সম্রাট মুখোপাধ্যায়: সিম্বা। পরিচালনা:‌ রোহিত শেঠ্‌ঠি। অভিনয়ে:‌ রণবীর সিংহ, সোনু সুদ, সারা আলি খান, আশুতোষ রানা, অজয় দেবগণ।
আড়াই দশক আগে মুক্তি পেয়েছিল ডিজনি হাউসের হইহই হিট অ্যানিমেশন ছবি ‘‌দ্য লায়ন কিং’‌। যে ছবির ২৫ বছর পূর্তিতে হলিউডে এ বছর আবার মুক্তি পেতে চলেছে রিমেক ‘‌দ্য লায়ন কিং’‌। রোহিত শেঠ্‌ঠি বরাবরই ‘‌ইন্সপায়ার্ড’‌ পরিচালক। কখনও দক্ষিণী কমেডি, কখনও হলিউডি ‘‌অ্যাকশন’‌, কখনও আটের দশকের পারিবারিক হিন্দি ছবি— তাঁর ওপর প্রভাবের তালিকা মস্ত। এবার প্রভাবটা একটু অন্য কোণ থেকে। ওই ‘‌লায়ন কিং’‌ থেকে।
না ছবির গল্প বা ‘‌অ্যানিমেশন প্যাকেজ’‌–‌এ নয় অবশ্য। শুধু একটা নামে। মানে শিরোনাম ‘‌সিম্বা’‌, এটাই ছিল দ্য লায়ন কিং–‌এ সেই ছোট্ট সিংহ রাজপুত্রের নাম, যে কুচক্রী কাকার হাতে বাবাকে হারিয়ে ছেলেবেলায় অনাথ হয়ে পড়ে। এরপর তার রাজ্যপাট পুনর্দখলের গল্প ছবি জুড়ে। রোহিতের ছবির সিম্বা অবশ্য রাজপুত্র নয়। তার বাবাকে হত্যা করা নিয়েও কোনও সাব প্লট ছবিতে নেই। কিন্তু সে অনাথ। বেঁচে থাকার জন্য পকেটমার আর সিনেমার টিকিট ব্ল্যাকার। ছোট্ট বয়সেই অবশ্য তার কেজ ওই সিংহ ছানার মতোই। আর বড় হয়ে সে স্বপ্ন দেখে গোয়ার রাজা থুড়ি সবচেয়ে বড় মস্তান থুড়ি উর্দিধারী পুলিস হওয়ার। ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখার এই টাচটার ভেতর হলিউডি সিম্বা থেকেই যায়।
তবে বলিউড তো। ফলে এই সাদায়–‌কালোয় অল্প বিস্তর ঘুষখোর কিন্তু আদতে নীতিবান পুলিস অফিসার চরিত্রটির একটি দীর্ঘ ট্র‌্যাডিশন আছে সাতের দশকের অমিতাভ, বিনোদ, ধর্মেন্দ্র যুগ থেকেই। অ্যাকশন আর কমেডির এই ককটেলটির একটা চেনা অনুপাত বেশ ঠিক করা আছে। যার সাম্প্রতিক উজ্জ্বলতম পুনরুদ্ধার দেখা গেছে ‘‌দাবাং’‌–‌এ। এ ছবিতে দাবাংয়ের সেই চুলবুল পান্ডেকেই খানিকটা সিম্বার জামা জুতো পড়ানো হয়েছে। সংলাপ বলার আদলেও যে ‘‌কপি’‌র ছাপ অদক্ষ হাতে টোকার মতো। কেউ কেউ জানাচ্ছেন এ ছবি নাকি ২০১৫–‌র তেলেগু ছবি টেম্পার–‌এর রিমেক। তবে ওটা ভুলে যাওয়াই ভাল। কারণ এ ছবির প্লটটাই পুরো দুর্বল। প্যাকেজিংটাই যা চোখ টানা।
ছবিতে সিম্বা (‌রণবীর সিংহ)‌ গোয়ার যে অঞ্চলে পুলিস অফিসার হয়ে ফিরে আসে, সেই এলাকারই অন্ধকার সাম্রাজ্যের রাজা দুর্বা রানাডে (‌সোনু সুদ)‌–‌এর কাছেই নানা কালো ব্যাপারে হাতে খড়ি সিম্বার। ছক অনুযায়ী প্রথমে দুজনের ব্যাপারে হাতেখড়ি সিম্বার। ছক অনুযায়ী প্রথমে দুজনের সখ্যতা পরে ঝাড়পিট সেনা হয় বোঝা গেল, চেনাও গেল, কিন্তু সোনু সুদের বয়স মাঝের সময়টাতে বাড়ল না কেন, এটা বোঝা গেল না। তবে এ লড়াইটা তো ছবির আসল লড়াই নয়। আসল লড়াই অন্য দুই মডেলের। এক, দাবাং মডেল, যার প্রতিনিধিত্ব করছে সিম্বা। সে নানা কায়দা কানুন করে থানায় এনকাউন্টার করতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে। আর এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান হয়ে আসছে বাজিরাও সিংহম (‌অজয় দেবগণ)‌। রোহিতের নিজের ফ্র‌্যানচাইজি চরিত্র ছবি শেষ হবার ২০ মিনিট আগে। তদন্ত থোড়াই হচ্ছে। আসলে সে আসছে সিম্বার রক্ষাকর্তা হিসেবে। মোর দ্যান হিরো। বোঝাই যায় রোহিত সিম্বাকে মঞ্চে এনে সিংহমের উচ্চতা আগামী দিনের বক্স অফিসে একটু বাড়িয়ে নিলেন। আর সেই সুযোগে রণবীরকে টপকে অজয়ও বোঝালেন বলিউডে পুরনো চালই ভাতে বাড়ে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top