সম্রাট মুখোপাধ্যায়: না লোকেশান, না সাম্প্রদায়িক বেড়া ডিঙোনো প্রেম। কোনওটাতেই পুরোপুরি ঠিকঠাক আস্থা রাখতে পারলেন না পরিচালক অভিষেক কাপুর। আর তাতেই ডুবল ‘‌বিগ বাজেট’‌ কেদারনাথ।
নতুন মুখ সঈফ–‌অমৃতা–‌কন্যা সারা আলি খান আর কতটুকু বাঁচাবেন?‌ বা কেদারনাথ ঘটে যাওয়া ২০১৩–‌র সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ‘‌নিউজ রেফারেন্স’‌?‌
গোলমাল চিত্রনাট্যেই। প্রেমটাও ঘটি ‌ঘটি করে ঘটতে আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়টাও আসি আসি করে আসতে এত সময় নেয় যে দু‌টোরই জন্য দর্শকের প্রতীক্ষা বিরক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
অথচ দু‌টোই ‘‌প্রেডিক্টেবল’‌। আর এ দুটো ছাড়া চিত্রনাট্যের আর বাড়তি কোনও কোণও নেই, যেখানে এ গল্প পাহাড়ে ওঠার পথে হাঁফ ছাড়বার ‘‌চটি’‌ পাবে। ফলে ছবিতে শেষমেশ কী ঘটবে তা বোঝা গেছে মাঝপথ আসার আগেই। সেটাই এ ছবির বক্স–‌অফিস বাণিজ্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। ‘‌কাই পো চে’‌ বা ‘‌রক অন’‌–‌এর মতো হিট দেওয়া পরিচালক অভিষেক কাপুর যেন নিজস্ব টাচ্‌‌টাই হারিয়ে বসে আছেন। ছবিতে সারা হল মন্দাকিনী। ওরফে মুক্কু। সে পাহাড়ি এলাকার ‘‌চার্মিং বিউটি’‌। সহজেই স্থানীয় যুবকদের মনোযোগের কেন্দ্র। আর এটাই সমস্যা তার বোনের কাছে। সে ‌ঈর্ষা করে দিদিকে। এ নিয়ে প্রাথমিক কিছু জটিলতা আছে ছবিতে, যা বেশ বাড়তি লাগে গোটা চিত্রনাট্যের পরিপ্রেক্ষিতে। তাদের বাবা একজন পূজারি ব্রাহ্মণ। অনেকদিন পরে এই চরিত্রে ‘‌মহাভারত’‌‌খ্যাত নীতীশ ভরদ্বাজকে দেখে বেশ ভাল লাগল। কৃষ্ণের সেই গ্ল্যামার নেই বটে। তবে অভিনয়ে দাপট অটুট।
মুক্কুর প্রেম হয় মনসুরের (‌‌সুশান্ত সিং রাজপুত)‌‌ সঙ্গে। যে মনসুর মাথায় ঝুড়ি ঝুলিয়ে যাত্রীদের নিয়ে যায় কেদারনাথে। আর তার মতো একজন মুসলিম বাহকের এই কাজে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি এই বাহকদের নেতা কুল্লুর। যে কুল্লুর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে মুক্কুর। এই সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘাত বা সম্প্রীতির কোণটা ব্যবহার করেই ‘‌ক্লাইম্যাক্স’‌ এসেছে। উত্তরাখণ্ডের সেই বিখ্যাত বন্যা নেমে এসেছে।
প্রথম ছবি হিসাবে সারা আলি মন্দ নয়। তবে চরিত্রটা বড্ড সোজাসাপটা, ফলে তেমন পরীক্ষার মুখে পড়তেও হয়নি। আর সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের রসায়নটার তেমন মিলমিশও হয়নি। সুশান্তকেও বড় সাধারণ লেগেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top