ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম পেশাদার ভারতীয় মহিলা জাদুকর হিসেবে ১৯৬৮ সালে নিজের দল গঠন করে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ডি পুষ্পা।
লিখেছেন শুচিস্মিতা দাশগুপ্ত ও সোমনাথ দাশগুপ্ত

মঞ্চের ওপর একটি মেয়ে তিনটি তরবারির সরু মুখের ওপর শুয়ে রয়েছে। ধীরে ধীরে দু’‌টি তরবারি সরিয়ে নেওয়ার পরও মেয়েটি শুধু ওই একটি মাত্র তরবারির সূক্ষ্ম মুখের ওপর ভর করে শূন্যে ভেসে রইল। একটি শূন্য পেপার ক্যাবিনেট থেকে হঠাৎ একঝাঁক পায়রা মঞ্চে এসে হাজির। একটি মেয়েকে পেটের মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হল বড় একটি হাতকরাত দিয়ে। কাউকে তিন টুকরো করে কেটে ফেলে আলাদা আলাদা খোপে ভরা তার শরীর এদিকে ওদিকে সরিয়ে, অংশগুলি দর্শকদের দেখিয়ে আবার জুড়ে দেওয়া হল। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও হাজার হাজার মানুষ ভারতের প্রথম পেশাদার মহিলা জাদুকর ডি পুষ্পার এইসব জাদু দেখে মুগ্ধবিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যেতেন। ১৪ জুলাই সেই জাদুকরী চিরতরে বিদায় নিলেন এই পৃথিবীর মায়ামঞ্চ থেকে। ছিল না কোনও ছাত্রছাত্রী, যে হবেন এই জাদুকৌশলগুলির উত্তরাধিকারী। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেল তাঁর সমস্ত ম্যাজিকের পেছনের রহস্যগুলিও।


জাদুর দেশ ভারত, জাদুরাজ্য বঙ্গভূমি। ভারতীয় জাদু বিশ্বের জাদু–দরবারে স্বীকৃত ও সমাদৃত হয়ে এসেছে বরাবর। তা সে মাদারি বা বেদে–বেদিনিদের আশ্চর্য ভেল্কি হোক, গ্রামদেশে পথের পাশে হঠাৎ বসা কোনও ভবঘুরে ফকির বা বৃদ্ধার সাতসাফাইয়ের ‘বাটিগুটির খেলা’ হোক, জাহাঙ্গীরের রাজসভায় গিয়ে উপস্থিত সাত বাঙালি বাজিকরের ২৮টি বিস্ময়কৌশল হোক, কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ (১৮৬১–১৯০৭ খ্রিঃ)–এর ‘আর্য্য ঐন্দ্রজালিক সমিতি’ প্রদর্শিত ‘পাশ্চাত্য প্রণালীর ইন্দ্রজাল ক্রীড়া’ হোক বা এদেশে আধুনিক জাদুবিদ্যার পথিকৃৎ জাদুগুরু গণপতি চক্রবর্তী (১৮৫৮–১৯৩৯ খ্রিঃ)–র বিস্ময়কর ‘কংস কারাগার’, ‘ইলিউশন ট্রি’, ‘ইলিউশন বক্স’ই হোক। সুপ্রাচীন ঋক্‌বেদে উল্লেখ রয়েছে ইন্দ্রের মায়াবিদ্যার, অশ্বিনীকুমারদের মধুবিদ্যার, অথর্ববেদে রয়েছে জাদুবিদ্যা, সূত্রে, পুরাণে, রামায়ণ, মহাভারতে ছড়িয়ে আছে জাদুর উল্লেখ। জৈন, বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস, জাতকের গল্প, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, অশোকের শিলালিপি থেকেও তন্ত্র–মন্ত্র–জাদুর উল্লেখ উঠে আসে। কিংবদন্তিতে জাদুকর ভোজরাজের সঙ্গে শোনা যায় তাঁর কন্যা ও রাজা বিক্রমাদিত্যের স্ত্রী ভানুমতীর নামও। কালিদাসের লেখায় রয়েছে ভোজবংশের প্রসিদ্ধ ঐন্দ্রজালিক বিদ্যার উল্লেখ। জনশ্রুতি অনুসারে, ভানুমতীর খেল ভোজরাজের ভোজবাজিকেও হার মানিয়েছিল। বাস্তবজগতে কিন্তু জাদুকরদের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার মতো জাদুকরী বলতে গেলে হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র।

