অংশুমান কর: অবস্থা অতি কাহিল। বাজার আনতে দেওয়ার মতো নগদ পয়সা নিজের হাতে নেই।’‌ ১৬ এপ্রিল ১৯৫৬-তে, প্রয়াণের মাত্র কয়েক মাস আগে, ডায়েরিতে লিখেছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। কপর্দকহীন অবস্থায়, দারিদ্র‌্য আর রোগভোগের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন মানিক তা নিয়ে লেখালেখি হয়েছে বিস্তর। বাংলা সাহিত্যে সদ্য কলম ধরেছেন যে যুবা বা যুবতী— তাঁরাও এ বিষয়ে সম্যক জানেন। আমরা সকলেই জানি। কিন্তু, তবু মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, আর কোনও কবি-লেখকের যাতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পরিণতি না হয়, সেজন্য আমরা তেমন কিছু করে উঠেছি কি?

এই প্রশ্নটির সামনে দাঁড়িয়ে কখনও কখনও মনে হয়, বাংলা সাহিত্যে দারিদ্র‌্যের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ বুঝি বা এক মিথ্যে, অলীক কৌলীন্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যার শুরু শ্রীমধুসূদনের প্রয়াণের মধ্যে দিয়ে। ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের জনকও তো কপর্দকহীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন! তাঁকে যখন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (যে হাসপাতালে সে সময়ে ইউরোপিয়ান ছাড়া অন্য কারও চিকিৎসা হত না) তখন আর তাঁকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। মধুসূদনের দারিদ্র‌্যের জন্য অবশ্য অনেকেই তাঁর অমিতব্যয়ী স্বভাবকে দায়ী করেন। ঠাটে-বাটে কাটানো তাঁর জীবন, বেহিসেবি খরচ করার অভ্যাস, অপরিমেয় বন্ধু-বাৎসল্য— এ সব তাঁর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছিল— এমনটা অনেকেই বলে থাকেন।  ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে ফেরার পর তিনি কীভাবে জীবনযাপন করতেন তার একটি খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় নগেন্দ্রনাথ সোম-এর ‘মধুস্মৃতি’–তে। শ্রীসোম লিখছেন:‌ ‘‌স্পেন্‌সেস্‌ হোটেলে মাইকেল মধুসূদন একাকী বাস করিতেন; কিন্তু তিনখানি বড় বড় ঘর তাঁহার অধিকৃত ছিল। তিনি বন্ধুবান্ধবদিগকে সতত পানভোজনে পরিতৃপ্ত করিতেন। দেশী, বিলাতী, যিনি যেরূপ খানা খাইতেন, তিনি তাঁহাকে সেইরূপ খাদ্যদানে তৃপ্ত করিতেন। তাঁহার মদ্যের ভাণ্ডার (cellar) সতত উন্মুক্ত ছিল।’‌ তবে সবসময় যে অমিতব্যয়ী জীবনযাপনের জন্যই মধুসূদন আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন তাও ঠিক নয়। যেমন ১৮৬২ সালের ৯ জুন ‘ক্যান্ডিয়া’ জাহাজে চেপে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি আর্থিক সঙ্কট থেকে নিজেকে অনেকখানি মুক্ত করতে পেরেছিলেন। ১৮৬০ সালে জ্ঞাতিদের বিরুদ্ধে মামলা জিতে তিনি পিতৃসম্পত্তি উদ্ধার করতে পেরেছিলেন। ক্ষেত্র গুপ্ত লিখছেন:‌ ‘‌খিদিরপুরের বাড়ি তিনি সাত হাজার টাকায় বিক্রয় করলেন কবি রঙ্গলালের ভাই হরিমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সুন্দরবনের ভূসম্পত্তি মহাদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী মোক্ষদা দেবীকে পত্তনী দিলেন। চুক্তি হল, তাঁরা চার দফায় মোট তিন হাজার টাকা য়ুরোপে পাঠাবেন। এবং কবির স্ত্রীপুত্রকে কলকাতায় মাসিক দেড়শতটাকা হিসেবে দেবেন। এই চুক্তির প্রতিভূ ছিলেন বিখ্যাত রাজা দিগম্বর মিত্র এবং কবির পিসতুতো ভাই বৈদ্যনাথ মিত্র।’