রনিত দাশগুপ্ত: সে কি? আপনি কোনওদিন ভূত দেখেননি?
একটু ভাল করে মনে করে দেখুন তো। কি? মনে পড়ল? কালীপুজোর সময়? তখন বেশিরভাগ প্যান্ডেলেই তো তাদের দেখা পাওয়া যায়। 
ভূত-পেত্নি-ডাকিনী-যোগিনী-শাকচুন্নি, কে থাকে না কালীপুজোয়! মণ্ডপে কালীমূর্তির পাশে তাদেরও জায়গা। কখনও আবার প্যান্ডেলের বাইরের সাজসজ্জায়ও।
আরও বেশি করে এদের দেখা পেতে চান? তা হলে কালীপুজোর কয়েকদিন আগে আপনাকে আসতে হবে কুমোরটুলি।
তবে কালীপ্রতিমার সঙ্গে থাকলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এদের কোনও মৃৎশিল্পী তৈরি করেন না। কুমোরপাড়ায় বসবাসকারী কিছু আঞ্চলিক ছেলেদের হাতে এরা তৈরি। এই সব ছেলে কেউ স্কুল-কলেজে পড়ছে, কেউ চাকরি করছে। বছরের এই সময়ে তারা সবাই মিলে নেমে পড়ে ভূত-পেত্নি-ডাকিনী-যোগিনীদের বানানোর জন্য। আবার এমন মানুষও আছেন যিনি সারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই কাজ করে সন্ধেবেলায় গঙ্গার ঘাটে ঘটি গরম বিক্রি করেন।
তা হলে এনারা এই কাজ শিখলেন কোথা থেকে? এনাদের থিওরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল দুটো জ্ঞানই এই কুমোরপাড়া থেকেই পাওয়া। অন্য শিল্পীদের মূর্তি তৈরির কাজ দেখে দেখে আর ছোটবেলা থেকে দীর্ঘদিন নিজেরা এসব বানাতে বানাতে কাজ শিখেছে।
দুর্গার ভাসানের পরে গঙ্গা থেকে তুলে আনা লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিকের খড়ের বেশ কিছু মূর্তি কিনে নেন কিছু এই কারিগরেরা। তারপর সেই খড়ের মূর্তির কাঠামোগত অনেকটা পরিবর্তন করে ডাকিনী-যোগিনীদের বানানো হয়। অনেকে আবার ব্যবহৃত মূর্তি না নিয়ে পুরোটা নতুন করেই তৈরি করেন। কিছু ডাকিনী-যোগিনীদের মুখের জন্য আছে আলাদা ছাঁচও।
দামেরও তারতম্য আছে। ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে এদের। আর প্রায় সবগুলোই জোড়ায় বিক্রি হয়।
ভূত-পেত্নি-ডাকিনী-যোগিনীদের চাহিদা বেড়ে চলছে ফি বছর। কিছু পুজো কমিটি যারা আগে এদের নিত, হয়তো এখন আর নেয় না। তবে এখন পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন প্রজন্ম যে পুজোর সঙ্গে যুক্ত, সেখানে এদের চাহিদা বেশি। অনেক সময় জোগানও দেওয়া যায় না।
কিন্তু কুমোরটুলির শিল্পীরা কেন এদের তৈরি করেন না? একজন জানালেন, শিল্পীরা এদের বানালে, এরা দেখতে সুন্দর হবে, ফিনিশিং ভাল হবে। কিন্তু সেরকম ডাকিনী-যোগিনী-ভূত-পেত্নিদের সচরাচর কেউ চায় না। তাই মৃৎশিল্পীরা বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়া এগুলো বানান না।
কিন্তু মণ্ডপে মণ্ডপে মূর্তির নিচে প্রতিমার মৃৎশিল্পীর নামই লেখা থাকে। কালীপুজোর বিশেষ এই অঙ্গ যাঁরা তৈরি করেন, সেই ভূত-পেত্নি-ডাকিনী-যোগিনীর শিল্পীর নাম কোথাও লেখা থাকে না। ■

 

ছবি:‌ অমিত ধর

জনপ্রিয়

Back To Top