জোড়াসাঁকোর নাট্যদলের ব্যাপারই আলাদা। একজন নাটক লিখছেন আর অন্যরা শুধু অভিনয় করছেন এমন নয়। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নাটক লিখছেন তো রবীন্দ্রনাথ নাটকে সংলাপের জায়গায় গান লিখে দিচ্ছেন। আবার কখনও, রবীন্দ্রনাথ জ্যোতিদাদার নাটকে জুড়লেন নতুন চরিত্র। লিখেছেন 
জয়ন্তী মণ্ডল
কলকাতায় তখন হুজুগ চলছে, গোপাল উড়ের যাত্রার। যাত্রার আসরে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ছেলেরাও হাজির। যাত্রা দেখে মনে তৃপ্তি নেই, যেমনটি চায়, ঠিক তেমনটি হচ্ছে না। নাটক হলে বেশ হত। ভাবলেন নিজেরাই নাটক করবেন। কিন্তু নাটকের হল দরকার। ঠিক করলেন জোড়াসাঁকোতেই একটা নাট্যশালা করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। নাট্যশালার কাজ শুরু হয়ে গেল। নাট্যশালার কথা শুনে জ্যোতিরিন্দ্রনাথদের সঙ্গে এসে যোগ দিলেন তাঁদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়রা। কৃষ্ণবিহারী সেন, অক্ষয় চৌধুরি, রবীন্দ্রনাথের বড়দিদি সৌদামিনী দেবীর স্বামী সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়রা ‘‌কমিটি অফ ফাইভ’‌ গঠন করে ‘জোড়াসাঁকো নাট্যশালা’ প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন।  
নাট্যশালা হল। নাটক দরকার। হাতের কাছেই ছিল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’, ’একেই কি বলে সভ্যতা’? দুটো নাটক নিয়েই  রিহার্সাল শুরু হল। ক’মাস ধরে চলল রিহার্সাল। তারপর অভিনয়। পরপর অনেকবার অভিনয় নাটকগুলোর। এবার নতুন নাটক চাই। এ ব্যাপারে বেশি খুঁতখুঁতে গুণেন্দ্রনাথ। যা হোক নাটক হলেই হবে না। অভিনয়ের উপযোগী বাংলা নাটক চাই। ডাক পড়ল ওরিয়েন্টাল সেমিনারির প্রধান শিক্ষক ঈশ্বর নন্দীর। তিনি নাটকের বিষয় নির্বাচন করে দেবেন।
উনিশ শতক স্ত্রী–শিক্ষা এবং স্বাধীনতার যুগ। পুরুষদের বহুবিবাহ নিয়ে সমাজ তখন উত্তাল। ঈশ্বর নন্দী ঠিক যুগোপযোগী বহুবিবাহ নিয়ে বিষয় নির্বাচন করে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে জোড়াসাঁকো নাট্যশালা ‘‌বহুবিবাহ’‌ বিষয় নিয়ে কাগজে বিজ্ঞাপন ছেপে দিল। সঙ্গে দু’শো পুরস্কার। সেকালের বড় পণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন লিখে দিলেন বহুবিবাহের কুপ্রথা বিষয়ে নাটক ‘‌নবনাটক’‌।
বৈঠকখানা বাড়ির দোতলায় স্টেজ বাঁধা। ‘‌নবনাটকের’‌ রিহার্সাল চলছে। নাটকের  পাত্র-পাত্রী বাড়ির আত্মীয়বন্ধুরা। সাত-আট মাস ধরে চলল দিনে রিহার্সাল, রাতে কনসার্টের মহড়া। সে এক এলাহি ব্যাপার। জানুয়ারির এক শীতের সন্ধেয় জোড়াসাঁকো নাট্যশালায় ‘‌নবনাটক’‌–এর প্রথম অভিনয়। নাটকের দিন সারা বাড়ি আলোয় আলোকময়। অতিথিদের আনাগোনা। অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা। এসব আনন্দ অনুষ্ঠানে ছোটদের প্রবেশ মানা। তখন রবীন্দ্রনাথও খুব ছোট।  আবছা অন্ধকারে বারান্দায় রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়া আনন্দের একটু-আধটু উপভোগ করত ছোট্ট রবি ও শিশু কিশোরেরা।
