পবিত্র সরকার

সেদিন সন্ধেবেলায় একটু ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল, নিচের বেল বাজল, অর্থাৎ আমাকে নিচে যেতে হবে, কেউ এসেছে। বাড়িতে কেউ এলে, বিশেষত পুরুষ মানুষ এলে আমি খুব একটা সাজগোজ করি না, এমনকী নকল দাঁতের পাটিও পরি না।  ‘কে এসেছেন’ বলে একটা হাঁক দিলাম, তখন কাজের মেয়ে কমলা বলল, এক বুড়ো মতন ভদ্রলোক। ব্যস, আমার সাজগোজের দুশ্চিন্তা গেল, নিচে নেমে গেলাম।  
গিয়ে দেখি, আরেত্তারা, একটা সোফায় স্বয়ং লেনিন একটু হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে আছেন? আমি যে সামনে সেটা তিনি টের পাননি, আমি মুখ দিয়ে ‘এ কী! আপনি!’ বলে অস্ফুট চিৎকার করলাম, তাঁর আচ্ছন্নতা ভেঙে গেল। বললেন, ‘হ্যাঁ, এই ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়লাম একটু। আসলে চতুর্দিকে নানা রকম মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, আমারটাও ভাঙা শুরু হয়েছে সেই বছর চল্লিশ আগে থেকে, আমার নিজের দেশেই, তাই খানিকটা মুক্তি পেয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বেশি অভ্যাস হয়ে যায়।’‌
আমি খবরের কাগজে কলাম লিখি, তাই মাথায় বিদ্যুৎঝলকের মতো কী একটা খেলে গেল। আরে হাতে যখন পেয়েছি তখন লেনিনের একটা সাক্ষাৎকার নিয়ে ফেলি, এবারের কলাম হিসেবে চালিয়ে দেব। তাই বললাম, ‘বসুন বসুন, একটু চা খান। আমরা রাশিয়ার মতো স্যামোভারে চা বানাতে পারি না, তাই এই কেটলির চা খান। সেই ফাঁকে আমি আপনার সঙ্গে দুটো কথা বলি।’ লেনিন একটু হাসলেন, মনে হল তাঁর সম্মতি পেলাম। চা এল, মোটামুটি ভাল দার্জিলিং চা, লেনিন বললেন, ‘বেশ ভাল ফ্লেভার।’  বললেন, ‘কী কথা?’ 
‘আমার প্রথম প্রশ্ন, ভ্লাদিমির ইলিচ্‌ উলিয়ানফ্‌, আপনার মাথায় হঠাৎ বিপ্লবের বাই চাপল কেন? আপনার বাবা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, পরে স্কুলের ইনস্পেক্টরও হয়েছিলেন। মা মারিয়া আলেক্সান্দ্রেভনা মোটামুটি স্বশিক্ষিতা, জার্মান–ফরাসিও জানতেন রুশভাষার পাশাপাশি। ছ ভাইবোনের সংসারকে তিনিই পাখিমায়ের মতো আগলে রাখতেন। আপনি ছিলেন স্কুলের সেরা ছাত্র, শেষ পরীক্ষায় একটা সোনার মেডেলও পেয়েছিলেন। আইনের পরীক্ষায় সব ক-টা পত্রে আপনি প্রথম হয়েছিলেন, প্রথম শ্রেণিতে। আপনার তো ব্যারিস্টার, বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার হওয়ার কথা, আমাদের এখানে ভাল ছেলেরা যা চায়। তা হলে?’ 
লেনিন বললেন, ‘দেখুন, সবাই বিপ্লবী হব, এমন পরিকল্পনা করে জন্মায় না। বিপ্লবের পরিবেশ বিপ্লবী তৈরি করে। আর আপনি তো আমার সম্বন্ধে প্রায়ই সবই জানেন, অনেক বাঙালিই জানে— আপনি তো জানেন আমার দাদা আলক্‌সান্দর উলিয়ানফকে জারের পুলিস ফাঁসি দিয়েছিল, কারণ সে জার তৃতীয় আলেকসান্দরকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। পারেনি, ধরা পড়ে যায়।’‌
‘তাই আপনি কি তার শোধ নেওয়ার জন্যে বিপ্লবী হয়েছিলেন?’ 
