‌সত্যম রায়চৌধুরী
ভারতের জনজীবনে কলঙ্কময় সেই অভিশপ্ত রাত ছিল ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২। সাড়ে ৯‌টা বেজে গেছে। তীব্র শীত কুয়াশার চাদর বিছিয়ে রাজত্ব করছে রাজধানীর বুকে। আকাশে ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের লজ্জিত প্রভা। মুনিরকা থেকে দ্বারকায় যাওয়ার রাস্তা প্রায় জনশূন্য। হুসহুস শব্দে একটার পর একটা অটো বেরিয়ে যাচ্ছে তীব্রগতিতে। দক্ষিণ দিল্লির সাকেত মল থেকে ফুটফুটে যৌবনোচ্ছল মেয়েটা বেরোল বন্ধু অভেন্দ্রর সঙ্গে সিনেমা দেখে। জনহীন রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল বাস স্ট্যান্ডে। হাত দেখালেও থামছিল না কোনও অটো। রাত গড়িয়ে চলেছে। বাড়ি ফিরতে হবে। টেনশন বাড়ছে দুজনেরই। দিল্লির রাত নিরাপদ নয়.‌.‌.‌।‌
ঘড়িতে তখন প্রায় পৌনে ১০টা। রঙিন কাচমোড়া চার্টার্ড বাস তাদের সামনে এসে থেমে গেল। বাসটার গায়ে বড় হরফে লেখা ‘‌যাদব’‌। বাস থেকে একজন মুখ বাড়িয়ে জানাল, বাসটা দ্বারকার দিকে যাবে। ওরা যেন স্বর্গ হাতে পেল। পড়িমরি করে বাসে উঠে পড়ল। বাসে উঠে দেখল, তারা ছাড়া আর ছ’‌জন ‘‌যাত্রী’‌ রয়েছে। মনে মনে ভাবল, যাক বাবা, নিশ্চিন্ত।
কিন্তু সত্যিই কি নিশ্চিন্ত হতে পারল তারা?‌ হায়!‌ দুজন কি জানত, তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে বাসের মধ্যে!‌
ওঠার দশ মিনিটের মধ্যেই যাত্রীহীন ফাঁকা বাসে ওই অচেনা লোকগুলো মেয়েটিকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করল। তারা প্রত্যেকেই মাতাল ও অপ্রকৃতিস্থ। মেয়েটির বন্ধু ২৮ বছরের তরুণ, পেশায় সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, প্রতিবাদ করার চেষ্টা করল। সেই মাতালের দল লোহার রড বের করে বেধড়ক পেটাল তাকে। তারপর মেয়েটিকে টেনে নিয়ে গেল বাসের কেবিনের দিকে।
সেখানেই ড্রাইভার, হেল্পার–সহ ছ’‌জন একের পর এক ধর্ষণ করল তাকে। রাতের বুক চিরে তখনও কিন্তু ছুটে চলেছে সেই কলঙ্কিত হোয়াইট লাইনার চার্টার্ড বাসটি। একবারের জন্যেও থামেনি তার গতি।
সেই মুহূর্তে চরম যন্ত্রণা–‌বিদ্ধ অবস্থাতেও মেয়েটি কিন্তু ভয় পায়নি একবারের জন্যও। মেনে নেয়নি, হেরে যায়নি সে। আর তাই ধর্ষিত–‌অত্যাচারিত হতে–‌হতেও তার অন্তিম শক্তিটুকু জড়ো করে প্রতিরোধের চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু তার আর্ত চিৎকার বাসের দেওয়ালেই ধাক্কা খেয়ে মরেছে। কেউ তা শুনতে পায়নি।
সেই আর্ত চিৎকার, ‘‌আমাকে বাঁচতে দাও— আমি বাঁচতে চাই!‌.‌.‌.‌‌’‌
প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তার ওপর অকথ্য নির্যাতনের পরেও বর্বরেরা থামল না। অত্যাচারে তাকে মৃতপ্রায় করে দিল। তার এবং তার প্রায়–‌অচৈতন্য বন্ধুর পোশাক খুলে অর্ধনগ্ন করে দুষ্কৃতীরা চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দিল মহীপালপুর সেতুর ওপর থেকে প্রায় ১৫–‌১৬ ফুট নীচে ঝোপজঙ্গলের মধ্যে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের পাতায় লেখা হল এক নির্লজ্জ রাতের কালো অধ্যায়।
এরপরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে গিয়েছিল। ১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর, মাত্র ১৩ দিনের এক অতিমানবীয় জীবন–‌সংগ্রাম— যার সঙ্গে মিশে গেল সারা দেশের প্রার্থনা, কষ্ট, হতাশা, ক্রোধ। এই নারকীয় ঘটনার বিরুদ্ধে মানুষের ধিক্কার আর ক্ষোভের নজিরবিহীন সমবেত প্রতিবাদে শোনা গেল বিপ্লবের ঘণ্টাধ্বনি। যার পরিধি বিস্তৃত হল দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারেও।