জাদুকর গণপতিকে স্টেজে সাহায্য করতেন ‘হিঙ্গনবালা’ বা ‘হরিমতী’। কিন্তু পরাধীন ভারতে প্রথম মহিলা ম্যাজিশিয়ান হিসেবে ১৯৩৭ সাল সময়কালে কলকাতার কালী দত্ত স্ট্রিট নিবাসী রবীন্দ্রনাথ পালের কন্যা ‘কুমারী গীতা পাল’ (১) নামের এক ১৪–১৫ বছরের কিশোরী শিল্পীর নামই পাওয়া যাচ্ছে, যিনি হস্তকৌশলবিদ ‘জি বি ধর’–এর সঙ্গে ম্যাজিক দেখাতেন। ম্যাজিক ছাড়াও তিনি সঙ্গীতে নিখিল বঙ্গ প্রতিযোগিতায় উচ্চস্থান লাভ করেন, সাইকেল চালনায় ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে রেকর্ড করেন, আবৃত্তি, অভিনয়, সূচিশিল্প, নৃত্য, ব্যায়াম, ছোরা ও লাঠিখেলাতেও পারদর্শী ছিলেন। পরিণয়সূত্রে তাঁর শিল্পীজীবনের অবসান।
এরপর প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক ও শখের জাদুকর ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্তের বোন উমা দাশগুপ্ত (১৪ এপ্রিল ১৯২৮–২১ জুন ২০০৫)–কে স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা জাদুকর বলা যায়। তাঁদের আদি নিবাস বরিশালের বর্তমান আগৈলঝাড়ায় গৈলা গ্রামে। পিতা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট চিন্তাহরণ দাশগুপ্ত, মাতা অমিয়কুমারী। উমা বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাশ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা লাভের পর কেন্দ্রীয় সরকারের এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিভাগে কর্মরতা ছিলেন। ১৯৪৭ সালে কলকাতায় প্রথম তিনি মঞ্চে জাদু দেখান। ১৯৬৫–তে নিজের দল গঠন। ১৯৬৬–তে পেয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ম্যাজিশিয়ান ক্লাব–এর দেওয়া ‘জাদুভারতী’ ও ১৯৬৮–তে অল ইন্ডিয়া ম্যাজিক ইনস্টিটিউটের দেওয়া ‘জাদুসম্রাজ্ঞী’ উপাধি। পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন, মঞ্চে এবং আকাশবাণীতে অভিনয় করেছেন, তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘জাদুসম্রাজ্ঞীর অভিজ্ঞতা’, ‘স্মরণীয় যাঁরা’, ‘নাট্যকার’, ‘সেকালের গল্পকথা’ ইত্যাদি। মঞ্চে সাড়া জাগালেও তিনি ম্যাজিককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি।
এ ছাড়া, গণপতি–শিষ্য জাদুসূর্য দেবকুমারের স্ত্রী হাসিরানি দেবী ‘রানি হাসি’ নামে ছিলেন দেবকুমারের মঞ্চ–সহকারিণী, কিন্তু এককভাবে ম্যাজিক মঞ্চস্থ করেননি কোনও দিনও। জাদুকর ডি লাল–এর প্রয়াণের পর প্রেমিকা ও সহধর্মিণী রমা গুপ্ত ‘প্রিন্সেস রাজশ্রী’ নামে কিছু একক শো করেন। কিন্তু এঁরা কেউই পেশাগতভাবে ম্যাজিককে গ্রহণ করেননি। পি সি সরকার (জুনিয়র)–এর স্ত্রী জয়শ্রী ও কন্যা মানেকাও বর্তমানে ম্যাজিক প্রদর্শনী করে থাকেন। অধুনা এই শিল্পে শখে ও পেশাগতভাবে যুক্ত হয়েছেন আরও অনেক মহিলা। দেবাদ্রিতা ব্যানার্জি, রেশমি রায়, শ্রেয়া ব্যানার্জি, বনানী ব্যানার্জি, স্বাগতা মান্না, সুমিত্রা চ্যাটার্জি এরকমই অসম্পূর্ণ একটি তালিকা।

