সৌগত চক্রবর্তী: বেশ কয়েক বছর আগে গলির ভাই মুন্না চিকিৎসক হয়ে চিকিৎসা জগতের এক সমস্যাকে প্রকাশ্যে এনে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তবে সেই ছবির বিষয় ছিল রোগীর চিকিৎসায় গতানুগতিক নিয়ম-‌কানুনের বেড়াজাল পেরিয়ে কতখানি মানবিক উঠতে পারেন এক চিকিৎসক। তার একটা সার্বিক আবেদন ছিল এই সমাজে। আর এক চিকিৎসা সঙ্কট নিয়ে মুক্তি পেল পরিচালক শঙ্কর রায়ের নতুন ছবি ‘‌কেলো’‌। তবে একে চিকিৎসা সঙ্কট না বলে তিন অসাধু ডাক্তারের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিগত প্রতিশোধের গল্প বলা চলে। ফলে প্রথমেই বলে রাখা ভাল, এই ছবিতে সার্বিক কোনও আবেদন নেই, যা বর্তমান সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। যদিও এই ছবিতে উপাদান হিসেবে, শিশু পাচার বা কিডনি পাচার উঠে এসেছে, যদিও এই উপাদানগুলোকে নির্ভর করে একটা জমজমাট থ্রিলারের সম্ভাবনা ছিল, তবে সে-‌সবই মাঠে মারা গেছে। ছবি হয়ে উঠেছে এক ‘‌হিরো’ কেলোর একাই একশ মার্কা কাণ্ডকারখানা।
ছবির গল্পের কেন্দ্রে আছে এই বস্তিবাসী চোর কেলো। এক বর্ষার রাতে সে আশ্রয় নেয় ‘‌আরোগ্য নিকেতন’ নার্সিং হোমের অন্যতম মালিক অনুরাধা (‌লাবণী সরকার)‌র বাড়িতে। কেলোকে অনেকটাই অনুরাধার ছেলে ডাক্তার রূপ মুখার্জির মতো দেখতে। তাই অনুরাধা পরিকল্পনা করে কেলোকে হাতিয়ার করেই সে প্রতিশোধ নেবে তার স্বামী ডাক্তার শশধর মুখোপাধ্যায় (‌বোধিসত্ত্ব মজুমদার)‌ ও ছেলে‌ রূপের খুনের। সেটা কীভাবে হল তাই নিয়েই এই ছবির গল্প।‌
ছবির প্রথমার্ধ ছিল বেশ একঘেয়ে। বিশেষ করে কেলোর বস্তিজীবন আর নাকল ডাক্তারের জীবনের দ্বন্দ্ব তুলে আনতে গিয়ে বারবার চিত্রনাট্য গল্পের মূল কেন্দ্র থেকে সরে গেছে। তার সঙ্গে অহেতুক কিছু স্থূল রসিকতার চেষ্টাও ছবিকে ভারাক্রান্ত করেছে। ছবির দ্বিতীয়ার্ধ বরং অনেক বেশি গতিশীল।
অনুরাধা চরিত্রে লাবণী সরকার, শশধর মুখার্জির চরিত্রে বোধিসত্ত্ব মজুমদার বা দুই অসাধু ডাক্তারের ভূমিকায় মৃণাল মুখার্জি, রাজেশ শর্মা চরিত্র অনুযায়ী যথাযথ। ছবির নায়িকা ‘‌মুন্নি’‌ ভূমিকায় চেষ্টা করেছেন মণি ভট্টাচার্য। তবে কেলোর ভূমিকায় ঋতজিতের অভিনয় ভাল। বাংলা ধারাবাহিকের এই অভিনেতার এই প্রথম বড়পর্দার ছবিতে অভিনয় নায়ক হিসেবে। প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছেন ঋতজিত।  

জনপ্রিয়

Back To Top