মহিপালপুর সেতুর নীচে ঝোপজঙ্গলের মধ্যে মেয়েটি এবং তার সঙ্গী যুবকটিকে রক্তাক্ত, মারাত্মক জখম অবস্থায় প্রথম পড়ে থাকতে দেখে টোল প্লাজার টহলদারি ভ্যান। তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের গাড়িতে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয় এইমস‌–‌এ। কিন্তু মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় সফদরজং হাসপাতালে। দামিনীর সঙ্গী সেই যুবক রাত সওয়া ১টা নাগাদ বসন্তবিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ধর্ষণের পর মত্ত সেই ছ’‌জন মেয়েটির যৌনাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিল লোহার শিক, গাড়ি মেরামতির যন্ত্রপাতি। পিটিয়ে ভেঙে দিয়েছিল মেয়েটির কাঁধ ও গোড়ালির হাড়। কী তার অপরাধ, না, সে বাধা দিয়েছিল, চরম লাঞ্ছনার মুখে সপাটে চড় কষিয়েছিল এক ধর্ষকের গালে। ১৬ ডিসেম্বর রাতেই তার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা।
বুধবার ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হল। অত্যাচারের সময় দেহের ভেতর লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে ক্ষত–‌বিক্ষত অন্ত্রে সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। ফলে ৬ মিটার লম্বা অন্ত্রের প্রায় পুরোটাই কেটে বাদ দিতে হল।
ইতিমধ্যেই হাসপাতালে তার বাবা–‌মা, পরিবারের সবাই এসে গিয়েছিলেন। ১৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার আগে মাকে প্রথমবার দেখেছিল দামিনী। চেতন–‌অচেতনের মাঝখানে শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ঘোর লাগা দুটি চোখ জলে ভরে উঠেছিল তার। জড়ানো স্বরে কাঁপা কাঁপা হাতটা তুলতে চেষ্টা করে মাকে সে বলেছিল, ‘‌মা, ম্যায় জিনা চাহতি হুঁ’‌।
প্রথম দিকে ওষুধে খুব একটা সাড়া দিচ্ছিল না দামিনী। ক্রমশই অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার অসম যুদ্ধে দাঁতে দাঁত চেপে শুধুমাত্র মনের জোরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল দামিনী। যৌনাঙ্গ–সহ শরীরের বেশ কিছু প্রত্যঙ্গ তখনই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে তার, তবুও অদম্য মনোবল। ওই অবস্থাতেই পুলিশকে বিশদে জানিয়েছে সেই নারকীয় অভিজ্ঞতা। সেই কালো রাত্রির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, যা রেকর্ড হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।
একবার নয়, দু–‌দুবার গোটা ঘটনার জবানবন্দি দিয়েছে সে। তারপর সেই বয়ানে কাঁপা কাঁপা অশক্ত হাতে দৃপ্ত সইও করেছে। সাহস আর মনের জোর কোন সীমাহীন স্তরে পৌঁছোলে এ অসাধ্য–‌সাধন সম্ভব!‌ পৃথিবী নামক ভূ–‌খণ্ডের অধিবাসীদের কাছে এ এক চরম বিস্ময় হয়ে থাকবে চিরকাল।
১৬ ডিসেম্বর রাতে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনটি থেকেই যিনি সর্বক্ষণ মেয়েটির পাশে পাশে থেকেছেন, দামিনীর অবিশ্রাম লড়াইয়ে নিজেও কখন যেন জড়িয়ে গেছেন, সেই ডাক্তার যতীন মেহতা আর তাঁর সহকর্মীরা সকলেই বিস্মিত হয়েছেন বারবার। শরীরের ওই মারাত্মক অবস্থায় কোন দুর্মর সাহসের বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে জবানবন্দি দিতে পারল দামিনী, তা ভেবে বিহ্বল হয়েছেন।