‘না, এটা কোনও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, যদিও তারও যথেষ্ট কারণ ছিল। আমার বাবাকে আগে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, তার একটু পরেই বাবা মারা যান। আমার দিদি আনাকেও জারের পুলিস বহুদিন জেলে আর নির্বাসনে রেখেছিল।  আসলে দাদার ফাঁসির সময় আমার বয়েস সতেরো বছর, আপনি জানেন ১৮৭০-এর ১০ (নতুন ক্যালেন্ডারে ২২ এপ্রিল) আমার জন্ম।  কিন্তু স্কুলে পড়তে পড়তে, দাদা সাশার সঙ্গে কথা বলতে বলতে, আমার মনে হয়েছিল আমার দেশের সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না।  তাই আমি পড়তাম,খুব পড়তাম।  খেলাধুলোর চেয়ে, এমনকী পিয়ানো বাজানো বা দাবা খেলার চেয়ে পড়তে আমার ভাল লাগত। যদিও পরে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনের সময় আমি পাখি বা খরগোশ শিকার করেছি, দাবা খেলা আর পিয়ানো বাজানোতেও আমার হাত মন্দ ছিল না। গানও গাইতাম, পরে ক্রুপস্কায়া আর বন্ধুদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে অনেক গান গেয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল, ভোলগার মাঝিদের গান, ফরাসি জাতীয় সঙ্গীত লা মার্সাই। কিন্তু পড়া আমাকে যত টানত এমন কিছুতে আর টানত না।’ 
‘হ্যাঁ, আপনার লাইব্রেরিতে তো রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা–সংক্রান্ত বইও পাওয়া গেছে, এমনকী তাঁর ‘ন্যাশনালিজম’ও বোধহয় আপনি পড়েছিলেন।’  
‘সে তো অনেক পরের কথা। বিপ্লবের পরের কথা। আপনাদের রবীন্দ্রনাথ পড়েছিলাম মূলত ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিরুদ্ধে শিক্ষা নিয়ে তাঁর তত্ত্ব আর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে জানবার জন্য। রবীন্দ্রনাথের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাদের ঠিক কাজটাকে ঠিক বলেই মনে করেছিলেন, ভুল কাজটারও ইঙ্গিত করেছিলেন।  
তবে সাহিত্য ছিল আমার প্রিয় পাঠ্য। তার পর দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন— আইনে তো আমার কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিই ছিল— বিজ্ঞান কি পড়িনি? এই পড়তে পড়তেই মনে হয়েছিল মার্কসের ফয়েরবখের দর্শন–সংক্রান্ত আলোচনার প্রথমেই যে ‘থিসিস’ বা মন্তব্যগুলো আছে তার এগারো নম্বরের থিসিস— ‘এতদিন পর্যন্ত দার্শনিকেরা পৃথিবীকে শুধুই ব্যাখ্যা করে এসেছেন; কিন্তু আসল প্রশ্ন হল পৃথিবীটাকে বদলানো।’ ব্যাখ্যা তো অনেক হয়েছে, নানা রকম, আরও হবে। ভেবেছিলাম, আমার দেশ দিয়েই এই বদলটা শুরু হোক। জানেন তো, আমরা ছয় ভাইবোনের মধ্যে পাঁচজনই ওই ‘রাজদ্রোহী’ হয়েছিল। এক বোন, ওলগা, বড় হওয়ার আগেই মারা যায়।’    
‘আপনি নাস্তিক হলেন কেন তাই বলে?’
