ডায়েরিতে আইনস্টাইন নাকি লিখেছিলেন, ‘‌প্রচণ্ড গরমের কারণেই ভারতীয়দের বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতে পারে না।’‌ সত্যিই কি ঘটনা তাই? খোঁজ নিলেন অমর্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়
 

১৪ মার্চ, ১৮৭৯।  জার্মানির উলম শহরে জন্মগ্রহণ করেন বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। শহরের গড় তাপমাত্রা তখন ১০ ডিগ্রির আশেপাশেই বোধহয় (‌নিশ্চিত করে তো জানা যায় না)‌‌। এরপর আরও একটি দশক। ২২ ডিসেম্বর ১৮৮৭–তে মাদ্রাজের এরোড শহরে জন্মগ্রহণ করবেন অঙ্কের বিস্ময়প্রতিভা শ্রীনিবাস রামানুজন। মাদ্রাজের গড় তাপমাত্রা ঘোর ডিসেম্বরেও প্রায় ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছিই পৌঁছে যায় বলে খবর। মাপ করবেন, এতটা পড়বার পরেই নিশ্চয় আপনাদের সেই সুকুমার রায়ের হ য ব র ল-এর শ্রীমৎ কাকেশ্বরচরণ কুচকুচের কথাটি মনে উঁকি মারছে। কোথায় বা আইনস্টাইন, কোথায় বা রামানুজন আর কোথায়ই বা মাদ্রাজের গরম! এ সব কথার মানে কী?‌ 
না, গরম নয়। ‌এই লেখার বিষয় আর কেউ নন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন স্বয়ং। বিজ্ঞান ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, তারপরেও বিজ্ঞানে যে কজন ‘‌ঈশ্বর’‌ আছেন, তাঁদের একজন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক থাকলেও এই বিষয়টি নিয়ে তর্কের কোনও সুযোগ নেই। বিধিসম্মত সতর্কীকরণের মতো তঁাকে নিয়ে কিছু লেখবার আগে কথাটি বলে নেওয়া দরকার। সেই ‘‌ঈশ্বর বিজ্ঞানী’–‌র এক ডায়েরি থেকে সম্প্রতি জানা গেছে, তিনি লিখেছিলেন, গ্রীষ্মপ্রধান দেশ বলে ভারতীয়দের বুদ্ধি কম। এরপরে আলোচনা না করে উপায় কী?‌
ডায়েরিতে আমরা মনের কথাই বলি, সেখানে আমাদের পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার দরকার পড়ে না। পাবলিক ইমেজের বিষয়টিও খোঁচা দেয় না। কাজেই ৪৩ বছর বয়সি বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক তাঁর রোজনামচাটিতে, একখানি বা আধখানি মনের কথাই, মন ভুলে লিখে ফেলতেও পারেন। কারণ, ৯৬টা বছর পেরিয়েও সেই ডায়েরিটাকেই যে ক্যালিফোর্নিয়ার আর পাঁচজনে প্রকাশ করতে ছাড়বেন না, তা নিশ্চয়ই জানা ছিল না তাঁর। ডায়েরিতে আইনস্টাইন নাকি লিখেছিলেন, ‘‌প্রচণ্ড গরমের কারণেই ভারতীয়দের বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতে পারে না।’‌ প্রসঙ্গত বোধকরি এটাও বলা উচিত, যে ১৯২২ থেকে ’‌২৩–এর মধ্যেকার সময়ে (যে সময়ে আইনস্টাইন এ কথা লিখেছিলেন) ভারতবর্ষে নিশ্চয় কোনওরকম ‘‌বুদ্ধি ড্রিঙ্ক’–এর প্রচলন হয়নি। বুদ্ধির অধোগতি আর ঠেকায় কে! 
