সৌমেন সরকার:

যেতে চাই বৃন্দাবন পথ দেখাবে কে।
কেকা রবে কোকিল ডাকে
পথ এদিকে না ওদিকে।
পথ দেখাবে কে॥‌‌
ন্দাবনের পথ খুঁজে সারা জীবন কেটে যায়। তবু পৌঁছোনো হয় না। যমুনার কলতান শোনা যায়। বংশীধ্বনি ভেসে আসে। কোকিল আর ময়ূরে কোনও ভেদ নেই সেখানে। তবু হৃদি– বৃন্দাবনে পৌঁছোনো হয় না। ভক্তমনের আক্ষেপ ঝরে পড়েছে এ–গানে। মকরসংক্রান্তিতে জয়দেবের মেলায় দাঁড়ালে এমন সব গানের নির্ঝরে ভেসে যেতে হয়। আট শতাব্দীর প্রাচীন বাউল মেলা। বাংলার প্রাচীনতম লোক উৎসব। ডুগি, খমক, আনন্দলহরী, একতারা, দোতারার ঝঙ্কারে পৌষসংক্রান্তিকে ঘিরে তিনদিনের ভরা যৌবন, প্রাণের তুফান অজয়ের চরে বীরভূমের কেন্দুলিতে জয়দেব মেলায়। সত্যিই, না দেখলে বিশ্বাস হয় না। বোঝা যায়, বাংলার প্রাণশক্তির শিকড় কত গভীরে। বাউলের প্রতিবাদী সত্তা আর শিল্পীসত্তা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এখানে।
বোলপুরের অদূরেই কেন্দুলি। ঘণ্টাখানেকের পথ। মেলার সময় দিনরাত বাস। বিরামহীন। প্রাচীন নাম কেন্দুবিল্ব। একপাশে টেরাকোটা–‌শোভিত জয়দেবের ভিটে এবং মন্দির। কেমন যেন অপার্থিব পরিবেশ। অজয়ের বুকে বিস্তীর্ণ বালুচর। অসংখ্য আখড়া। ছোট, বড়, মাঝারি। সেখানে চলে অবিশ্রান্ত গান। গাছতলায় গাইছে, নাচছে বাউল। আপনভাবে মাতোয়ারা। বিস্তীর্ণ মেলার সর্বত্র এক মহাপ্লাবন। দেহবিভঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সুরের পাখি ডানা মেলছে আকাশে। জয়দেবের মাটিতে না দাঁড়ালে একে বোঝা যায় না।
মন্দির–‌মসজিদকে একপাশে সরিয়ে, জাতপাতে বিদীর্ণ সমাজকে অস্বীকার করে, অসাম্য আর অবিচারের বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করে মানুষের ধর্মের যে জয়গান গেয়েছে বাউল–ফকিররা— ইহাবাদী, দেহবাদী, জীবনমুখী যে দর্শন গড়তে চেয়েছে— জয়দেবের মহামেলা তো তারই ছবি। তারই অপ্রতিহত রূপ। যুগ যুগ ধরে বাংলাকে ‌সুঘ্রাণে সিঞ্চিত করেছে, সাম্প্রদায়িকতার বিষ থেকে রক্ষা করেছে লোকসাধকদের এই বোধি। অথচ তারা নিজেরাই অন্ত্যজ। ব্রাত্য এবং অবহেলিত হয়েও তাদের এই ভূমিকা অপার— বিস্ময়ের কোনও প্রশংসাই সেখানে পৌঁছোয় না। একে সেলাম জানাতে হয়।
জয়দেব ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি। দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগের কথা। প্রাক–‌চৈতন্য যুগের সুললিত সংস্কৃত কাব্য গীতগোবিন্দমের রচয়িতা। রাধাকৃষ্ণের প্রেমাভিসারই এখানে উপজীব্য। শোনা যায়, গীতগোবিন্দমের পাঠ শুনতে শুনতে ভাবসমাধি হত শ্রীচৈতন্যের।
