দ্বৈপায়ন দেব: ●‌ ভিলেন। পরিচালক:‌ বাবা যাদব।
অভিনয়ে:‌ অঙ্কুশ, মিমি চক্রবর্তী, ঋত্বিকা।
এ ছবির নাম ‘‌ডন’‌ও হতে পারত। হ্যাঁ, সেই অমিতাভ বচ্চনের ডন। না এ ছবি গল্পে তাকে অনুসরণ করেনি। কারণ এ ছবি তো এক দক্ষিণী ছবির রিমেক। যেখানে ‘‌কপি’‌ এমনই হয় যে, বাঙালি রীতি রেওয়াজ ভুলে বিজয়া দশমীর দিনে হোলি খেলা দেখানো হয়!‌ যেখানে কোথা থেকে গাড়ি আসে, কোথায় যায়, সে সবের কোনও যুক্তি থাকে না!‌ শুধু ছবির শুরুতে ১০ মিনিট ধরে প্রায় একটা গাড়ি ওড়ানোর দৃশ্য দেখান পরিচালক বাবা যাদব।
তবু এ ছবির নাম ‘‌ডন’‌ই হতে পারত। ‘‌ভিলেন’‌–‌এর বদলে। এ ছবির কেন্দ্রবিন্দু একজন ‘‌ডন’‌ সে জন্য নয়। বরং এ জন্য যে এই ছবিতেও এক ডন আর এক আম আদমির চেহারা একই রকমের। প্রথমে খানিকটা লুকোচুরি চলার পরে সেই ডন, যার নাম জয়, যে এক ৫০০ কোটি টাকার চিটফান্ড চালায়। সে মারা যায়। আর তার দলের সাকরেদরা একইরকম চেহারার ভোলেভালা প্রেমিক মুডের ছেলে রাজাকে ধরে নিয়ে এসে জয় সাজতে বাধ‌্য করে। বলাই বাহুল্য দুটি চরিত্রেই একই অভিনেতা দরকার। সেটি করেছে অঙ্কুশ।
আবার এ গল্পে জয় আর রাজার প্রেমিকারা এ সব না জেনেই বন্ধু। প্লেনে পাশাপাশি সিটে যেতে যেতে আলাপ রাজার প্রেমিকা রিয়া (‌মিমি চক্রবর্তী)‌ আর জয়ের প্রেমিকা স্নেহার (‌ঋত্বিকা সেন)‌। প্লেনে রিয়া নিজের প্রেমকাহিনী শোনায় স্নেহাকে। সেই সূত্রে প্রথমার্ধ জুড়ে ফ্ল্যাশব্যাক। আর দ্বিতীয়ার্ধে রিয়া শুরু করে নিজের হারানো প্রেমিককে খুঁজতে। চলে যায় স্নেহার কাছে। শুরু হয় রহস্যের মোচড়।
অনেক অযৌক্তিক ঘটনাক্রম। ফর্মুলার সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক। সবকিছুর পরেও এটা বলার যাঁরা সিনেমা হলে যুক্তি ভাবনা  ভুলে ঘণ্টা আড়াইয়ের জন্য শুধু স্বপ্ন আর বিনোদন খুঁজতে যান, চমকের পর চমকে ঠাসা এ ছবি তাদের হতাশ করবে না।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top