সম্রাট মুখোপাধ্যায়: • রেস থ্রি। পরিচালনা:‌ রেমো ডি’‌সুজা। অভিনয়ে:‌ সলমন খান, ববি দেওল, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, অনিল কাপুর, ডেইজি শাহ,  সাকিব সালিম, শারদ সাক্সেনা ও রাজেশ শর্মা।
সলমন। এবং সলমন.‌.‌.‌ এবং এবং সলমন।
সলমনের ছবিতে যেমন হয় আর কী। বুঝতেই পারছেন। কিছু মানুষ বিপদে‌ পড়েছে। বাঁচাল গিয়ে সলমন। বাঁচাতে গিয়ে জড়িয়ে গেল কিছু চরিত্রের সঙ্গে। সলমন। নিজে মাঝখানে খানিকটা বিপদে পড়ল। তার থেকে সলমনকে তারপর বাঁচাল কে?‌ কেন স্বয়ং সলমন!‌ হলিউডের সুপার হিরো ফিল্ম আর কমিক্স‌–‌এর যুগলবন্দি। বলিউডি নাচ–‌গানের ‘‌টপিং’– সহ।
কিন্তু এবার এই ‘‌জাস্ট সলমন’‌ ফর্মুলাটাই কাল হয়েছে ‘‌রেস থ্রি’‌র কাঠামোয়। ‘‌রেস’‌ সিরিজের একটা ঘরানা আছে। সেখানে প্রথমে কয়েকটা চরিত্র আসে। তারপর তাদের মধ্যে একটা ‘‌জিগজ্যাগ’‌ সম্পর্কের কাটাকুটি খেলা, যাতে একসময় গুলিয়ে যাবে কে কার সঙ্গে, কে কার পেছনে। এর ভেতরেই যাবৎ চমক এবং তাবৎ মোচড়।
এখন সলমনকে এমন একটা চিত্রনাট্যে এনে ফেলার বিপদটা হল এই যে, এখানে সবাই বুঝতে পারবেন যে, অন্তিম হাসিটি কে হাসবেন। তাও পাশে আমির বা শাহরুখ থাকলে কিংবা নিদেনপক্ষে অক্ষয়–‌অজয়রা থাকলেও সাসপেন্সের খেলাটা শেষ পর্যন্ত জমত। তা সেখানে এ ছবিতে পাশে কে?‌ প্রায়–‌বৃদ্ধ অনিল কাপুর। এবং অধুনা–‌বিলুপ্ত ববি দেওল। ফলে শেষ দৃশ্যটা একরকম জেনেই সিনেমা দেখতে বসা।
তার ওপর সলমন আবার ছবিতে তাঁর যে সিংহভাগ উপস্থিতি, তা বেশ ভালরকম আদায় করে নিয়েছেন পরিচালক–‌চিত্রনাট্যকারদের কাছ থেকে। ফলে ছবির শুরুতে অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক সলমন। অহেতুক এক গুরুত্বহীন অ্যাকশন দৃশ্য। তারপর সলমনের ডায়লগবাজি, গান, তথা রোমান্স। মূল ছবি শুরু হতে সময় লেগেছে অন্তত আধ ঘণ্টা।
সেটা শুরু হলে বোঝা গেছে এটা একটাই পরিবারের গল্প। যার কেন্দ্রবিন্দু সমশের সিং (‌অনিল কাপুর)‌ নামের এক বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ী। ভারত থেকে পালিয়ে যে নিজের ব্যবসা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এক দ্বীপ থেকে। শত্রুদমনে যার ব্রহ্মাস্ত্র টাইম বোমা লাগানো কলম। যা সমশের শত্রুর পকেটে অতর্কিতে গুঁজে দেয়, তারপর হেলিকপ্টারে উঠে পালায়। তার এ পক্ষ, ও পক্ষ, দত্তক সব মিলিয়ে যে কতজন সন্তান এবং কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে, তা দ্রুতই দর্শকের গুলিয়ে যাবে। অথচ সেটাই নাকি গল্প!‌ শুধু এটুকু বলা যায়, সেইসব সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে হল সিকান্দার সিং। মানে সলমন খান। আর তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি দুই সৎ ভাই–‌বোন সুরজ (‌সাকিব সালেম)‌ আর সঞ্জনা (‌ডেইজি শাহ)‌। দু’‌জনেই বড় আড়ষ্ট। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আর আছে যশ (‌ববি দেওল)‌। সিকান্দারের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী। ববি যে বহুদিন অভিনয়ের বাইরে আছেন তা বোঝা যায়। ছবির নায়িকা জেসিকা (‌জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ)‌ যে আসলে কার নায়িকা তা বুঝতে অনেকখানি সময় লাগবে। অবশ্য সব জট যখন খুলে গিয়ে ছবি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, তারপরও এ ছবি আরও অন্তত মিনিট কুড়ি চলবে।
সলমন তেমনই, যেমন তিনি বরাবর। নতুন কিছু দেখার আশা বৃথা। আবার পুরোনো কিছু না দেখার আশঙ্কাও অমূলক। সলমন খান যথারীতি এ ছবি‌তে এক ‘‌প্যাকেজ’‌–‌এর নাম।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top