‌ এই চুক্তির শর্ত কিন্তু রক্ষা করা হয়নি। ফ্রান্সে থাকাকালীন মধুসূদন নিদারুণ অর্থকষ্টের মুখোমুখি হন। বিদ্যাসাগরকে এই সময় বেশ কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তার প্রথমটিতে তিনি নিজের এই ভাগ্যবিপর্যয়ের জন্য স্পষ্টতই দায়ী করেছিলেন ‘Babu D—’কে।  চিঠি পেয়ে বিদ্যাসাগর নিজে তো দেড় হাজার টাকা তৎক্ষণাৎ পাঠিয়েছিলেনই, পরে বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ধার করে বিশাল অঙ্কের টাকা পাঠিয়ে সে যাত্রা মধুসূদনকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন। দেশে ফেরার পর মধুসূদনের ব্যারিস্টারির পসার যে একদম জমেনি তা নয়। যে ক’টি চাকরি করেছিলেন, সেই সময়ের বিচারে মাইনেপত্রও খারাপ ছিল না। ১৮৭০ সালে যখন তিনি হাইকোর্টের প্রিভি কাউন্সিল আপিলের অনুবাদ বিভাগে পরীক্ষকের কাজে যোগ দেন তখন তাঁর মাইনে ছিল হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।  কিন্তু এই টাকায় যে জীবন তিনি যাপন করতেন তার জন্য যথেষ্ট ছিল না। হেনরিয়েটা ততদিনে পুত্রকন্যা–সহ দেশে ফিরে এসেছেন। হোটেল ছেড়ে মধুসূদন লাউডন স্ট্রিটে যে বাগান ঘেরা দোতলা বাড়ি ভাড়া করলেন, তার মাসিক ভাড়াই ছিল চারশো টাকা।

এদিক থেকে মধুসূদনের সঙ্গে অবশ্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও তুলনাই চলে না। ১৯৩৭ সালে কিরণকুমার রায় সম্পাদিত ‘বঙ্গশ্রী’ (মাসিক ও সাপ্তাহিক) পত্রিকার সহকারী সম্পাদক পদে যখন মানিক যোগ দেন তখন তাঁর বেতন ছিল সাকুল্যে ৭৫ টাকা। বিএসসি পরীক্ষায় দু’বার অকৃতকার্য হওয়ার পরে যেহেতু প্রথাগত পড়াশোনাতেও ইতি টেনেছিলেন তাই তাঁর পক্ষে অন্য কোনও ধরনের কাজ করা সম্ভবও ছিল না। দু’টি বিষয়ে মধুসূদনের সঙ্গে তাঁর অবশ্য মিল ছিল। মদ্যপান আর আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। শোনা যায় যে, ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়েও তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে মদ্যপান করতেন। সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর নিজের অভাব–অনটন ভুলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘‌সুকান্তকে স্মরণ করে আমি ‘স্বাধীনতার’ আর্থিক সচ্ছলতা যতদিন না হবে ততদিন ‘পরিচয়ে’ লেখার জন্য যা মজুরি পাই ‘স্বাধীনতা’ তহবিলে জমা দেব’‌। অতিরিক্ত মদ্যপান কেন করেন তার একটি উত্তর মানিক, সম্ভবত, দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর একটি কবিতায়, যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘‌মানুষ হয়ে মদ কেন সে খায়?/মানুষ যদি মানুষ হয়ে বাঁচার উপায় পায়/অমানুষের মরার মতো মদ সে কভু খায়!’‌ কী নিদারুণ স্বীকারোক্তি! এ এক এমন স্বীকারোক্তি যা বোধহয় পাঠককে বাকরুদ্ধ করে। ঠিক এমনই বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও। কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর এক স্বীকারোক্তির সামনে। তাঁর ‘‌নেয়ারের খাট, মেহ্‌গিনি-পালঙ্ক এবং একটি দুটি সন্ধ্যা’‌য় মানিকের জীবনের শেষ দু’টি দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন যে, তাঁরা মাত্র কয়েকজনই উপস্থিত ছিলেন মানিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়; লিখেছেন, ‘‌সুভাষ মুখোপাধ্যায় মানিকবাবুর স্ত্রীকে অভিযোগ করে বলেছিলেন: এমন অবস্থা, আগে টেলিফোন করেননি কেন? উত্তরে তাঁকে (কমলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে) হাসতে হয়েছিল। আর তারপর অস্ফুটে বলে ফেলেছিলেন: তাতে যে পাঁচ আনা পয়সা লাগে ভাই। মৃত্যুকালে বাংলাদেশ তাকে কি মর্যাদা দিল, তারও প্রমাণ আমরা বাইরের সাতটি মানুষ।’