নাটকে নট সাজলেন গুণেন্দ্র ভগ্নী কুমুদিনীর স্বামী নীলকমল মুখোপাধ্যায়। তখনও ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা মঞ্চে অভিনয় করতেন না। নটি সাজলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। কৌতুক চরিত্রে গবেশবাবু হলেন অক্ষয় মজুমদার। গবেশবাবুর তিন স্ত্রী হলেন নীলকমল মুখোপাধ্যায়ের ভাই মণিলাল মুখোপাধ্যায়, বিনোদ গাঙ্গুলি এবং সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। 
নাটককে রিয়্যালিস্টিক করার জন্য গুণেন্দ্রনাথ-জ্যোতিরিন্দ্রনাথরা উঠে–পড়ে লাগলেন। নাটকে বনের দৃশ্যে গুণেন্দ্রনাথ নিজ তৈরি বাগান থেকে গাছের ডাল এনে অন্ধকার বনের পথ বানালেন। বাড়ির মালিকে দিয়ে জোনাকি পোকা আনিয়ে ধরে রেখে দিলেন। বনের দৃশ্য এলেই জোনাকি পোকাগুলো ছেড়ে দেওয়া হল। যেন সত্যিকারের বনপথ।
‘‌জোড়াসাঁকো নাট্যশালা’‌–য় ‘হইহই করে পর পর ন-দিন ‘নবনাটক’–এর অভিনয় হল।  দর্শকরাও দেখে আপ্লুত। তবে ‘‌জোড়াসাঁকো নাট্যশালা’‌–র আয়ু বেশিদিন টেকেনি। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বোম্বাই চলে গেলে ‘‌নবনাটকের’‌ অভিনয় বন্ধ হয়ে গেল, সেই সঙ্গে ‘‌জোড়াসাঁকো নাট্যশালা’‌ও বন্ধ হয়ে গেল। জোড়াসাঁকো নাট্যশালা বন্ধ হয়ে গেল ঠিকই, তবে বাংলার নিজস্ব ঢঙে নাটকের চলা শুরু হল এখান থেকেই।
গুণেন্দ্রনাথ, গণেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথদের নাট্যপ্রীতি গড়ে ওঠে পিতা এবং পিতামহের কাছ থেকেই। জ্যোতিরিন্দ্রানাথের নাটকের প্রতি ঝোঁক ছাত্র অবস্থা থেকেই। এবার নাট্যজগতে এলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। তাঁর ‘সরোজিনী’ নাটকের প্রথম অভিনয় হল সগ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে। নাটকে সেকালের বিখ্যাত নট ও নটী, নটী বিনোদিনী এবং অমৃতলাল বসু নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটি জনপ্রিয়তাও পেল দারুণ। যাত্রাওয়ালারা এসে একবার জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ‘‌সরোজিনী’‌ নাটকের যাত্রা করে যান।
‘সরোজিনী’ নাটক লেখার সময় সে এক ঘটনা ঘটল। রবীন্দ্রনাথ তখন কিশোর। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ‘সরোজিনী’ নাটক লিখছেন, পড়ছেন, কখনও অন্যকে পড়ে শোনাচ্ছেন। পাশের ঘরে রবীন্দ্রনাথ গৃহশিক্ষকের কাছে পাঠ নিচ্ছেন। এমনি একদিন, রাজপুত রমণীদের চিতায় প্রবেশের দৃশ্যের সংলাপটি শুনে রবীন্দ্রনাথ জ্যোতিদাদাকে অনুরোধ করলেন এখানে সংলাপ বাদ দিয়ে কবিতা দিলে বেশ হয়। জ্যোতিদাদার কথায় রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে ‘জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ/ পরাণ সঁপিবে বিধবা বালা’ গানটি লিখে দিলেন। নাটকের দৃশ্যে গানটির সঙ্গে সঙ্গে রাজপুত রমণীদের চিতায় প্রবেশ একেবারে অন্য মাত্রা এনে দিল। এমন অভাবনীয় দৃশ্যটি পাঁচ নম্বর জোড়াসাঁকো বাড়ির আর্ট স্টুডিওর লিথোপ্রেস থেকে ছাপা হল। 