‘দেখুন, আমার সোজা প্রশ্ন। ঈশ্বর যদি একজন থাকবেনই, তা হলে দুনিয়াতে এত হিংসা, অত্যাচার, বৈষম্য, যুদ্ধ, ধ্বংস কেন?  আপনাদের দেশে মন্দিরেও সেদিন একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে ধর্ষণ করে খুন কর হয়েছে।  কাগজে এ সব খবর রোজই বেরোচ্ছে।  এগুলো কি ঈশ্বর দেখছেন, সহ্য করছেন?  যদি করে থাকেন, তা হলে তার বিরুদ্ধে আমার লড়াই। আমার বাবাকে এক ভদ্রলোক বলেছিলেন, ছেলে গির্জায় যেতে চায় না তো কী, বেত লাগান, ওর পাগলামি ঘুচবে। আমি সেইদিনই ছেলেবেলা থেকে আমার বুকে ঝোলানো ক্রস ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। তবে এও বলি, সমাজবদলের জন্যে সকলেই আগে নাস্তিক হবে তার পর বিপ্লব, এ অর্থহীন কথা।  দক্ষিণ আমেরিকায় ক্যাথলিক পাদ্রিরা চেষ্টা করছেন সমাজবদলের। আমি ব্যক্তিগতভাবে নাস্তিক থেকে খুশি, এই হল কথা।’  
শুনে আমার হিন্দু রক্ত গরম হয়ে উঠল, কিন্তু বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছেন ভদ্রলোক, তাই মনের ভাব চেপে গেলাম।  
লেনিন বলতে লাগলেন, ‘আমার গ্রাম সিমবির্স্ক আর আশেপাশের গ্রামগুলোর চাষিদের আমি দেখতাম। কী দুর্বহ জীবন কাটাচ্ছে তারা। হ্যাঁ, ভূমিদাস-প্রথা উঠে গেছে অনেকদিন, ১৮৬১ সালে, কিন্তু চাষিদের ওপর গ্রামীণ জমিদার আর জোতদার ‘কুলাক’দের ভয়ঙ্কর অত্যাচার কমেনি, দিনে ষোলো থেকে আঠারো ঘণ্টা খাটতে হত তাদের, মজুরি ছিল নামমাত্র, বাসস্থান আর খাদ্য তাদের যা জুটত তা ভয়াবহ। তাদের মেয়েদের তো ওই জমিদার-জোতদাররা নিজেদের ভোগের সম্পত্তি বলেই মনে করত। আপনারা ম্যাক্সিম গোর্কির আত্মজীবনী নিশ্চয়ই পড়েছেন, তাতে বিপ্লবের আগেকার রাশিয়ার গরিবদের ওই কদর্য জীবনের খবর অনেক আছে।’  
‘এটা জানবেন, আমি দৃশ্যে পৌঁছবার আগেও রুশদেশে বিপ্লবের চেষ্টা বার বার হয়েছে।  ১৮২৫-এর ২৬ ডিসেম্বর জারের সৈন্যবাহিনীর একটা অংশ বিদ্রোহ করেছিল নতুন জার নিকোলাসের বিরুদ্ধে, সে বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।  হতই, কারণ তাতে রুশ জনগণের তেমন যোগ ছিল না। ওই ডিসেম্ব্রিস্টদের বিদ্রোহ হল, ফরাসি–বিদ্রোহের একটি দূরবর্তী আলোড়ন দেখা গেল ১৮৩০ নাগাদ, ১৮৪৮ ইউরোপের বিদ্রোহও রুশ বুদ্ধিজীবীদের উৎসাহিত করল, আবার তার ব্যর্থতায় তাঁরা মুষড়ে পড়লেন। ১৮৬১-তে ভূমিদাসদের মুক্তি কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনল না। রুশদেশে তখন কিছু কিছু কলকারখানা বসছে, শ্রমিকশ্রেণির অভ্যুদয় ঘটছে। নারোদ্‌নিক (‘জনতাপন্থী’) বুদ্ধিজীবীরা প্রথম মার্কস-এঙ্গেলসের মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে কাজ শুরু করেন। আমার দাদা ছিলেন ওই দলে। বিখ্যাত বুদ্ধিজীবী জর্জি প্লেখানফ ছিলেন ওই দলে।’ প্লেখানফ জেনিভাতে থেকে বুদ্ধিজীবীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে নানা মতবিরোধ ছিল। কেউ ভাবতেন রাশিয়াতে পুঁজিবাদ তেমন আসেইনি, তাই বিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণি বলে কিছু নেই। কেউ ভাবতেন থাকলেও মাইনে বাড়ানো, কাজের পরিবেশের উন্নতি এই সব ‘অর্থনীতিবাদী’ আন্দোলনের বাইরে আর কিছু করার নেই।  আমি আর আমার স্ত্রী প্লেখানফের সঙ্গে মিলে ‘ইস্ক্রা’ (স্ফুলিঙ্গ) বলে একটা রুশভাষার পত্রিকা বার করলাম, সেই বিদেশ থেকে। সেটা রুশদেশে শ্রমিকদের হাতে হাতে ঘুরতে লাগল। মনে হল, রাশিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সবগুলো গোষ্ঠীকে এক না করতে পারলে কিছুই হবে না। ঐক্যবদ্ধ পার্টি-সংগঠন না হলে দেশের যে বদলের কথা আমরা বলছি, তা একেবারেই সম্ভব নয়।  দু-হাতে লিখতে লাগলাম।’‌ বলে লেনিন থেমে গেলেন। বললেন, ‘যাঃ, এ আমি কী করছি? আপনাকে পুরো আত্মজীবনী গেলাচ্ছি ! খ্যাপা আর কাকে বলে!’