ডায়েরিতে আরও অনেক কথার সঙ্গে আইনস্টাইন লিখেছিলেন, চিন্তার ক্ষেত্রে নাকি গড়ে পনেরো মিনিট করে বেশি সময় প্রয়োজন হয় ভারতীয়দের। এরজন্যও আইনস্টাইন ভারত উপমহাদেশ এবং এশিয়ার ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত পার্থক্য এবং গড় উষ্ণতাকেই চিহ্নিত করেছেন। এবার ফের সেই রামানুজনের বক্তব্যে ফিরি। হয়তো বা সেই পনেরো মিনিটের কথায়।
রামানুজন খুব অসুস্থ তখন। তাঁর বন্ধু এবং গবেষণাক্ষেত্রে সহায়ক ও পথপ্রদর্শক, অধ্যাপক জি এইচ হার্ডি এসেছেন হাসপাতালে রামানুজনের সঙ্গে দেখা করতে। কথাচ্ছলে হার্ডি বললেন, ‘‌জানো রামানুজন, আমি যে ট্যাক্সিটাতে চড়ে তোমার কাছে এলাম, তার নম্বরটা ছিল ১৭২৯। এতে বোধহয় তেমনটা আশ্চর্যজনক কিছু নেই। কী বলো হে?’‌ 
রামানুজন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দিলেন, ‘‌কী বলছো!‌ এর চেয়েও আশ্চর্য কোনও সংখ্যা আবার হতে পারে নাকি?‌ হিসেব কষে দেখো গে, ১৭২৯ হল সেই ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যাকে আলাদা আলাদা দুইরকম ভাবেই দুইটি পূর্ণসংখ্যার বর্গের যোগফল হিসেবে প্রকাশ করা যায়।’‌ 
পরবর্তীকালে এই ধারণার ওপরে ভিত্তি করেই জন্ম নেবে হার্ডি-রামানুজন সংখ্যা অথবা ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যাসারণির হিসেব। রামানুজনের বেড়ে ওঠার শহর মাদ্রাজের বার্ষিক গড় উষ্ণতা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং গণিতবিদ হার্ডির জন্মস্থান গ্রেট ব্রিটেনের সারে কাউন্টির বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কমবেশি ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুদ্ধি কি আর গরম–ঠান্ডায় কমে–বাড়ে?
এবারে একটু সিরিয়াস হওয়া যাক। বুদ্ধির মতো একটা গুরুগম্ভীর বিষয়কে নিয়ে অন্তত বুদ্ধিজীবীদের মশকরা করা উচিত নয়। বুদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক আবহাওয়া, উষ্ণতা ও তাপমাত্রা ইত্যাদির যোগসূত্রের একটু খোঁজখবর করলে কেমন হয়?‌ 
প্রথম যে গবেষণাপত্রটির খোঁজ পেলাম, সেটি ভারি মজার। ১৯৮৭ এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে পরিমার্জিত বৈজ্ঞানিক রিচার্ড লিন এবং জাপানের অধ্যাপক কানাজাওয়ার দুটি গবেষণাপত্র। কী আছে সেখানে?‌ যেহেতু ইউরোপ এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশতেই শীতকালে ভয়ানক ঠান্ডার প্রকোপ ঘটে, অস্তিত্বরক্ষায় এশীয় এবং ইউরোপীয়দের আফ্রিকানদের চাইতে অধিক পরিমাণে কায়িক ও মনের পরিশ্রম করতে হয়। তাই এশীয় বা ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত জিন এবং অন্যান্য প্রবৃত্তির বিকাশ কিছু বেশিই পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ আইনস্টাইনের বক্তব্যের সরাসরি সমর্থন না হলেও, বুদ্ধি এবং আবহাওয়াগত বিকাশের যে একটি সম্পর্ক হয়তো বা থাকলেও থাকতে পারে। অন্তত এক-আধটি হলেও গবেষণায় তার উল্লেখ রয়েছে। 