তবে ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম পেশাদার ভারতীয় মহিলা জাদুকর হিসেবে ১৯৬৮ সালে নিজের দল গঠন করে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ডি পুষ্পা। আমাদের দেশে প্রায় সমস্ত পেশাতেই পুরুষের সঙ্গে নারীরা সমানতালে এগিয়ে এসেছেন, কিন্তু তা ম্যাজিকের ক্ষেত্রে অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল। এই খামতিটুকু পরিপূর্ণভাবে ভরাট করে দিলেন জাদুশ্রেয়সী ডি পুষ্পা। জাদুর আকাশে উদয় হল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের। তাঁর জাদুতে উদ্ভাসিত হলেন দেশ–বিদেশের দর্শকমহল। সিনিয়র পি সি সরকারের পর তিনিই দ্বিতীয় ম্যাজিশিয়ান যিনি ভারত সরকারের ডেলিগেট হিসেবে ভুটানে গিয়েছিলেন। পিতৃদত্ত নাম পুষ্প দাঁ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯৪৭,  বাংলাদেশের খুলনা জেলায়। পিতা সন্তোষকুমার দাঁ ও মাতা অনুপমা দেবী। তিন ভাই, সাত বোন তাঁরা। দশ সন্তানকেই বিভিন্ন শিল্পচর্চায় উৎসাহ দিয়ে এসেছিলেন সন্তোষবাবু। বড় ছেলে গণেশচন্দ্র ফুটবল খেলতেন, দিদি মণিমালা বাজাতেন এসরাজ, মেজদা গৌরহরিও ফুটবলার, বাজাতেন গিটারও। কোচ হিসেবে সাতবার মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলকে হ্যাটট্রিক–সহ (’৮১–’৮৩) দিল্লির অনূর্ধ্ব–১৭ সুব্রত কাপ জয় এনে দেওয়ার অদ্যাবধি অবিসংবাদী রেকর্ডের কান্ডারি। পুষ্প শিখেছিলেন নৃত্য, প্রধানত ফোক, কত্থক ও ভারতনট্যম। পরের বোনেরা— সাধনা, বাসনা, পূর্ণিমা, শিপ্রা। ছোট বোন সিক্তা গান শিখতেন, ভলিবল খেলতেন। ছোট ভাই আশিসকুমার বাজাতেন তবলা। বাবার ফুড কর্পোরেশনের চাকরি। ঠাকুরদা কালীঘাট জিপিও–র পোস্টমাস্টার। দু’‌বছর বয়সেই পুষ্পর দাদা–দিদি–বাবা–মায়ের সঙ্গে চলে আসা এদেশে। স্কুলশিক্ষা শুরু হয় নিউ ব্যারাকপুরে। প্রথম জীবনে নাচ শিখতেন ‘শিল্পীচক্র’–এ মন্টু সরকারের কাছে, পরে ‘কৃষ্টি’তে পিতৃবন্ধু ভুবনেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, যিনি ‘‌প্রফেসর ব্যান্ডো’‌ নামে খ্যাত এবং পরিচিত ছিলেন পি সি সরকার (সিনিয়র)–এর সঙ্গেও। জাদুসম্রাটের সহকারিণী নৃত্যশিল্পীদের দলে তখন নতুন মুখের প্রয়োজন। এদিকে বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল নয়। শিক্ষাগুরুর উৎসাহে পিতার অনুমতি ও জাদুকরের মনোনয়ন পেতে দেরি হয়নি। ১৩ বছর পেরিয়ে স্কুলছাত্রী পুষ্প নাচের তালিম অসমাপ্ত রেখে পি সি সরকার (সিনিয়র)–এর ইন্দ্রজাল প্রদর্শনীর সঙ্গে কনিষ্ঠতম নৃত্যকুশলী হিসেবে ১৯৬০ থেকে ঘুরলেন মিশর (’৬০–’৬১), রাশিয়া (’৬২), ভারতের (’৬৩) বহু রাজ্যের নানা শহর ও জাপান (’৬৪)। নেহরুর মৃত্যুতে দেশে ফেরা। পি সি সরকার (জুনিয়র) এবং পুষ্পদেবী একই সঙ্গে অ্যাসিস্ট করেছেন শ্রী সরকার (সিনিয়র)–কে। খেলায় সহকারিণী হিসেবে যে কোনও কাজ— সে জলের গ্লাস, পালকের ফ্লাওয়ারভাস নিয়ে যাওয়া–আসাই হোক বা পায়রা রেখে আসা, ওড়ানো অথবা শুধুই নৃত্য, তিনি ফুটিয়ে তুলতেন তাঁর সবটুকু শিল্পীসত্তা দিয়ে। এই দলে থেকে তিনি পাঁচ বছরে শিখেছিলেন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, সংযত সৌজন্যবোধ, নিষ্ঠা এমনই আরও অনেক ব্যক্তিগত গুণাবলি যা তাঁর পেশাদার জাদুজীবনের মূল্যবান পাথেয় হয়েছিল। শিখেছিলেন নানান দেশের ভাষা যা শেষ বয়স পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠস্থ ছিল। পি সি সরকার (সিনিয়র)–এর দলে থাকাকালীন খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন জাদুর দুনিয়াকে। দু’‌চোখ ভরে গিয়েছিল স্বপ্নে। এই দল থেকে জাদুবিদ্যা বা ম্যাজিক ট্রিক তিনি শিখেছিলেন কিনা, তাঁর কথায় ‘তা বলা মুশকিল’, এমনকী সামান্য একটা তাসের খেলাও জানতেন না তখন, কিন্তু নিঃসন্দেহে নিজেকে একজন স্বাধীন জাদুপ্রদর্শক হিসেবে দেখার কল্পনা করছিলেন।