যতীন বলেছেন, ‘‌পৃথিবীর ইতিহাসে এই সাহস— এই সংগ্রামী মনোভাব হয়তো বিরল!‌’‌ মুক্তকণ্ঠে বারবার স্যালুট জানিয়েছেন ওই নির্ভয়াকে। বলেছেন, ‘‌তুমি আমাদের এই ভারতবর্ষের সাহসিকতার প্রতীক হয়ে রইলে।’‌ শুধু চিকিৎসক বা পুলিশ নয়, সারা ভারত সেলাম জানিয়েছে দামিনীকে, অগণিত জনতা নতমস্তকে কুর্নিশ করেছে ভারতকন্যাকে।
প্রথমে দুজন, পরে আরও দুজন এবং শেষে বাকি দুজন, মোট ৬ জন অভিযুক্ত ধরা পড়ল পুলিশের হাতে। অভেন্দ্র পান্ডের বয়ান এবং রাস্তার সি‌সি‌ টিভি–‌র বিভিন্ন ফুটেজ থেকে প্রথমে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। তারপর একে একে অভিযুক্তরা ধরা          পড়ে। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জানান, সেই রাতে ওই বাসের ছয় অভিযুক্তই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। প্রধান অভিযুক্ত ওই বাসেরই চালক রাম সিং। অন্য অভিযুক্তরা হল, রাম সিং–‌এর ভাই মুকেশ, জিম প্রশিক্ষক বিনয় শর্মা, ফল বিক্রেতা পবন গুপ্তা, অক্ষয় সিং ওরফে ঠাকুর নামে একজন, যে দিল্লিতে এসেছিল চাকরির খোঁজে। এবং রাজু নামের একটি কমবয়সি ছেলে। যে নিজেকে ১৮ বছরের কম বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে। যদিও সেদিনের সেই কলঙ্কিত রাতে, তার ভূমিকাই ছিল সব থেকে নির্মম— সব চেয়ে ঘৃণিত।
মাঝখানে সামান্য একটু সুস্থ হয়েছিল মেয়েটি। চিকিৎসায় অল্প অল্প সাড়া দিচ্ছিল। নিজেই শ্বাস–‌প্রশ্বাস নিতে পারছিল। চিরকুটে অল্প লিখতেও পারছিল। বলছিল টুকরো টুকরো কথাও। অবাক হয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। এত মনের জোর!‌ এত সাহস তেইশের তারুণ্যের!‌
অবস্থা একটু স্থিতিশীল দেখে ২১ ডিসেম্বর, শুক্রবার ভেন্টিলেশন থেকে দামিনীকে বের করে আনা হল। আশা জাগল তামাম ভারতবাসীর মনে।
দামিনীর ওই তেরো দিনের লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ— গোটা বিশ্ব। অসহ্য যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছেশক্তি কীভাবে চালু রাখে শ্বাস–‌প্রশ্বাস— দেখেছে অগণিত মানুষ। একটি মেয়ের সঙ্ককটজনক অবস্থার সংবাদ যেভাবে উত্তাল করে তুলেছিল গোটা দেশকে, দেখে অবাক পৃথিবী। তসলিমা নাসরিন তাঁর কলম থেকে কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ ছুড়ে দিলেন নাগরিক চেতনার মূলে। লিখলেন,
‘‌সেই মেয়েটি ইস্কুলে যায়, যাচ্ছে মহাকাশে।
যত্ন করে একুশ শতক তাকেই ছেঁড়ে.‌.‌.‌বাসে।’‌
২৪ ডিসেম্বর থেকেই দামিনীর শারীরিক অবস্থা আবার একটু একটু করে অবনতির দিকে যেতে থাকে। অন্ত্রে সেপসিস বা পচন শুরু হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। ২৫ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার তাকে আবার ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। রক্তকণিকা–‌রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে আসছে তখন। বাইরে থেকে রক্ত, অনুচক্রিকা, প্লাজমা দিতে হচ্ছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অত্যধিক। সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। ওই মঙ্গলবারেই হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তের একটি ক্লট তৈরি হয়, সেটি ফুসফুস পর্যন্ত চলে আসে। এর ফলে প্রায় ৩–‌৪ মিনিট তার কোনও রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় তার হৃদ্‌যন্ত্র। পরপর তিনটি হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপরই বুধবার সন্ধেবেলা গুরগাঁওয়ের মেদান্ত