জয়দেব এবং তাঁর সাধনসঙ্গিনী পদ্মাবতীকে ঘিরে এই মেলার উৎসব। বাউলগানের পাশাপাশি তাই ঢল নামে কীর্তনের। পালাকীর্তনে অংশ নেন আত্মনিবেদিত শিল্পীরা। জয়দেব মেলা যেন জীবনের এক দর্পণ। কত কিছুই না সঙ্ঘটিত হচ্ছে এখানে। নানা পর্দা, নানা পরতে নিজেকে মেলে ধরেছে এই মেলা। তিনদিন, তিনরাত ধরে প্রায় সব আখড়ায় চলে রান্না। অন্নসেবার আয়োজন। সকলের আমন্ত্রণ তাতে। গরম ভাত, ডাল, তরকারির সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ধনী–দরিদ্র, হিন্দু– মুসলমান, জাত–অজাত সবাই একসঙ্গে বসে পঙ্‌ক্তিভোজনে। গরম ভাতের টানে চল্লিশ–‌পঞ্চাশ কিমি পথ পেরিয়ে কোলেকাঁখে বাচ্চা আর হাতে অ্যালুমিনিয়মের থালা নিয়ে ছুটে আসে ভিখিরি মা এবং নিঃসহায় বৃদ্ধবৃদ্ধারা। বাসে, ভ্যানরিকশায় আর পায়ে হেঁটে ছুটে আসে এরা। তিনদিন পর আবার ফিরে যাওয়া।
রসকলি আর কমললতারা ইতিউতি ঘোরে। মালাচন্দনে কেউ বাঁধা পড়ে। একসঙ্গে ঘরে ফেরে দুজনে। কারও বা ঘর ভাঙে। নতুন ‘‌রাধা’‌র সন্ধান পেয়ে বউকে ছেড়ে কেউ পালায়, একা ঘরে ফেরে বউ। কিংবা, ফেরে না। তিনদিন পর লাখো মানুষ ফিরে গেলে ফের নিস্তরঙ্গ গ্রাম হয় কেন্দুলি। ভরাযৌবন থেকে বিগতযৌবনা। অজয়ের জলে পুণ্যস্নান সেরে ঘরে ফেরে মানুষ।‌ অজয়ের বুকে ঠিকরে পড়ে সূর্যের আলো, চাঁদের কিরণ। সব কিছুর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে অজয় আর তার বিস্তীর্ণ বালুচর। ঘুমহারা, অতন্দ্র প্রহরীর মতো।
কেন্দুলির মেলায় রচিত হয় গভীর গানের বাতাবরণ। অন্যত্র, যার দেখা মেলে না।
তোমার পথ ঢেকেছে মন্দিরে–‌মসজিদে।
আমি কেমনে সেথা যাই রে।
যেদিকে যাই যেদিক তাকাই।
আমার পথ আটকায় রুখে দাঁড়ায়
গুরুতে–‌মুরশেদে॥‌
কিংবা, সহজ মানুষ ভজে—
দেখ না রে মন দিব্যজ্ঞানে।
পাবি রে অমূল্য নিধি বর্তমানে॥‌
দুই দ্যোতক গান সরাসরি আমাদের বিষয়ের গভীরে নিয়ে যায়। ‘‌সহজ মানুষ’–‌এর খোঁজেই বাউলের পথচলা। ধর্মের গণ্ডিতে তাকে বাঁধা যায় না। জীবন ফুরোয় তবু পথ ফুরোয় না। সহজ মানুষ বা মনের মানুষের বাস দেহভাষ্যে। সব প্রচলের বিরুদ্ধেই তার জেহাদ। প্রতিবাদের মাটিতেই বাউলের জন্ম। প্রতিবাদেই লালিত হতে চেয়েছে। পোশাকে–‌আশাকে, জীবনচর্যায় বাউল এক মূর্তিমান প্রতিবাদ। প্রথম গানে ধর্মের বিভাজন, মতপথের সঙ্ঘাতের‌ বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ— লালনের বিখ্যাত দ্বিতীয় গানটি যেন তার পরিপূরক।