দাদারা চাকরি পেতে সংসারের অবস্থা ফিরল, জাদু দলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হল। কিন্তু ঘরে বসে বই–পত্রিকা পড়ে নিজে থেকে শিখতে চেষ্টা করলেন ম্যাজিক। কয়েকটি স্কুলে প্রদর্শনী করলেন। কিছু সময়ের জন্য যোগী জাদুকর মৃণাল রায়ের ‘মায়ামহল’–এর সঙ্গেও সহকারিণী হিসেবে যুক্ত হলেন। বিয়ের সম্বন্ধ এল আরেক জাদু–উৎসাহী সত্যব্রত দত্তর সঙ্গে। মামাবাড়িতেই তাঁদের আলাপ। সত্যব্রত ছোটবেলা থেকেই ম্যাজিক ভালবাসতেন। স্কুলজীবনে ছোটখাটো ম্যাজিক দেখাতেন শিক্ষকদের থেকে শিখে। পরে উঁচু ক্লাসে উঠে স্কুলের নীচু ক্লাসের ছাত্রদের নিয়েও জাদু দেখিয়েছেন, অফিসে জাদু ক্লাবের সদস্য ছিলেন। পুষ্প চেয়েছিলেন সত্যব্রত হবেন ম্যাজিশিয়ান, তিনি সহকারিণী। পাল্টা প্রস্তাব পেলেন— ভারতে অজস্র জাদুকর আছেন, কিন্তু জাদুকরী প্রায় নেই। পুষ্প যেন সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করেন। তার জন্য যাবতীয় সাহায্য করবেন সত্যব্রত। এই দেওয়া–নেওয়ার পেছনে ত্যাগের ইঙ্গিত ছিল খুবই স্পষ্ট। সেই তাঁদের একসঙ্গে পথচলার শুরু। রেজিস্ট্রি বিবাহ। স্বাধীন দলগঠন। একের পর এক শো। কল্পনা বাস্তবায়িত হল—  বিশ্ববিখ্যাত জাদুকরের বিরাট দলের কনিষ্ঠতম সহকারিণী নিজেই হয়ে উঠলেন একজন পেশাদার জাদুকরী। নাম নিলেন ডি পুষ্পা। নামের প্রাথমিক চমকের জন্যেই শুধু নয়, আঞ্চলিক ছেড়ে আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠার লক্ষ্যেও পদবি আদ্যক্ষর আগে বসানো। নিউ ব্যারাকপু্রের মজলিশ, বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলন, আনন্দবাজার প্রভৃতিতে জাদুপ্রদর্শনের পর চিত্তরঞ্জন, জামশেদপুর, দুর্গাপুর ঘুরে কলকাতায় অবনমহল ইত্যাদিতে শো করে ১৯৭০ সালের ১৩ মার্চ সামাজিক বিবাহসূত্রে তাঁরা আবদ্ধ হলেন, পরের মাসেই দল নিয়ে চলে যাবেন নেপালে জাদুপ্রদর্শনে।
ডি পুষ্পার এই রূপকথা–উত্থানের পেছনে শুধু প্রখ্যাত জাদুকরের সহকারিণী হিসেবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট ছিল না। একাগ্র অধ্যবসায়, অসীম ধৈর্য ও নিরলস অভ্যাস সেই রাস্তাকে মসৃণ করেছিল। তাছাড়া এই স্বপ্নপূরণের দায়ভার অনেকটাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন স্বামী সত্যব্রত দত্ত। ম্যাজিকের সরঞ্জাম তৈরি ও পরিকল্পনা করতেন তিনি এবং সেগুলি মঞ্চস্থ করতেন ডি পুষ্পা। জীবনে নানারকম কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, তবে নীলরতন সরকার হাসপাতালে কলেজ ডিপার্টমেন্টে সিনিয়র লিড প্রজেকশনিস্ট হিসেবে অবসর নেওয়া পর্যন্ত কর্মরত সত্যব্রত তাঁর নিজের সাধনার ফল সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেছিলেন স্ত্রীর প্রতিভা বিকাশের কাজে। প্রতিটি শো আয়োজন ও মঞ্চে সহযোগিতা ছাড়াও ব্যাকস্টেজ পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। পুষ্পদেবী, ‘‌শুধু মঞ্চে খেলা দেখিয়েই খালাস’‌ বলে, নিজেই বহুবার সানন্দে তা স্বীকার করেছেন।