‘অশ্রুমতি’র বেলায় যা হল তা একেবারে অভিনব। পাবলিক স্টেজে অভিনয়। নাটকের কুশীলবরাও শুধু বাড়ির সভ্য নয়। বাইরে থেকেও আনা। একেবারে নতুন ব্যাপার। 
কিন্তু সবই তো শোনা গল্প। দেখার কপাল শুধু বাড়ির পুরুষদের। বাড়িতে নাটক হলেও মেয়েদের দেখার অনুমতি নেই। বাংলার মেয়েরা তখনও পর্দানশীন। জোড়াসাঁকো বাড়ির মেয়েদেরও একই নিয়ম। বাড়ির অন্দরমহলের ঘুলঘুলি দিয়েই যেটুকু দেখতে পাওয়া যায়, তা দেখেই সাধ মেটানো ছাড়া তাঁদের উপায় ছিল না। কিন্তু বাড়ির মেয়েদের যে দেখাতেই হবে। কীভাবে সম্ভব? ছেলেরা নানারকম ভাবছেন। গুণেন্দ্রনাথের মাথায় এক বুদ্ধি খেলে গেল। ‘‌বেঙ্গল থিয়েটার’‌ এক রাতের জন্য ভাড়া নিলে কেমন হয়? নাটকের পাত্র-পাত্রী বাদ দিয়ে বাইরের কেউ থাকবে না। কেবল জোড়াসাঁকো বাড়ির সভ্যরাই থাকবে। তবে টাকা একটু বেশি লাগবে। তা লাগুক!
যেই ভাবা সেই কাজ। এক রাতের জন্য ‘‌বেঙ্গল থিয়েটার’‌ হয়ে গেল জোড়াসাঁকোর বাড়ি। হলের বেঞ্চ সরিয়ে দিয়ে জোড়াসাঁকো বৈঠকখানা থেকে আসবাব এনে সাজানো হল নাটকের হল। বাড়ির ছোট থেকে বড় কেউ বাদ গেল না। দর্শক কেবল জোড়াসাঁকো বাড়ির সভ্যরা। সে এক অভাবনীয় দৃশ্য। 
এরপর নাটকের আসরে নামলেন জোড়াসাঁকো বাড়ির মেয়েরা। কাহিনীতে এল নতুন মাত্রা ‘‌প্ৰকৃতি’‌। রীতিতেও এল নতুন ভাবনা, গীতিনাট্য। একদিন বিকেলের আড্ডায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ কথাটা তুললেন, আগেকার দিনের বসন্ত উৎসবের কথা। কেমন হত সে সব উৎসব। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের অনুরোধে ক’দিন পর স্বর্ণকুমারী দেবী লিখে দিলেন ‘‌বসন্ত উৎসব’‌ গীতিনাট্যখানি। শুরু হল ঋতুকে আবাহনে বাঙালির প্রথম উৎসব ‘বসন্ত উৎসব’। লেখার পরই শুরু হয়ে গেল মহড়া। নাটকের পাত্র-পাত্রী বাড়িরই সভ্যরা। স্ত্রী–পুরুষ একসঙ্গে। ‘‌বসন্ত উৎসবের’‌ অভিনয় হল জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই। জোড়াসাঁকোর উদ্যান রঙিন আলোয় সেজে উঠল। 
এরপর জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বইতে লাগল গীতিনাট্যের হাওয়া। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ লিখে ফেললেন ‘‌মানময়ী’‌ গীতিনাট্য। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশ। অতিথি বলতে বাড়ির ঘনিষ্ঠরা। নাটকের পাত্রপাত্রী বাড়িরই ছেলেমেয়েরা। জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ‘‌মানময়ী’‌র অভিনয় হয়ে গেল ক’বার। 