আমি বললাম, ‘না, না। আমি মূল ঘটনাগুলো ছুঁয়ে যেতে চাই। প্রথম যে ব্যর্থ বিপ্লব হল ১৯০৫-এ, তার আগেই আপনার দল বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক শ্রমিক দল ভাবাদর্শের দিক থেকে দু ভাগ হয়ে গিয়েছিল।  এক দল, যারা মনে করত রুশদেশে পুঁজিবাদ আসেনি, আর চাষিদের দিয়ে বিপ্লব হবে না, তারা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ল, তারা মেনশেভিক, যার মানে সংখ্যালঘু। আর এক দল, যারা শ্রমিকের বিপ্লব সম্ভব বলে মনে করত, তারা সংখ্যাগুরু, ‘বলশেভিক’।  আপনি এই বলশেভিকদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠলেন। প্রথম মহাযুদ্ধে অনেক বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী দেশপ্রেমের ধাক্কায় জারের যুদ্ধকে সমর্থন করল, আপনি মনে করলেন ওই হল বিপ্লবের অমোঘ মুহূর্ত, এখন না হলে কখনওই নয়। ১৯১৭-র গোড়ায় যুদ্ধফেরত ক্লান্ত সৈন্যরা ফিরে এল, কৃষকেরা আর শ্রমিকেরা খেপে উঠল, জারকে তারা সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য করল, নানা শহরে তারা সোবিয়েত বা শ্রমিক আর সৈন্যদের সমিতি গঠন করল, কিন্তু ক্ষমতা তাদের হাতে এল না। কেরেন্‌স্কির নেতৃত্বে মেনশেভিকরা ক্ষমতা দখল করল। কিন্তু নভেম্বরে আপনার বলশেভিক বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের দল তাদের উৎখাত করে রুশদেশের নিয়ন্তা হয়ে বসল।  প্রায় পঁচাত্তর বছর তারা ক্ষমতায় থাকবে।  আপনার মৃত্যু হল ১৯২৪-এর ২২ জুন, কোমায়। তার আগে আপনার কয়েকটা স্ট্রোক হয়েছিল, আপনার কথার সমস্যা হচ্ছিল, ডানদিকটা অসাড় হয়ে গিয়েছিল।’
লেনিন বললেন, ‘বুঝতে পারছি আপনি ব্যস্ত, তাই অনেক লাফ দিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেলেন।  আমার মৃত্যুটা কোনও ঘটনা নয়, মানুষ জন্মালে মরবে। এমনকী আমার স্ত্রীর অপছন্দ ছিল আমার মৃতদেহ সাজিয়ে রেখে প্রদর্শন করা, যা এখনও মস্কোর রেড স্কোয়্যারে গেলে দেখতে পাবেন। ইতিহাসের কথাটা বলি।  ১৯১৮-তে বলশেভিকরা কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপান্তরিত হল, সেটা বলতে পারতেন। হ্যাঁ, একরকম তাই। তবে আমি বলি, আমাদের বিপ্লব মানুষের বিদ্রোহের ইতিহাসের একটা ধারাবাহিকতার অঙ্গ। ইতিহাসে সব বিদ্রোহের কথা লেখেও না। রোমের ক্রীতদাস বিদ্রোহ, ইউরোপে নানা সময়ে কৃষক বিদ্রোহ, ফরাসি বিপ্লব, আমেরিকায় সুতাকল শ্রমিকদের বিদ্রোহ আর মে দিবসের আন্দোলন— সবই আমাদের উত্তরাধিকার।’   
‘কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল?’ আমি একটু চোর-চোর মুখে জিজ্ঞেস করলাম।