‌ মৃত্যুকালে মর্যাদা না দিলেও মৃত্যুর পরে অবশ্য বাংলাদেশ মানিককে মর্যাদা দিয়েছিল। এমনই ছিল সে মর্যাদার বহর যে, ফুলের ভারে সদ্যপ্রয়াত মানিক শুয়েছিলেন যে পালঙ্কে, তার পায়ায় চিড় ধরে গিয়েছিল। এই ফুলের পাহাড় নিয়েই তো সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন তাঁর সেই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিগুলি, ‘‌ফুলগুলো সরিয়ে নাও,/ আমার লাগছে’‌।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই চূড়ান্ত আর্থিক কষ্টে শেষের দিনগুলি কেটেছিল শিবরাম চক্রবর্তীরও। মধুসূদনের সঙ্গেও তাঁর একটি ক্ষীণ মিল পাওয়া যায়। বন্ধুবরের দ্বারা যেভাবে প্রতারিত হয়েছিলেন মধুসূদন, তেমনই বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন শিবরামও। শরৎচন্দ্রের ‘দেনাপাওনা’–র নাট্যরূপ দিয়েছিলেন শিবরাম। ‘ষোড়শী’। শিশির ভাদুড়ী প্রযোজিত-অভিনীত এই নাটকটির বেশ কিছু রজনী সফল অভিনয় হয়েছিল শ্রীরঙ্গমে। শিশির ভাদুড়ীর কাছে আশ্বাস পেয়েছিলেন শিবরাম যে, টিকিট বিক্রির টাকার একটা অংশ তিনি পাবেন। গিয়েওছিলেন টাকা সংগ্রহ করতে। কিন্তু টাকা পাননি। টাকা নিয়ে নিয়েছিলেন শরৎচন্দ্র। শতদল গোস্বামী তাঁর ‘‌১৩৪, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের সেই রসিক লেখক’‌-এ লিখছেন, ‘‌ভাদুড়িমশায় অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি করেননি। আন্তরিক অনুরোধ করেছিলেন শরৎচন্দ্রকে। তিনি কর্ণপাত করেননি। বলেছিলেন, ‘শিবরাম টাকা নিয়ে কী করবে? বিয়ে-থা করেনি, ছেলেপিলে ঘরসংসার নেই, টাকায় তার কিসের দরকার’। শুধু শরৎচন্দ্রই নন, প্রকাশকরাও যে শিবরামকে ঠকিয়েছিলেন, শতদল গোস্বামী লিখেছেন সেকথাও। শেষ জীবনে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে থাকা শিবরাম চক্রবর্তীকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আনন্দবাজার পত্রিকা। সেই প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পরে অবশ্য নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সাহায্যে এগিয়ে আসে রোটারি ক্লাব আর পুস্তক প্রকাশন সংস্থা। এই চারটি সংস্থার থেকে প্রতি মাসে ছ’শো টাকা সাহায্য পেতেন শিবরাম। এতে একা মানুষের সে সময় দিনাতিপাতে অসুবিধে হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু সেই সময় শিবরামের যে ভাগনে ও ভাগনেপত্নী তাঁর দেখাশোনা করতেন তাঁরা যে তাঁর ঠিক কেমন যত্ন করতেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শতদল। সাহায্যের পুরো টাকাটাই অসুস্থ শিবরাম তুলে দিতেন ভাগনের হাতে। সে টাকা শিবরামের জন্য ব্যয় হত কিনা এ প্রশ্ন তুলেছেন শতদল। যেমন, গরম একদম সহ্য করতে পারতেন না শিবরাম। তাঁর ঘরের সিলিং ফ্যানটি বিকল হলে সেটি সারাতে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু সেটি আর ফেরত আসেনি। নতুন কোনও ফ্যানও কিনে দেওয়া হয়নি তাঁকে। দ্বিতীয় যে ঘটনাটির উল্লেখ করেছেন শতদল গোস্বামী তা আরও লজ্জার। শতদল লিখেছেন, ‘‌এই শৌখিন মানুষটি চাঁপা ফুল রঙের শার্ট পরতে ভালবাসতেন, বরাবরই তাই পরতেন। একদিন দেখা গেল— ধুতি আর গেঞ্জি পরে তাঁর জীবনের শেষ সংবর্ধনা সভায় দীন বেশে উপস্থিত হয়েছেন। শোনা গেল, কিছুকাল আগে তাঁর রিক্ত ঘরে চোর ঢুকেছিল, তাঁর জামা চুরি করে নিয়ে গেছে। চোরের উপর রাগ করেই সম্ভবত শাস্তিস্বরূপ তাঁকে নতুন জামা কিনে দেওয়া হয়নি। গেঞ্জিতেই যখন চলছে, চলুক না’‌।