এবারে বুদ্ধির বিষয়টাকে নিয়ে আরও খানিকটা ধস্তাধস্তি করা যাক। লিন বা কানাজাওয়ার গবেষণায় যে বুদ্ধির বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, সেটিকে আমরা স্বাভাবিক কিছু বুদ্ধি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হিসেবে ভাবতে পারি। যাকে আমরা বলব ‘কমন সেন্স’। ‘কমন সেন্স’ বা ‘সাধারণ বুদ্ধি’–র বিষয়টি নিয়েই যদি আইনস্টাইন মন্তব্য করে থাকেন, তাতে বিতর্কের সম্ভাবনা কম। যদিও এই আবহাওয়া ও বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিকে নিয়েই একেবারে জিনস্তরে গবেষণার এই নতুন ধারাটির সূত্রপাত হয়তো ১৯২২–এর বহু যুগ পরেই। আর তা না হয়ে যদি মেধা বা মনীষা অর্থাৎ কিনা সাদা বাংলায় ‘অ্যাকাডেমিক ব্রিলিয়ান্স’–এর লক্ষ্যে আইনস্টাইন তাঁর মন্তব্যগুলি করে থাকেন তবে সেটিকে নিয়ে বিতর্ক না উসকিয়েও কেবল পাল্টা উদাহরণ দেওয়াটাই যথেষ্ট।
মোবাইল টেলিফোন এবং বেতার–বিষয়ক গবেষণার পথিকৃৎ যে ম্যাক্সওয়েলস ইক্যুয়েশনস, সেগুলি বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল প্রথম প্রকাশ করেন ১৮৬১–তে। ১৮৯৫ থেকে ১৯০১–‌এর মধ্যে সেই সব সূত্রকেই কাজে লাগিয়ে একের পর এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন কলকাতার বাঙালি বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসু। ১৯২৪–এ (আইনস্টাইনের সদ্যপ্রকাশিত আলোচ্য ডায়েরিটির রচনাকাল ১৯২২), বাঙালির দুর্ধর্ষ মেধার স্ফূর্তিতেই সত্যেন বসুর পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকাশিত হবে বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিসটিক্স। এর আরও আগেই, তাপগতিবিদ্যায় যুগান্তকারী গবেষণার দৃষ্টান্ত রাখবেন বৈজ্ঞানিক মেঘনাদ সাহা। ১৯২০–তে প্রকাশিত হয় ‘‌সাহা’স থিওরি অফ আয়নাইজেশন’‌। 
বুদ্ধি কারও একার নয়, বুদ্ধি কোনও এলাকার নয়। একেকজন মানুষই তাঁর সময়ের, তাঁর রাজত্বকালের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমান হয়ে দাঁড়ান। সম্ভ্রম অর্জন করেন পৃথিবীর। বুদ্ধি বা মেধার সে অর্থে ভৌগোলিকীকরণ অর্থহীন।
আইনস্টাইনের প্রসঙ্গে ফিরি। তা হলে কি সত্যিই ভুল করেছিলেন আইনস্টাইন?‌ সত্যিই কি তাঁর মনেও বাসা বেঁধেছিল ‘বর্ণবিদ্বেষ কিংবা জাতিবিদ্বেষের গভীরতম অসুখ’? নাকি সেসব ছিল কেবল নিছকই আলগা মনের খামখেয়ালি কথা? আরেকটা উদাহরণ। ১৯৪৭–এর মাঝামাঝি কোনও একটা সময়। হল্যান্ডের বন্দর শহর আমস্টারডাম থেকে প্রকাশিত হল একটি বই, নাম ‘দ্য ডায়েরি অফ এ ইয়ংগার্ল’। লেখিকার নাম আনা ফ্রাঙ্ক। ষোড়শবর্ষীয়া এই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছিল জার্মানির আউসভিৎজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের কোথাও। ১৪ জুন, ১৯৪২ থেকে ১ আগস্ট, ১৯৪৪–এর মধ্যে লেখা তাঁর ডায়েরির কয়েকটি ছেঁড়া পাতার ভিত্তিতেই প্রকাশিত হয় ‘দ্য ডায়েরি অফ এ ইয়ংগার্ল’। আজও সে বইটি সমাদৃত পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে। ইতিহাস তাঁকেও ছাড়েনি। এ বছরের গোড়াতেই একদল গবেষক প্রকাশ করলেন আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির আরও কয়েকটি পাতা। পাতাগুলি এতদিন পাঠোদ্ধারের অযোগ্য ছিল। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন পড়া সম্ভব হয়েছে। তাতে রয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের এক কিশোরীর সদ্য শেখা কিছু নতুন রসিকতা, প্রেম, নারীশরীর নিয়ে ভাবনা। কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, আনার চরিত্রের আরও একটি দিক আজ উন্মোচিত। পাঠক, একটু ভেবেই না হয় বলুন, কোনটি সত্যি? ওই দুখানি ছেঁড়াপাতার রসিকতা‌?‌ নাকি তার ডায়েরির বাকি সব ইতিহাস? 