জনপ্রিয় প্রচলিত খেলাগুলি ছাড়াও ডি পুষ্পার বেশ কিছু মৌলিক মনোগ্রাহী জাদুও দর্শকদের হতবাক করে দিত। এর মধ্যে নাম করা যেতে পারে ‘সোর্ড এরিয়াল’, ‘পেপার ক্যাবিনেট’, ‘জিগজ্যাগ লেডি’ ছাড়াও উল্লেখ্য ‘ফেদার ফ্যানটাসি’, ‘হংকং মিস্ট্রি’, ‘ফেস্টিভাল অফ ইজিপ্ট’, ‘মাদার ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারত মাতা’ ইত্যাদি। শেষোল্লিখিত খেলাটি সাধারণত তিনি তাঁর শোয়ের শেষ খেলা হিসেবে রাখতেন। স্টেজে একটি সুদৃশ্য খালি বাক্স থাকত। তারপর ভারত মাতা বা মাদার ইন্ডিয়া বলে সম্বোধন করতেই তা থেকে ভারত মাতা আবির্ভূত হতেন এবং ওপর থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় পতাকা নেমে আসত, যন্ত্রে বেজে উঠত জাতীয় সঙ্গীত। পথিকৃৎ জাদুকর গণপতি আবিষ্কৃত বাক্সের খেলা অসামান্য নৈপুণ্যের সঙ্গে দেখাতেন ডি পুষ্পা ‘ভৌতিক বাক্স’ বা ‘মিরাক্‌ল বক্স’ নামে। একজন লোককে পুলিশ পরীক্ষিত হ্যান্ডকাফ পরিয়ে, চাবি দিয়ে, বস্তায় পুরে, বস্তার মুখ বেঁধে একটি কাঠের বাক্সের মধ্যে চাবি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হত। দর্শকরাই এই কাজগুলো করতেন এবং বাক্সের চাবিও তাঁদের কাছে রেখে দিতেন। তারপর জাদুকরী মুহূর্তের জন্যে বাক্সটি–সহ নিজেকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলতেন এবং পরমুহূর্তেই দেখা যেত বাক্সবন্দি লোকটি বাইরে এবং চাবি দিয়ে বাক্স খুললে জাদুকরীকে পাওয়া যেত বাক্সের মধ্যে দড়িবাঁধা বস্তায় হ্যান্ডকাফ সমেত। ডি পুষ্পার আরেকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা হল ‘টেম্পল অফ বেনারস’, যেখানে বারানসীর মন্দিরে একটি মেয়েকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে একদল দস্যু মন্দিরের দেওয়াল ভেদ করে চারদিক থেকে শানিত তরবারি প্রবেশ করিয়ে দেয়। ঠিক তখনই মসিহা হয়ে জাদুকরীর আবির্ভাব, তলোয়ার সরিয়ে মেয়েটিকে জীবন্ত উদ্ধার ও অদৃশ্য করে দেওয়া। তাঁর অন্যান্য জনপ্রিয় জাদুখেলার মধ্যে ‘কিউব অ্যান্ড টিউব’, ‘ডলস হাউস’, ‘হ্যাপি ওয়ান্ড’, ‘এক্স–রে চক্ষু’, ‘জিহ্বার অস্ত্রোপচার’, ‘চন্দ্রযাত্রা’, ‘বাংলাদেশ ৭১’, ‘লন্ডন ক্লাব’, ‘হ্যান্ডকাফ ইলিউশন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কলকাতার ভবানীপুর, টালিগঞ্জ, ময়দান, কলামন্দির, জ্ঞানমঞ্চ, নিউ এম্পায়ার, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, নিউ ব্যারাকপুর, রোটারি লায়ন্স ক্লাব, মহাজাতি সদন প্রভৃতি বহু মঞ্চ–সহ আশপাশের বিভিন্ন মফস্‌সলের ক্লাবে, স্কুলে, পুজোমণ্ডপেও তিনি জাদুপ্রদর্শন করে গেছেন নিরলসভাবে। