(শুরু হয়েছে খোলাখুলি কথা। আজ অকপট অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়।আলাপে লোপামুদ্রা ভৌমিক।)

বাংলা ব্যান্ডের জগতে একটা কথা প্রচলিত আছে— ভূমি বাঙাল, চন্দ্রবিন্দু ঘটি। ভূমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠিক কতটা?‌
● ‌বাঙাল–ঘটির কোনও ব্যাপার নেই। ওটা মিডিয়া ছড়িয়েছিল। রটনা বলা যায়। তবে পেশাগত দিক থেকে ভূমির সঙ্গে প্রতিযোগিতা খুবই ছিল। আমাদের দল যখন পাকাপাকিভাবে বাংলা গানের জগতে এল, তখন ভূমি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেছে। তখন ওদের হাতে প্রচুর অনুষ্ঠান। সেদিক থেকে আমাদের টিকে থাকার জন্য এবং জমি তৈরি করার জন্য ভূমির সঙ্গে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতার দরকার তো অবশ্যই ছিল। তখনই আমরা ঠিক করি যে, আমাদের গান হবে ভূমির থেকে আলাদা। আসলে ভূমির গানে মাটির গন্ধ বেশি। আর চন্দ্রবিন্দুর গান বেশিরভাগই শহরকেন্দ্রিক। এই জন্যই হয়তো বাঙাল–ঘটি প্রসঙ্গটা এসে থাকবে। আর এই প্রতিযোগিতাটা ছিল বলেই হয়তো আমরা এত ভাল–ভাল গান তৈরি করতে পেরেছি। তবে ভূমি আর চন্দ্রবিন্দুর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা এটা কিন্তু পুরোপুরিই পেশাগত প্রতিযোগিতা। তার বাইরে ভূমি ও চন্দ্রবিন্দুর সবাই একে অপরের খুব ভাল বন্ধু। 
ভূমির ভেঙে যাওয়ায় সেই বন্ধুত্বে কি কোথাও চিড় ধরেছে?‌
● ভূমি ভেঙে যাওয়ায় আমরা মর্মাহত। খুব বড় একটা ধাক্কা খেয়েছিও বলা যায়। ওদের বিবাদটা আমরা মেটানোরও চেষ্টা করছি। আমি এবং চন্দ্রবিন্দুর প্রত্যেকে টিম ভূমিকে খুব মিস করি। সেটা ওরাও জানে যে আমরা কতটা ওদের মিস করি। 
চন্দ্রিল, উপল, অনিন্দ্যর কেমিস্ট্রিটা ঠিক কেমন?‌ পরিপূরক?‌ নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী?‌
● এটা শ্রোতারা ভাল বলতে পারবেন। তবে আমাদের দলে যে যে কাজটা ভাল পারে, সেটা সে মন দিয়ে করে। আর এই বোঝাপড়াটা আছে বলেই এতগুলো বছর ধরে আমরা জনপ্রিয়তা পেয়ে চলেছি। আমরা তিনজন তিনজনের পরিপূরক এটা বলা যেতেই পারে।
ফিল্মে গান লিখলেন। মিউজিকও করলেন। ছবি তৈরির চিন্তাটা কি সেখান থেকেই?‌
● ছবি তৈরির স্বপ্ন আমার বহুকালের। কলেজের সময় থেকেই ছবি তৈরি করার কথা ভাবি। কিন্তু বললেই তো হয় না। ছবি তৈরির ব্যাপারটা তো সহজ নয়। সবথেকে বড় কথা হল, ছবি বানানোটা কোটি কোটি টাকার ব্যাপার। তাই ছবিতে গান লেখাটা যতটা সহজ, সিনেমা তৈরি করা ততটা নয়। যদি কেউ এসে পাশে দাঁড়ায়, তখনই ছবি তৈরির দিকে পা ফেলা যায়। আমার জীবনে সবসময়ই আমি নতুন কিছুর অপেক্ষাতে থাকি। তাই ছবি তৈরির সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেটা খুব আনন্দ করে করেছি। যেমন ‘‌ওপেন টি বায়োস্কোপ’‌ পরিচালনার সময়টা আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটা মুহূর্ত। একই রকম ভাবে ‘‌প্রজাপতি বিস্কুট’‌-‌এও খুব এনজয় করেছি। তাই পুরস্কার নয়, যে কাজটা আমাকে ভাল থাকতে সাহায্য করবে, সেইটাই সবার আগে। 
জাতীয় পুরস্কার কি সিনেমা তৈরির খিদেটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে?‌
● একেবারেই না। আমার মনে হয় জাতীয় পুরস্কারের থেকেও বড় ব্যাপার হল, আমার নিজের সারা জীবনের সময়টা আমি কতটা সার্থকভাবে ব্যবহার করতে পারছি সেটা। আমি যত বেশি গান বানানোর মধ্যে থাকতে পারব, যত সিনেমা তৈরির মধ্যে থাকতে পারব, যত লেখালেখির মধ্যে থাকতে পারব সেটা সবার ওপরে। 
এই কলামেই অনুপম রায় তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্যান্ডের বাজার এখন আর নেই। অনুপম রায়ের এই কথাটাকে কীভাবে দেখছেন?‌
● ওঁর মনে হয়েছে উনি বলেছেন। তবে আমাদের তো এরকম কিছু জানা নেই। যেমন এই বছরই চন্দ্রবিন্দু যা অনুষ্ঠান করেছে, সেটা কম কিছু নয়। আগামী বছর আবার আমাদের আমেরিকায় অনুষ্ঠান আছে। আমার অভিজ্ঞতা বলছে আগামী ৪/‌৫ বছর চন্দ্রবিন্দু বহাল তবিয়তে গান গাইতে পারবে। সেই জায়গাটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের জায়গা আমাদেরই।
যদি সার্বিকভাবে বলি, তবে কি বাংলা ব্যান্ডের বাজার একটু পড়তির মুখে?‌
● পড়তি ঠিক বলব না। ব্যান্ড–কালচার জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে ’‌৯৯-২০০০ সাল থেকে। প্রায় ১৭ বছর। আমার মনে হয় এতগুলো বছর ধরে একইভাবে বাজার ধরে রাখা কোনও কাজের কথা নয়। সেটা থাকেও না। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ডগুলো সবাই কিন্তু নিজেদের মতো করে কাজটা করছে। আবার নতুন যারা এসেছে, যেমন অনুপম, ইমন, সোমলতা এরাও অন্যরকম কিছু করার চেষ্টা করছে। ভাল কিছু করতে চাইছে। তাই কাজ তো হচ্ছেই। ব্যান্ডের বাজার নিয়ে গেল গেল রব তোলার কোনও কারণ নেই। ■

জনপ্রিয়

Back To Top