#
যে সুভাষ মুখোপাধ্যায় মানিকের মৃত্যুর পরে লিখেছিলেন ‘ফুলগুলো সরিয়ে নাও’, তাঁর নিজের শেষ জীবনও তো সুখে কাটেনি। ক্ষমতাসীন পার্টির থেকে নানা কারণে আজীবন বামপন্থী এই মানুষটি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। শেষজীবন তাঁর কেটেছিল নিদারুণ অর্থকষ্টে। মৃত্যুর পরে অবশ্য তাঁর দেহের দখলদারিত্ব নিয়ে নির্লজ্জ নাটক অভিনীত হয়েছিল। মারা না গেলে আমরা অনেক সময়েই একজন লেখক বা সাহিত্যিককে তাঁর প্রাপ্য প্রণামি দিই না। আসলে মৃত্যুর পরে দেওয়া প্রণামিতে তো আর কাঞ্চনমূল্য লাগে না। কবি-লেখকরা যে একদিক থেকে আমাদেরই মতো সাধারণ মানুষ এই সহজ সত্যটাই আমরা ভুলে যাই। সুব্রত চক্রবর্তী লিখেছিলেন যে, কবিরও ঘর-গেরস্থালি আছে। ক’জন আমরা মনে রাখি এই গোড়ার কথাটা? জীবদ্দশায় একজন কবি বা লেখক অর্থ উপার্জনে ঈষৎ মনোযোগী হলে আমরা বরং হাঁ হাঁ করে উঠি। সরস্বতীর বরপুত্র লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পেলে আমরা আজও বাঁকা চোখে তাকাই। একটি কবিতা বা একটি গল্প প্রকাশের জন্য লেখাই যাঁদের পেশা সেই সমস্ত কবি বা লেখকরা অর্থ দাবি করলে, তাঁদের নিয়ে বাঁকা কথা বলি। সেই কতদিন আগে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘‌আপিসে কলম পিষতে পারলে টাকার জন্য সাহিত্যিক লিখতে পারবেন না কেন? যে কাজ করে তাঁর অভ্যাস আছে, যে কাজের কলাকৌশল ভালোভাবে আয়ত্ত করা আছে, অন্য কাজের বদলে সে কাজ করলে অপরাধ কি?’‌ এটাই দুঃখের যে, আজও অনেককে এই একই প্রশ্ন করতে হয়!
#
একটি জরুরি প্রস্তাব দিয়ে এ লেখা শেষ করব। কেবল আর্থিক দুরবস্থা নয়, আজকের বাংলা সাহিত্য জগতের দিকে তাকালে দেখতে পাই মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণেই সম্ভবত বার্ধক্যের সঙ্গে লড়াই করাও আজ কবি-লেখকদের এক বড় সমস্যা। অনেকেরই অর্থবল আছে, কিন্তু লোকবল নেই। অনেকের, অবশ্যই, দুটোই নেই। সেই মাইকেলের সময় থেকেই, এ ক্ষেত্রে, এক অ্যাডহকিজমের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। কয়েকজন সমব্যথী, দরদি বন্ধু-বান্ধব দুঃস্থ কবি-লেখকদের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন। যে দু’একটি স্থায়ী উদ্যোগের প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল নানা কারণে, সেগুলিও সফল হয়নি। আজও যেন সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। কয়েকজন কবি-লেখকের সৎ, নিষ্ঠ উদ্যোগে কিছু সাহায্য গিয়ে পৌঁছছে দুঃস্থ কবি-লেখকদের কাছে।  সরকারি ছত্রছায়ার বাইরে, আরও সংগঠিত ভাবে কি এই কাজটি করা যায় না? জানি আমাদের হাজারও দল, উপদল। কিন্তু এই একটি ক্ষেত্রে কি আমরা সমস্ত দলাদলি আর সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একত্রিত হতে পারি না? সকলে মিলে কি একসঙ্গে বলতে পারি না, ‘‌কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা?’‌, বলতে পারি না , ‘‌বসন্তের কোকিল কেসে কেসে রক্ত তুলবে সে কিসের বসন্ত?’‌

জনপ্রিয়

Back To Top