বেদব্রাহ্মণ, কোরান–‌পুরাণ, মোল্লা, মৌলবি— সব প্রাতিষ্ঠানিকতাকে একপাশে সরিয়ে মানুষকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে এক জীবনমুখী দর্শন গড়তে চেয়েছে তারা। সমন্বয়ই তার মূল সুর। অনুমান নয়, বর্তমানেই মুক্তি খুঁজেছে। ‌আস্থা রেখেছে মানুষের চৈতন্যে। মানুষের মধ্যেই আশ্রয় পেতে চেয়েছে। ঘুম ভাঙাতে চেয়েছে মূকবধির সমাজের। শুধু মৌলবাদ, ভোগবাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে তারা। মানুষকে দেখেছে চৈতন্যের আধার হিসেবে। যা শুধু তার নিজের নয়, গোটা সমাজের রূপান্তর ঘটাতে পারে। একই রজঃবীজে যখন মানুষের সৃষ্টি, তখন মানুষের জাত থাকবে কেন?‌ অরসিকের কাছে নিজেদের দর্শনকে অনাবৃত না করে রূপক–‌প্রতীকে ঢেকেছে তাকে। অন্তরমহল খুলেছে শুধু রসিকজনের কাছে। এ–‌ও তো প্রতিবাদেরই নামান্তর।
মনে পড়ে এক প্রবীণ বাউলের কথা।
‘‌মানুষই শুরু, মানুষই শেষ বুঝলে বাবা। মাতৃগর্ভে থাকার সময় যার শ্বাসে শ্বাস, যার আহারে আহার, যার নিরাপদ আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা— সেই মা–‌ই তো আমাদের প্রথম ঋণ। মানুষের সঙ্গেই জীবনভর পথচলা। মানুষের মিছিলে পথহাঁটা। বিদায়লগ্নে যে মানুষটা জানাজা পড়ে কিংবা নাভিকুণ্ড খুঁজে দেয়— তার কাছে শেষ ঋণ। মানুষ ছাড়া গতি নাই গো।’‌ চমকে উঠেছিলাম। সত্যিটা এমন করে কেউ বলেনি তো আগে!‌ আরেক সাধক বাউল বলেছিলেন, ‘‌জীবন তো চেতনের খেলা। তারপর অচেতন। সেখানে যখন কোনও ভেদ নেই, দু’‌দিনের চেতন জগতে তখন এত ভেদ কেন?‌ কেন এত লাঠালাঠি?‌’‌ অস্তিত্বের মূলে নাড়া দেয় এ–সব কথা। অথচ, কী অবলীলায় বলা। এখানেই আছে লোকদর্শনের প্রাণশক্তি। তার প্রাণভোমরাও রয়েছে এখানে। আসলে, প্রতিবাদ এবং সাধকসত্তা এমনভাবে মিশে গেছে বাউল–‌ফকিরে যে তাদের আলাদা করা যায় না। লালন ফকির তো সমাজলগ্ন সাধকের এক দীপ্র প্রতিচ্ছবি।
দুই সমাজের কাছেই ব্রাত্য হয়েছিলেন লালন। গ্রামের এক কোণে হয়েছিলেন প্রান্তবাসী। সারা জীবন কাউকে নিজের জাতিপরিচয় দেননি। মৃত্যুর পর জানাজা বা মন্ত্রোচ্চারণ— কোনওটাই চাননি। কুষ্ঠিয়ায় লালনের সমাধি আজ পরিণত হয়েছে মাজার শরিফে। এ–‌সব তো আজ ইতিহাস। বলা উচিত ইতিহাসের প্রহসন।
বাউলগান প্রকৃত অর্থেই নিজেদের মুখোমুখি দাঁড় করায় আমাদের। সেই লালনেরই হাত ধরতে হবে আমাদের।
খ্যাপা, তোর আপন খবর
না দেখে তুই যাবি কোথা
ও তুই কূল হারাবি মূল হারাবি
মিছেই ঘুরে মরবি ধাঁধায়॥‌
জয়দেব মেলায় হঠাৎ কানে আসে লালনেরই আরেক গান। দুর্লভ মানবজনমের গান।