লেনিন হাসলেন।  বললেন, ‘বিপ্লব এক জায়গায় থেমে থাকে না, বিপ্লবীর কাছে প্রতিটি মুহূর্তই বিপ্লবের মুহূর্ত। সোবিয়েত গেছে, কিন্তু কোথা থেকে কোথায় সে পৌঁছেছিল তা একবার ভেবে দেখুন। চীন এখনও টিকে আছে, কুবা আছে। অনেক ভুলভাল হয়েছে প্রয়োগে, কিন্তু বিশ শতকের প্রথম দিককার সেই হতচ্ছাড়া দেশটাকে আর খুঁজে পাবেন না পূর্ব ইউরোপ আর এশিয়াজুড়ে। আর একটা কথা। আপনি কি মনে করেন পৃথিবীতে বিপ্লবের দরকার ফুরিয়ে গেছে? সবাই সুখে আছে, শান্তিতে আছে? আপনার দেশে তো গণতন্ত্র চলছে সত্তর বছর ধরে। এখনও ‘অচ্ছে দিন’-এর কথা বলতে হচ্ছে কেন? যাই হোক, আপনার এখানে একটু বসলাম, ভাল লাগল। এবার আসি।’ 
 ‘এখন কোথায় যাবেন?’  
‘জানি না কোথায়? আপনাদেরই একজন লেখক, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়— আমারই সমসাময়িক প্রায়— লিখে গেছেন এক ‘ভূমিকম্প-বুড়ো’র কথা— সেটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল। সে লোকটা মাটির তলা দিয়ে যাতায়াত করত, আর এখানে-ওখানে মাটি ফুঁড়ে উঠে ভূমিকম্প ঘটাত। আমাকেও এক সময়ে লোকে সেই রকমই মনে করত।  জানি না এখন সেটা পারব কিনা। কিন্তু পৃথিবীতে ভূমিকম্পের প্রয়োজন তো এখনও ফুরিয়ে যায়নি।’‌‌‌‌‌ লেনিন হাসলেন।  বললেন, ‘বিপ্লব এক জায়গায় থেমে থাকে না, বিপ্লবীর কাছে প্রতিটি মুহূর্তই বিপ্লবের মুহূর্ত। সোবিয়েত গেছে, কিন্তু কোথা থেকে কোথায় সে পৌঁছেছিল তা একবার ভেবে দেখুন। চীন এখনও টিকে আছে, কুবা আছে। অনেক ভুলভাল হয়েছে প্রয়োগে, কিন্তু বিশ শতকের প্রথম দিককার সেই হতচ্ছাড়া দেশটাকে আর খুঁজে পাবেন না পূর্ব ইউরোপ আর এশিয়াজুড়ে। আর একটা কথা। আপনি কি মনে করেন পৃথিবীতে বিপ্লবের দরকার ফুরিয়ে গেছে? সবাই সুখে আছে, শান্তিতে আছে? আপনার দেশে তো গণতন্ত্র চলছে সত্তর বছর ধরে। এখনও ‘অচ্ছে দিন’-এর কথা বলতে হচ্ছে কেন? যাই হোক, আপনার এখানে একটু বসলাম, ভাল লাগল। এবার আসি।’ 
 ‘এখন কোথায় যাবেন?’  
‘জানি না কোথায়? আপনাদেরই একজন লেখক, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়— আমারই সমসাময়িক প্রায়— লিখে গেছেন এক ‘ভূমিকম্প-বুড়ো’র কথা— সেটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল। সে লোকটা মাটির তলা দিয়ে যাতায়াত করত, আর এখানে-ওখানে মাটি ফুঁড়ে উঠে ভূমিকম্প ঘটাত। আমাকেও এক সময়ে লোকে সেই রকমই মনে করত।  জানি না এখন সেটা পারব কিনা। কিন্তু পৃথিবীতে ভূমিকম্পের প্রয়োজন তো এখনও ফুরিয়ে যায়নি।’‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top