কান্তিরঞ্জন দে: বিষয় যদি হয় অতিপ্রাকৃত, অলৌকিকতা কিংবা প্রেম, তা হলে পর্দায় সে সিনেমার গল্প একটু রয়ে সয়ে, একটু ধীরে সুস্থে বলাই বাঞ্ছনীয়। ট্রিটমেন্টে হুড়ুম–‌দাড়ুম করলে গল্পের মেজাজটা ঠিক স্পষ্ট হতে চায় না। আর গল্পের কাঠামো যদি হয় পূর্বজন্ম–‌পরজন্ম, অশরীরী আত্মা, ডাকিনীবিদ্যা–‌তান্ত্রিকবিদ্যা নির্ভর, তা হলে তো বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার কারণে গল্পের লজিকের দিকে প্রতিটি মুহূর্তে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। নইলে ছবিটি সার্বিকভাবেই মার খায়। নবীন পরিচালক জুটি মীনাক্ষী–‌অভিষেকের প্রথম ছবি ‘‌কুয়াশা যখন’‌–‌এ সেটাই ঘটেছে।
ছবির পূর্বজন্ম অংশে মৃণালিনী পর্ব সম্পূর্ণ বাড়তি। ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে ছবিটির কাহিনী যদি শুধু জমিদার রাজশেখরের স্ত্রী রাজেশ্বরীর সঙ্গে শিল্পী–‌গায়ক–‌ভাবুক ছোটভাই সূর্যশেখরের প্রেম, এবং তার বিরুদ্ধে রাজশেখরের প্রতিহিংসায় দুজনকে খুন এবং পরজন্মে আধুনিক তান্ত্রিক অ্যালেক্স রূপে সূর্যশেখরের দাদার বিরুদ্ধে প্রতিশোধকে (‌বা আত্মাশোধন)‌ কেন্দ্র করে বোনা হত, তা হলে ছবিটি অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও সার্থক হতে পারত।
উৎসব মুখার্জির চিত্রনাট্যের বাঁধুনি টানটান। কিন্তু গল্পে কল্পনা ও যুক্তির খামতি তার লেখায় ঢাকা পড়বে কীভাবে?‌
অভিনয়ে প্রথমেই নাম করতে হয় গার্গী রায়চৌধুরির। বরাবরের মতো এ ছবিতেও (‌রাজেশ্বরীর ভূমিকায়)‌ গার্গীর অভিনয় দীপ্তিময়ী এবং সংবেদনশীল। ছবির শেষে রাজেশ্বরীর ফিরে আসা প্রার্থিত ছিল। বদমেজাজি, নিষ্ঠুর জমিদারের ভূমিকায় শতাফ ফিগার মানানসই। অনিন্দ্যপুলক ব্যানার্জির অমিতাভ একটু মঞ্চঘেঁষা, নাটুকে। ছোটভাই সূর্যশেখর এবং নবজন্মে অ্যালেক্সের চরিত্রে নবাগত ঋষভ বসু বেশ ভাল করেছেন। তবে, গানের দৃশ্যে তানপুরা নিয়ে আরও অনেক অনুশীলন দরকার ছিল।
খামতি সত্ত্বেও প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে পরিচালনার কাজ মন্দ নয়। শিল্প–‌নির্দেশনায় তপন শেঠের কাজ বলবার মতো। জমিদারবাড়ির অন্দরসজ্জা ও উপকরণ চমৎকার। পরিচালকদের আউটডোর লোকেশন নির্বাচনও সুন্দর। ক্যামেরায় সন্দীপ ঘোষালের কাজ লং–‌শটহীন, টিভি–‌সিরিয়ালধর্মী হলেও বেশ ভাল। গান ব্যবহার এবং আবহসঙ্গীতে চিরন্তন ভট্টাচার্য ঠিকঠাক। আর, অভিজ্ঞ মলয় লাহার সম্পাদনা প্রশংসনীয়। শেষমেশ একটাই প্রশ্ন— ছবির নাম ‘‌কুয়াশা যখন’‌ কেন?‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top