আইনস্টাইন যখন রোজনামচাটি লিখেছেন তখন তাঁর সময়ের অভাব বারে বারে ফুটে উঠেছে— বইটির সম্পাদকীয়তে রয়েছে তার উল্লেখ। কোথাও বা আইনস্টাইন লিখেছেন কেবল একটি লাইন—‘‌আলোকোজ্জ্বল একটি দিন, সমুদ্র শান্ত আজ, একটুও হাওয়া নেই কোথাও...’‌। কখনও বা আবার আরেকটু বর্ণনায় উৎসাহিত হয়েছেন— ‘‌আজ বিকেলের প্রাপ্তি একটি অসামান্য সূর্যাস্ত, পুবালি হাওয়ায় উড়ে আসা উজ্জ্বল মেঘপুঞ্জদের সমাহারে একটি বেগুনিরঙা সুন্দর দিকচক্রবাল ...’।‌ 
এও তো এক সমান সত্যিকারের অ্যালবার্ট আইনস্টাইন।
কখনও কি তা হলে ভুল করেননি আইনস্টাইন?‌ ১৯৩৯–এ যখন নিজের তাগিদেই রুজভেল্টকে চিঠি লিখে পরমাণু বোমা সংক্রান্ত গবেষণায় উদ্যোগী হতে বললেন মার্কিন প্রশাসনকে, তখনও নয়? তা হলে কোথায়ই বা থাকবেন, অটো হান–হাইজেনবার্গ প্রমুখেরা?‌ যাঁরা শত বাধা, শত হুমকির আস্ফালন সত্ত্বেও হিটলারের পরমাণু গবেষণায় সাহায্য করতে অস্বীকার করেছিলেন? আইনস্টাইনেরা এরকমই বোধহয়। প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের অধিকারীদেরও কোথাও একটা মানবিক ভ্রান্তির জায়গা থেকে যায়। আমরা বোধহয় আজ সেটুকুকে মানতেও অস্বীকার করি। রাশিয়ান লেখক ম্যাক্সিম গোর্কির আত্মজীবনীতে এক মৃত্যুপথযাত্রী বিপ্লবীর বর্ণনা মেলে, যাঁর জীবনের শেষতম লক্ষ্য ছিল নিৎসের মতবাদের সঙ্গে মার্কসইজমের সিন্থেসিস। সিন্থেসিস অর্থে, সংশ্লেষ। জগতের সবকিছুর ভুলটুকুকে আলাদা করে রেখেই ভালটুকুর সংমিশ্রণ— মৃত্যুর থেকে অমৃতের পথেই সসম্মান এগিয়ে চলবার চিরকালীন আহ্বান।
এই সিন্থেসিসেরই জয়গান গেয়েছেন আইনস্টাইন, গেয়ে গিয়েছেন অন্য মনীষীরাও। সিন্থেসিস এবং আপডেট। সংমিশ্রণ এবং নিজেকে যুগোপযোগীকরণ। তাই তো আইনস্টাইন পরবর্তীতে নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নেবেন, ‘‌শ্বেতাঙ্গদের জাতিবিদ্বেষ নামক ভয়ানক অসুখের কথা’ এবং মানতে চাইবেন, ‘‌বিজ্ঞানের পৃথিবীতে ভারতীয়দের অনন্য অবদান— সংখ্যার আবিষ্কার এবং গোনবার পদ্ধতি নির্ণয়ের’‌ অবিস্মরণীয়তাকেই। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠির মাধ্যমে ফের একটিবার দরবার করতে চাইবেন পরমাণু বোমা ফেলার সিদ্ধান্তকে নাকচ করবার অনুরোধ নিয়ে। কালো মানুষদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যেই সরব হবেন আমেরিকায়। জীবনের শেষ কয়েকটি বছরে, তাঁর সময় কাটবে আমেরিকার প্রিন্সটন শহরের কৃষ্ণাঙ্গ এলাকায়। বসে পড়বেন তাঁদের বারান্দায়। কথা বলবেন কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের সঙ্গে। তাদের হাতে তুলে দেবেন ক্যান্ডির উপহার। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছে যাবে যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই রীতিমতো নজরদারি বসাবে তাঁর ওপর। এই হলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। জার্মানির গড় উষ্ণতা কি তখন আমেরিকার চেয়েও বেশি ছিল অনেক? হঠাৎ করেই কি বুদ্ধি বেড়েছিল বিজ্ঞানীর?
আত্মজীবনী লেখার দুরাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে আসছেন যাঁরা, ব্যক্তিগত সমস্ত কিছুকে নিয়েই তাঁরা সতর্ক হন। নচেৎ কোনওদিন আপনাদের কাছ থেকেও জবাবদিহি চেয়ে বসবার ফুরসত মিলবে কারও। পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে রোজ। পাল্লা দিয়ে দিয়েই বুদ্ধি কমছে আজ। আমার আপনার। যা করা উচিত নয়, বলা উচিত নয়, পৃথিবী তাই করছে। মূলত ঠান্ডার দেশ‌ আমেরিকা, মূলত গরমের দেশ সিরিয়ায় বোমা ফেলতে থমকে যাচ্ছে না। তাই না?‌‌‌‌‌‌ ■

লেখক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গবেষক।    

জনপ্রিয়

Back To Top