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সফর করেছেন। বিহার, গুয়াহাটি, অসম, মেঘালয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র–সহ বহু রাজ্যে নিজের জাদুর ছড়ি বুলিয়ে দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন। প্রশংসায় ভরে গেছে তাঁর ঝুলি। মুম্বই ও কলকাতার শিল্পীমহলেও সুখ্যাতি ছড়াতে থেকেছে ক্রমশ। চলচ্চিত্র শিল্পী রাজকুমার, অশোককুমার, স্বনামধন্য গায়ক মহম্মদ রফি, মুকেশ তাঁর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানমঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, সুচিত্রা মিত্রের মতো শিল্পীদের সঙ্গেও। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন পরিকল্পনার নতুনত্বে ও অসাধারণ পরিবেশন নৈপুণ্যের কারণে। নিখিল ভারত শিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনীর তরফে ১৯৭০ সালে কলকাতা ময়দানে আয়োজিত একটি জাদুমঞ্চায়নের টিভি সম্প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায় কর্তৃক তাঁকে ‘‌জাদুশ্রেয়সী’‌ উপাধি প্রদান করা হয়। সেই বছরই নেপালের মহারাজা মহেন্দ্রর ৫১তম জন্মদিন উপলক্ষে জাদু প্রদর্শনের আমন্ত্রণে নেপালের মানুষের মন জয় করেন সাবলীল জাদুপ্রদর্শনে, নেপালে ‘‌সার্টিফিকেশন অফ মেরিট’‌ প্রদান করা হয় তাঁকে। ১৯৭২ সালে লবণহ্রদ উদ্বোধনের সময় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে যুবমেলায় জাদুপ্রদর্শনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকেও পান ভূয়সী প্রশংসা।
১৯৭৭ সালে ভারত সরকারের ডেলিগেট হিসেবে ভুটান সফরে যান। তাঁর জাদুকৌশলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে ভুটানের মানুষ। পরের বছর ১৯৭৮–এ যান শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানকার তৎকালীন রাজা তাঁকে বরণ করেন ‘কুইন অফ ম্যাজিক’ অভিধায়। বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদপত্রে তাঁর ছবি–সহ প্রভূত প্রশংসা ছাপা হতে থাকে। বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রথম পেশাদার মহিলা জাদুকরীর নাম এইভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল ক্রমশ। উপভোগ্য ছিল তাঁর মজাদার সংলাপ, কল্পনাপ্রবণ জাদু। একাধিকবার দেখানো খেলা হলেও হলভর্তি দর্শক কৌতূহলে টানটান থাকতেন। কলাকুশলী, নৃত্যশিল্পী, ব্যাকস্টেজ, শব্দ, সঙ্গীত ও আলোকশিল্পী সব মিলিয়ে শুরুর ১৭ জন থেকে বেড়ে শেষ পর্যন্ত ২৫–৩০ জনের একটা জাদুপরিবার ছিল ডি পুষ্পার। সহকারী হিসেবে অংশ নিতেন বাপেরবাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের ছোট–বড়রাও। বোন পূর্ণিমা দুর্গাপুর শোয়ের সময় জাদুকরীর সহকারিণী হিসেবে চোখ বেঁধে সাইকেল চালিয়ে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। এক একদিন হয়তো আড়াই–তিন ঘণ্টাব্যাপী তিনটি করে শো করতে হত। এই অমানুষিক খাটনির পরেও দলের সদস্যারা যাতে রাতে অভুক্ত ফিরে না যান তার জন্য বহু রাতে বাড়ি ফিরে রান্না করে সকলকে খাইয়েছেন, এমন নজিরও আছে। শুধু সহশিল্পীই নন, একই মঞ্চে শিল্পপ্রদর্শন সূত্রে অন্যান্য পেশার শিল্পীদের প্রতিও ছিল তাঁর গভীর শ্রদ্ধা।

