সম্রাট মুখোপাধ্যায়: • সামসারা। পরিচালনা:‌ সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিৎ গুহ।
অভিনয়ে:‌ ঋত্বিক চক্রবর্তী, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, তনুশ্রী চক্রবর্তী, দেবলীনা কুমার, সমদর্শী দত্ত, অম্বরীষ ভট্টাচার্য, ছন্দা চট্টোপাধ্যায়।

অচেনা জায়গায় হঠাৎ দেখা। এমন সব একদা–‌বন্ধু বা সহচরীদের সঙ্গে, যাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের কোনও না কোনও অস্বস্তিকর স্মৃতি!‌
আরও পরিষ্কার করে বললে পাপবোধ। অন্তর্গত যন্ত্রণার পুষে রাখা বেদনা। আর এই দেখা হওয়ার জায়গাটার নাম ‘সামসারা’‌।
যেমন ‘‌স্যুররিয়াল’‌ নাম, তেমনই স্বর্গীয় লোকেশন। ‘‌যেমন ‘‌স্যুররিয়াল’ ভাবনা, তেমনই তার সঙ্গে মানানসই নাটক। এই ‌সব নিয়েই চলতি বাংলা ছবির  ভিড়ে বেশ অন্যরকম প্রয়াস সুদেষ্ণা রায়–‌অভিজিৎ গুহের এই ছবি।
এই‌ ছবির ভাবনা এতটাই অন্যরকম, তা খোলা মনে দেখতে বসাই ভাল। এই ‌গল্প রহস্য নাকি ভূতের নাকি নীতির— ‌এমন সব খোপে আটকে না যাওয়াই ভাল। 
এমন একটি ‘‌স্যুররিয়াল’‌ ভাবনার ছবি দেখার ক্ষেত্রে নবারুণ বসুর আবহ বা রানা দাশগুপ্ত–‌র ক্যামেরাও অনেকখানি ভূমিকা নিয়েছে। সুজয় দত্তরায়ের সম্পাদনা অবশ্য আর একটু নির্মম হলে ভাল হত। 
এই ‌ছবির চিত্রনাট্যে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন ‌পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। 
তিন বন্ধু, তিন পেশার, তিন মেজাজের মানুষ। হঠাৎ‌ই একদিন ‘‌কী–‌খবর–‌বল’‌ বলে একসঙ্গে আড্ডায় জুটে  যেতে আবিষ্কার করল তিনজনের জীবনেই একটা করে ‘‌অসমতল’‌ ঘটনা ঘটেছে। এবং ঘটেই চলেছে!‌ তা থেকে বেরোনো যাচ্ছে না!‌
বিক্রম (‌ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী)‌ নামী ব্যবসাদার। সে ব্যতিব্যস্ত তার মাতাল–‌উচ্ছৃঙ্খল শালাকে নিয়ে। কিন্তু তার আসল সমস্যা অন্যত্র। স্ত্রী রেশমি (‌‌দেবলীনা কুমার)‌ দুবাই ভ্রমণে গিয়ে হারিয়ে গেছে। আর তদন্তে হঠাৎ–‌হঠাৎই যত্রতত্র হাজির হয় এক পেটমোটা ‌আপাত–‌হাস্যকর ‌খিস্তিবাজ অথচ বুদ্ধিতে ভীষণ ধারালো গোয়েন্দা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (‌অম্বরীষ ভট্টাচার্য)‌। না, নামটার ব্যঞ্জনা কী, তা ছবি জুড়ে বোঝা না গেলেও চরিত্রটি আচমকাই অদৃশ্য হয়ে গেলেও, রসিকতাবোধে ও অম্বরীশের অভিনয়গুণে আকর্ষণীয় লেগেছে। পেছনের আবহটিও সুপ্রযুক্ত ছিল। 
দ্বিতীয় বন্ধু ঔপন্যাসিক অতনু (‌ঋত্বিক চক্রবর্তী)‌ ব্যতিব্যস্ত তার অসমাপ্ত উপন্যাস ‘‌পারাপার’‌ নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে শেষ না করতে পেরে। কারণ তার স্ত্রী মৌমা (‌তনুশ্রী চক্রবর্তী)‌ অন্য পুরুষের সঙ্গে ঘর ছেড়েছে। তবে অতনুর গভীরতর সমস্যা সে একজনকে দেখতে পায়, যাকে দেখতে তার এক বাল্যবন্ধুর (‌সমদর্শী দত্ত)‌ মতো, কিন্তু এই নতুন মানুষটি তাকে তার মৃত্যুর তারিখটি বারবার বলে যায় নিয়তির মতো। 
তৃতীয়জন চন্দন (‌রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়)‌ যে যৌনশৈত্যে ভুগছে। কারণ তার বিছানায় অন্ধকারে বার বার জেগে ওঠে তার আত্মহত্যা–‌করা পিসতুতো দিদি (‌সুদীপ্তা চক্রবর্তী)‌। এই তিনজন একদিন এক রহস্যময় ডাকে এক অজানা জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার একটি মানচিত্র পায়। সঙ্গে এক গাড়ির চাবি। রহস্যের ডাকে তিনজনই সাড়া দেয়। পৌঁছয় সামসারা–‌য়। আর সেখানে গিয়ে দেখে তাদের জীবনের হারানো তিনজন মানুষ সেখানে রয়েছে অন্য নামে। অন্য অস্তিত্বে। 
ঋত্বিক, রাহুল, ইন্দ্রজিৎরা দারুণ অভিনয় করেছেন। সমদর্শীও কাঙ্ক্ষিতভাবেই রহস্যময় সংলাপ বলায়, হাসিতে। তনুশ্রী, সুদীপ্তার দাপুটে উপস্থিতির পাশে অপেক্ষাকৃত কম সুযোগেও উজ্জ্বল দেবলীনা কুমার।
শুধু একটাই অভিযোগ। ছবির শেষটাও ‘‌স্যুররিয়াল’‌ থাকলেই সুবিচার হত। বক্স অফিসের কথা ভেবে গল্পটাকে রহস্য কাহিনির ‘‌এন্ডিং’‌ দেওয়াটার দরকার ছিল না। এই ‌গল্পে অন্য রজনীগন্ধার গন্ধ ছিল। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top