এমন মানবজনম আর কী হবে।
মন যা কর ত্বরায় কর এই ভবে॥‌
বাউলসাধনা দেহযোগাত্মক। প্রকৃতি–‌পুরুষের সাধনা। রজঃবীজের অন্তসম্পর্ক নির্ণয়ের সাধনা। সাধনসঙ্গিনী তাই অপরিহার্য। অবাধ যৌনাচারের বা ব্যভিচারের কোনও স্থান নেই এখানে। কামকে প্রেমে রূপান্তরের সাধনাই তারা করে। গুরুনির্দেশিত পথে, করণকৌশল আয়ত্ত করে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে, দেহমনে পূর্ণ কর্তৃত্ব এনে এই সাধনা করতে হয়। একদল মানুষ চিরদিনই দেহবাদী সাধনার অপব্যবহার করেছে। বাউলদর্শনও তার অন্যথা নয়। কাম পরিতৃপ্তির বদলে পুরুষ–‌প্রকৃতির উল্টো সাধনই বাউল মতের লক্ষ্য। এতে কাম কমে আসে। নানা অন্তঃশ্রাবী রসের প্রতিক্রিয়ায় এমনটা ঘটে বলে বাউলদের দাবি। এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা অবশ্য এখনও মেলেনি। এ‌ও তো প্রচলের বিরুদ্ধে জেহাদ।
তিনদিনের মহাযোগ, রসরতি তত্ত্ব, রূপস্বরূপ তত্ত্ব— এগুলো সবই আমাদের নিয়ে যায় বাউলদের গূঢ় সাধনজগতে। চন্দ্রসাধনও আছে বইকি। সবই দেহযোগাত্মক সাধনা। নাগরিক মানসিকতা দিয়ে এদের বিচার করলে হবে না। দেহের রহস্যকে জানতে হলে প্রথাগত মানসিকতার বাইরে এসে অনুভবদীপ্ত ও মননদীপ্ত বোধের দিকে হাত বাড়াতে হয়।
নানা দুরারোগ্য ব্যাধি নিয়ে অগণিত মানুষ আসে জয়দেব মেলায়। তাদের বিশ্বাস, মকরসংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে অজয়ের জলে স্নান করলে ব্যাধি নিরাময় হবে। এই বিশ্বাস চালিত করে তাদের। গোটা মেলা ম–‌ম‌ করে পাকা কলার গন্ধে। সদ্য কাটা কলার কাঁদি জড়ো করা থাকে একধারে। চাঁপা কলা, কাঁঠালি কলার মনমাতানো গন্ধ মেলাকে অন্য দ্যোতনা দেয়। মানুষ আর প্রকৃতি যেন একাকার হয়ে যায়। একটা কথা প্রচলিত আছে বাউল সমাজে। যে বাউল জয়দেবের মাটিতে দাঁড়িয়ে মানুষজনকে আপ্লুত করেনি, আকাশ–‌বাতাসে ঢেউ তোলেনি, তার সবটুকু ঢেলে দিতে পারেনি— তার বাউলজীবনে সার্থকতা আসেনি। এটাই বোধহয় শেষ কথা।‌‌
‌বাউল–‌ফকির অন্তরমহলে ঢুকতে হলে দেহভুবনেই ফিরতে হবে আমাদের। এই দর্শনের দীপ্ত বৈভব তার দেহতত্ত্বের গানে। রহস্যে ঘেরা, গূঢ় এক জগৎ ধরা পড়েছে এখানে। বাংলা গানের মূল স্রোতের পাশাপাশি কখনও প্রকাশ্যে কখনও গোপনে সুন্দর অতীত থেকে বয়ে এসেছে দেহতত্ত্বের গানের এক সজীব ধারা। রূপক, প্রতীকের আড়ালে এখানে গোপন রাখা হয়েছে সাধনতত্ত্বকে।