জাদুবিদ্যাচর্চা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এবং অনেকটাই ব্যক্তিগত ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। অনেক প্রমীলা জাদুকর এই পেশায় এলেও বেশিদিন থাকেননি বা পুরোপুরি এই শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন কারণের মধ্যে একটি মুখ্য কারণ হল বিবাহ ও সংসারী হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়া বা কাজ না চালানো। এক্ষেত্রে ডি পুষ্পাকে ভাগ্যবতী বলা যায়। পেশাদার জাদুশিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ বিয়ের পরেই এবং তাও স্বামীর অনুপ্রেরণায়। তিনি ডি পুষ্পার জাদুজীবনে মেরুদণ্ডস্বরূপ ছিলেন। স্ত্রীকে দিয়ে গেছেন নিরন্তর উৎসাহ এবং সাহায্য। যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত স্ত্রীর শোয়ের কভারেজ, সমালোচনা, এমনকী শোগুলির বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপনের কাটিং, বিভিন্ন শোয়ের অজস্র ছবি। এখনও বাড়িতে যত্নে গুছিয়ে রাখা তিরিশ বছরের জাদুকরী জীবনের সরঞ্জামভর্তি যাবতীয় বাক্স।
জাদুর জগতে বিপুল সাফল্য লাভ করলেও সংসারে তিনি ছিলেন আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের বউয়ের মতোই। একটি স্মৃতিচারণায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যৌথ পরিবারে এক মাসের মধ্যে পনেরো দিন রান্নার দায়িত্ব থাকত তাঁর। টুরে যাওয়ার থাকলে তিনি সাংসারিক দায়িত্ব আগে পালন করে যেতেন। সংসার সামলেছেন, কৃতী সন্তানদের মানুষ করেছেন। তাদের পড়াশোনার জন্য নিয়েছিলেন জাদুজগৎ থেকে সাময়িক বিরতিও। নাচে স্বর্ণপদকপ্রাপ্তা বউমাকে ম্যাজিক শেখানোর ইচ্ছে থাকলেও ছেলের ভ্রাম্যমাণ চাকরির কারণে সে সুযোগ হয়নি। ছেলে মেকানিক্যাল ও মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, দু’‌জনেই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যথাক্রমে দেশে ও বিদেশে চাকরিরত। বউমা বর্তমানে তিরুবনন্তপুরমে একটি নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করেন। গত দশ বছর সেখানেই থিতু। ছেলের সূত্রে দুটি নাতনি, মেয়ের সূত্রে একটি নাতনি ও একটি সদ্যোজাত নাতি তাঁর।
জাদু প্রদর্শনের পেশা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিপুল আর্থিক জোগানের সমস্যা থাকলেও সরকারের তরফে বিশেষ কোনও অর্থনৈতিক সাহায্য পাওয়া যেত না, বরং জাদুসামগ্রী পরিবহণের জন্য দিতে হত চুঙ্গি, অকট্রয় ইত্যাদি কর। আর্থিক সমস্যা ছাড়াও ডি পুষ্পার জাদুপ্রদর্শনের মানবৃদ্ধির পক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল শিল্পীর ক্ষমতা ও শিল্পের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের সমস্যা। যেমন, প্রতিষ্ঠিত ও বহুল পরিচিত জাদুকরের ‘পাবলিশিটি’ বেশি থাকার কারণে কিছু খেলা সেই লব্ধপ্রতিষ্ঠিত জাদুকরই শুধু দেখাতে পারবেন আর কেউ নয়— এই যুক্তিতে ডি পুষ্পাকে সেই ধরনের খেলা দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট প্রচারের অভাবে তিনি ক্রমশ বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যেতে থাকেন। শ্রীমতী জয়শ্রী সরকার ম্যাজিক শো শুরু করায় একসময় সংবাদ প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা জাদুকর হিসেবে তাঁকেই প্রচার করা শুরু হয়েছিল। প্রতিবাদপত্রের অবতারণায় সে প্রচার বন্ধ হয় (সূত্র: চিঠি– সান্ধ্য আজকাল, সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৬)।