এমন সময় রবীন্দ্রনাথ বিলেত থেকে এসে পড়লেন। বাড়িতে অপেরাধর্মী গীতিনাট্যের হাওয়া বইছে। রবীন্দ্রনাথও লিখে ফেললেন অপেরা স্টাইলে গীতিনাট্য ‘‌বাল্মীকিপ্রতিভা’‌। নাটক লেখা শেষ হতে না হতেই নাটকের পাত্রপাত্রী ঠিক করে রিহার্সাল শুরু হয়ে গেল। প্রায় এক মাস ধরে চলল নাটকের মহলা।  এবার অভিনয় শুধু ঘরোয়া পরিবেশে অভিনয় নয়। ‘‌বিদ্বজ্জন সভার’‌ বাইরের সদস্যরাও থাকবেন।
মহর্ষি ভবনের বাইরের তিনতলার ছাদে স্টেজ বাঁধা হল। রবীন্দ্রনাথ সাজলেন বাল্মীকি। হেমেন্দ্রকন্যা প্রতিভা দেবী হলেন সরস্বতী। লক্ষ্মী সাজলেন বিবি অর্থাৎ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে। রবীন্দ্রনাথের বড়দিদির স্বামী সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, অক্ষয় মজুমদার, কেদারনাথ মজুমদার সাজলেন ডাকাত সর্দার। 
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ‘বাল্মীকি প্রতিভা’–য় অভিনয় করলেন না। তিনি রইলেন নাটকের কনসার্টের দায়িত্বে। মঞ্চে বীণা হাতে হেমেন্দ্রকন্যা প্রতিভা দেবীকে দেখে দর্শক মুগ্ধ। পরদিন কলকাতার সংবাদপত্রজুড়ে প্রতিভাদেবীর গান ও অভিনয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। বাইরের লোকের সামনে ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের সেই প্রথম অভিনয়। দর্শক আসনে কে না ছিলেন সেদিন! বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবু প্যারিমোহন, টি. এন.পালিত, আচার্য ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী, রাজা সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর–সহ কলকাতার বড় বড় জ্ঞানীগুণীরা।
আবার অনেককাল পরে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে যখন ‘বাল্মীকি প্রতিভা’–র অভিনয় হল অবনীন্দ্রনাথ তখন যুবক। তিনি সাজলেন ডাকাত সর্দার। অতিথির আসনে ছোটলাট পত্নী লেডি ল্যান্সডাউন। জোড়াসাঁকো বাড়িতে ধুমধাম পড়ে গেল। 
স্টেজ সাজাবার দায়িত্বে রইলেন দ্বিজেন্দ্র পুত্র নীতিন্দ্রনাথ। নীতিন্দ্রনাথ স্টেজে মাটি দিয়ে গাছ পুঁতে বন তৈরি করলেন। বৃষ্টির দৃশ্যকে সত্যিকারের দেখানোর জন্য দোতলার বারান্দা থেকে টিনের নল নেমে গেল সোজা স্টেজে। বৃষ্টি ঝরবে। স্টেজের পিছন থেকে আলো ফেলে দেখানো হল বিদ্যুতের ঝলকানি। কুস্তিগিরদের আখড়া থেকে আনানো হল ডাম্বেল। ডাম্বেলগুলো ছাদের এদিক থেকে ওদিক গড়িয়ে গড়িয়ে কড় কড় বাজ পড়ার শব্দ তৈরি হল। 
এমন বৃষ্টিমুখর ঘনবর্ষার দৃশ্যে বাল্মীকি রূপী রবীন্দ্রনাথ গান ধরলেন—‘‌রিম ঝিম ঘন ঘন রে বরষে/‌ রিম ঝিম ঘন ঘন রে বরষে।’‌
অমনি দর্শক আসন থেকে ভেসে এল হাততালির বন্যা।