মেডিসিটি হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার স্পেশালিস্ট নরেশ ত্রেহানকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে ডেকে পাঠানো হয়। সঙ্গে ছিলেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট যতীন মেহতা। তাঁরা দেখেন, গত দশ–‌এগারো দিনের মধ্যে তিনটি বড় অস্ত্রোপচারে যদিও তার ক্ষুদ্রান্তের ৯৫ শতাংশই কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবুও অবশিষ্ট অন্ত্র, তলপেট ও যৌনাঙ্গে ভয়াবহ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তখনই তাকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 
২৬ ডিসেম্বর রাতেই দামিনীকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুর।
এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে মেয়েটির সঙ্গে ছিলেন ডাঃ যতীন মেহতা, মেদান্ত মেডিসিটি হাসপাতালের দুজন জুনিয়র ডাক্তার, একজন নার্স এবং সফদরজং হাসপাতালের একজন সিনিয়র ডাক্তার। মোট পাঁচজনের একটি মেডিক্যাল টিম। বাবা বদ্রি সিং, মা আশাদেবী আর ভাই গৌরবকে তড়িঘড়ি পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় সরকার, যাতে তাঁরা যেতে পারেন দামিনীর সঙ্গে।
বিমানে ফুসফুসের অবস্থার বেশ অবনতি হয়। এক সময় রক্তচাপও আর পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন চিকিৎসকেরা আর্টেরিয়াল লাইন করে রক্তচাপ মনিটরে দেখতে শুরু করেন। প্রথমে তাকে ৬০ শতাংশ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল, পরে তা বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়। এরপর বিমানে দামিনীর অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। 
সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে নামার পর দ্রুত তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমেই তার পুরো শরীরটা স্ক্যান করা হয়। তারপর সর্বোচ্চ ভেন্টিলেশন ও অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রাখা হয় তাকে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের প্রধান কেলভিন লোহ–‌এর নেতৃত্বে ওখানকার চিকিৎসক টিমের সঙ্গে ডঃ যতীন মেহতা টিমের জরুরি আপৎকালীন তিনটি দীর্ঘ বৈঠকও হয়।
ঠিক হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা একটু স্থিতিশীল হলে, তবেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হবে। সিঙ্গাপুরের এই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল মাল্টিঅর্গান প্রতিস্থাপনের জন্য বিখ্যাত।
২৯ ডিসেম্বর ভোর ৪.‌৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে, ভারতীয় সময় রাত প্রায় সওয়া ২টোয় এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অনেক দূরের পথে পাড়ি দিল বর্ন ফাইটার ভারতকন্যা। নিভে গেল এক আলোকশিখা। কাঁদল রাজধানী, কাঁদল ভারতবর্ষ, কাঁদল সারা বিশ্ব। শোকের প্রতীক হয়ে, প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওই নির্ভীক মেয়ে নিজের জীবনের বিনিময়ে প্রতিবাদের গণ–‌অভ্যুত্থান জাগিয়ে দিয়ে গেল। দেশজুড়ে ধ্বনিত হল যন্ত্রণার নির্ঘোষ—
'WE ARE ASHAMED—SAVE OUR GIRLS...SAVE OUR SISTERS'‌
শোকের ভাষায় মিশে গেল অপরাধীদের উদ্দেশে ঘৃণার ধিক্কার— 'CRIMINALS SHOULD BE PUNISHED'‌.‌.‌.‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌
‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top