আধুনিক ভারতীয় ম্যাজিক আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয় করেছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে একজন নিঃসন্দেহে ডি পুষ্পা, যাঁকে আজকের দিনে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। আন্তর্জালে কোথাও তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায় না। তিনি শুধু ম্যাজিকের প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকেই মেয়েদের বিনামূল্যে ম্যাজিক শেখাতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন— নারীরা জীবনের কোনও ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। ১৯৯৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে শেষবারের মতো জাদু প্রদর্শন করেছিলেন। এরপর বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে তাঁর পাঁজরের অস্থিসংযোগ নড়ে যায়, বসা, ঝোঁকা নিষেধ হয়ে যায় পুরোপুরি, পিঠের বেল্ট হয় বাকিজীবনের সঙ্গী। স্পন্ডেলাইটিসের সঙ্গে স্লিপ ডিস্কের আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছিলেন সত্যব্রতও, ভেলোরে গিয়েও সুরাহা হয়নি। এরপর মঞ্চে আর কোনও দিন দেখা যায়নি এই সদাহাস্যময় জাদুকরীকে। যদিও ম্যাজিক দেখানোর আমন্ত্রণ আসা থামেনি মৃত্যুর এক বছর আগে পর্যন্তও। শারীরিক কারণে মঞ্চ থেকে দূরে সরে গেলেও ম্যাজিক ছিল তাঁর আত্মার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের সায়াহ্নকালেও ম্যাজিক নিয়ে উৎসাহে ভাটা পড়েনি। বাড়িতে আসত ম্যাজিকের বই, পত্রপত্রিকাও। মাসখানেক নিজগৃহে চিকিৎসাধীন থাকার পর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে নিউ ব্যারাকপুরের আগাপুর অঞ্চলের নিজস্ব বাসভবন ‘‌জাদুপ্রতিভা’‌য় ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রেখে গেছেন পুত্র সৌমেন্দু, কন্যা পিউপা, তাঁদের পরিবার ও স্বামী সত্যব্রত দত্তকে, যিনি গত কয়েক বছর ধরেই অ্যালঝাইমার্স রোগাক্রান্ত। স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ প্রতিদিন বহুবার তাঁকে দেওয়া হয়। বুঝতে পেরে কখনও কাঁদেন কখনও আবার সব ভুলে সারা বাড়িতে ঘুরে ঘুরে খুঁজতে থাকেন তাঁর ৫০ বছরের জীবনসঙ্গিনীকে। ■


তথ্যসূত্র: ২০১৯–এর ২২ সেপ্টেম্বর ডি পুষ্পার সঙ্গে তাঁর বাসগৃহে আলাপচারিতার রেকর্ডিং, তাঁর সংগ্রহের পেপার কাটিংয়ের স্ক্যান, মৃত্যু–পরবর্তীতে পুত্র, কন্যা ও বোন সিক্তা দত্ত প্রদত্ত তথ্য। পত্রিকা: ভারতবর্ষ ১৯৩৯, ১৯৪২, ১৯৪৯, মাসিক বসুমতী ১৯৪৪, মৌচাক ১৯৫০ (১), ৩১ বর্ষ ৮ম সংখ্যা, অগ্রহায়ণ ১৩৫৭, শশিভূষণ বিদ্যালঙ্কার প্রণীত ‘জীবনীকোষ’ ২য় খণ্ড। নগেন্দ্রনাথ বসু সঙ্কলিত ‘বিশ্বকোষ’ ১৩শ খণ্ড। ভারতীয় মহিলা জাদুকর সংক্রান্ত তথ্যের জন্য কৃতজ্ঞতা সমীরকুমার ঘোষ ও শৈলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ।

জনপ্রিয়

Back To Top