‌ এই গান এক বহুমাত্রিক ভাণ্ডার। কাম, প্রেম, সম্ভোগ, নিষ্কামী হওয়ার সাধনা, বিন্দুধারণের রহস্য, রজঃবীজের গতিপ্রকৃতি, রজঃস্রোতে মীনরূপে অধর মানুষের আবির্ভাব, শ্বাসপ্রশ্বাস বা হাওয়ার খেলা নিয়ন্ত্রণ— সব পর্দাই উদ্ভাসিত এখানে। দেহকে বাদ দিয়ে নিজেকে জানা যাবে কী করে?‌ দেহতত্ত্ব তাই এগিয়েছে নানা বাঁকে। বিচিত্র, বর্ণময় তার রূপ। দেহজমি, দেহঘর, দেহতরী, দেহনদী, তার ঝড়তুফান যেমন এসেছে— তেমনই এসেছে গভীর স্রোত, বাঁকানদীর পিছল ঘাট, তন্ত্রের ধারণা ‘‌ত্রিবেণী’‌, কুমিরের প্রতীকে কাম, জোয়ারভাটার প্রতীকে রজঃপ্রবাহ, দেহের চাঁদের বিভিন্ন কলা, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ইত্যাদি। ফসল, খেত, সার, বীজ, হাল, লাঙল, ঢেঁকি, মরাই ইত্যাদি রূপকল্প— একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনের নিবিড় বাতাবরণ গড়েছে, অন্যদিকে তেমনি এইসব জীবনসম্পৃক্ত সামগ্রীতে প্রতিফলিত হয়েছে অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত নানা প্রশ্নের জবাব। বাউলরা কায়াবাদী এবং তাদের দর্শন দেহনির্ভর বলেই এত সহজে অসাম্প্রদায়িকতার মূলে পৌঁছোতে পেরেছে। মাতৃশক্তিকে কী দারুণ সম্ভ্রমের আসনে বসিয়েছে এই দর্শন। মহীয়সী মর্যাদা পেয়েছে প্রকৃতি বা নারী। ভোগের উপকরণ নয়, সৃষ্টির চিরপ্রবাহিণী স্রোত এবং পুরুষের নিয়ন্তা হিসেবে নারী এখানে প্রতিষ্ঠিত। দেহতত্ত্বের গানে প্রতিবাদী বাউল একইসঙ্গে আনত এবং সমর্পিত।
বাউলদের বিশ্বাস, নারীদেহে রজঃপ্রবৃত্তির প্রথম তিনদিনে অধর মানুষের পূর্ণ উপস্থিতি ঘটে। প্রকৃতির রজে খেলা চলে তার। চতুর্থ দিনের শেষে আবার স্বস্থান বা ‘‌সহস্রার’‌–‌এ ফিরে যাওয়া। অধরের সান্নিধ্যে আসার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। এই তিনদিন কামরহিত দেহমিলনে তাকে পাওয়া যায়।
গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে, সবুজ শ্যামলিমায় ঘেরা নানা জনপদে অগণিত শিল্পী ঐতিহ্য রক্ষায় আজও নিবেদিতপ্রাণ। ঋদ্ধ পরিবেশনে, ভাবের গভীরতায় মাতাচ্ছেন এঁরা। লোকগান ক্রমশই যখন পণ্য হয়ে উঠছে, পরিণত হচ্ছে নাগরিক বিনোদনে— এঁরাই তখন আশার আলো দেখাচ্ছেন। বাংলার চিরায়ত সম্পদকে বাঁচাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এঁরা। একতারা, দোতারা, ডুগি, খমক আর বাঁশিতে যে মদিরতা ছড়াচ্ছেন, দেহবিভঙ্গে যে সম্পৃক্তি গড়ছেন তাঁরা— তাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। ভরসা জোগাচ্ছেন এঁরাই। ■

ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top