীমানা দিয়েই প্রায়। সে ১৯৪৭ সালেই দেশ ছাড়ে। লক্ষ্মীপূজার দুইদিন পর। তৃতীয়া তিথি। পঞ্জিকায় শুভদিন দেখে দিয়েছিলেন অনঙ্গমোহন। বলেছিল জমিজমায় যা হয়, নারিকেল সুপারি যা হয়— দাদা, সবই আপনার। তবে সুযোগ হলে কুমিল্লার শ্বশুরালয়ে কিছু পাঠাইতে পারলে তো ভালই.‌.‌.‌। ভূজঙ্গর বিষয়বুদ্ধি ভালই। পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পরই সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টননামা রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছিল ভূজঙ্গ। সে তার উঠানের চারদিকে বনতুলসী বা বাসক নয়, রাংচিতার বেড়া দিয়েছিল। সরকারি ভবনে যেমন থাকে। ওর উঠানে নলকূপ বসিয়েছিল। ওর জীবনযাত্রায় অং–‌বং–‌চং ছিল না। ওরা চিনামাটির পাত্র ব্যবহার করত, এবং চাও খেত। ■

ছবি: দেবব্রত ঘোষ

 

জনপ্রিয়

Back To Top