‘‌বাল্মীকি প্রতিভা’‌–র অভিনয় শেষ হতেই জোড়াসাঁকো বাড়ির নাটকের দলের মন খারাপ। ওরা নাটক পাগল। নতুন নাটক চাই। রবীন্দ্রনাথ নতুন উদ্যমে লেখা শুরু করলেন নতুন নাটক ‘‌মায়ার খেলা’‌। লেখা শেষ হতেই মহলা। তারপরই অভিনয়। এভাবে একটার পর একটা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ-রবীন্দ্রনাথর-অবনীন্দ্রনাথরা নাটক লিখছেন আর সঙ্গে সঙ্গে চলছে নাটকের মহড়া। তারপরই অভিনয়। কখনও জোড়াসাঁকোর বাড়িতে, কখনও শান্তিনিকেতনে। 
জোড়াসাঁকোর নাট্যদলের ব্যাপারই আলাদা। একজন নাটক লিখছেন আর অন্যরা শুধু অভিনয় করছেন এমন নয়। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নাটক লিখছেন তো রবীন্দ্রনাথ নাটকে সংলাপের জায়গায় গান লিখে দিচ্ছেন। আবার কখনও, রবীন্দ্রনাথ জ্যোতিদাদার নাটকে জুড়লেন নতুন চরিত্র। এমনই ঘটেছিল ‘‌অলীকবাবু’‌ নাটকের সময়।
রবীন্দ্রনাথের নতুন নাটক ‘‌রাজা ও রাণী’–তে মৃণালিনী সাজলেন নারায়ণী। নারায়ণীর ভূমিকায় তিনি একশোতে একশো। দেবদত্তর ভূমিকায় ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। নারায়ণীরূপী মৃণালিনী দেবী ভাশুরের সঙ্গে নথ নেড়ে নেড়ে ঝাঁটা ঘুরিয়ে অভিনয় জমিয়ে দিলেন। মেজো জা সুমিত্রা, সত্যেন্দ্র–পত্নী জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর অভিনয় নজরকাড়া। রাজা– রবীন্দ্রনাথ, ত্রিবেদী– অক্ষর মজুমদার, কুমার– প্রমথ চৌধুরী, ইলা– কবি প্রিয়ম্বদা দেবী, সেনাপতি– দ্বিজেন্দ্র পুত্র নীতিন্দ্রনাথ, জনতা, সৈন, নাগরিক- বাড়িরই ছেলেমেয়েরা। 
ঠাকুরবাড়ির নাটক দেখতে দর্শক আসনে যেমন থাকতেন কলকাতার নামী–দামি মানুষেরা। তেমনি কখনও কখনও থাকতেন সত্যি দেশের রাজারানি— ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য, সুদূর বেলজিয়ামের রাজারানি, আবার কোনওদিন লর্ড ল্যান্সডাউন, সঙ্গে লেডি ল্যান্সডাউন। 
পাঁচ নম্বর গিরীন্দ্র পরিবারের মেয়েরা নিজেরাই নাটক করতেন। পুরুষও সাজতেন মেয়েরাই। ‘‌রত্নাবলী’‌ নাটকে রাজা সাজলেন অবনীন্দ্র–ভগ্নী বিনয়িনী দেবী। রানি সাজলেন গগনেন্দ্র–পত্নী প্রমোদকুমারী। মন্ত্রী সমরেন্দ্র–পত্নী নিশিবালা। বাসবদত্তা অবনীন্দ্রনাথ–ভগ্নী সুনয়নী। চ্যুতলতিকা অবনীন্দ্রনাথ–পত্নী সুহাসিনী। ■
   
সহায়ক গ্রন্থ: রবি জীবনী– প্রশান্তকুমার পাল ১ম খণ্ড, রবি জীবনী– প্রশান্তকুমার পাল ২য় খণ্ড, ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল– চিত্রা দেব, রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়স্বজন– সমীর সেনগুপ্ত, ঘরোয়া– অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‌‌‌‌‌

 

 

গীতিনাট্য ‘‌বাল্মীকি প্রতিভা’য় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (‌বাল্মীকি) ও ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী (‌লক্ষ্মী)‌‌।

জনপ্রিয়

Back To Top