দ্বৈপায়ন দেব
●‌ কার্জনের কলম, পরিচালনা:‌ শৌভিক মিত্র, অভিনয়ে:‌ কুশল চক্রবর্তী, দেবদূত ঘোষ, সাহেব ভট্টাচার্য, পৌলমী দাশ, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সুমিত সমাদ্দার।


যেন লীলা মজুমদারের জগৎ!‌ যেখানে রহস্য আর হাস্য–‌রহস্য মিলেমিশে একাকার। এক যৌথ বাড়ি ভর্তি নানা মজার চরিত্র। আর তারা ঘুরপাক খাচ্ছে এক হারানো গুপ্তধনের খোঁজ নিয়ে। আর সেই গুপ্তধনই হল ‘‌কার্জনের কলম’‌। স্বয়ং লর্ড কার্জন যা দিয়ে বঙ্গভঙ্গের খসড়া স্বাক্ষর করেছিলেন। আর তা দিয়ে গিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার এক বনেদি বাড়ি মিত্তির বাড়ির বড়কর্তা পঁাচুব্রত মিত্রকে উপহার হিসাবে। নানা গোলেমালে পঁাচুব্রত সেটা কোথায় রেখেছিলেন তা ভুলে যান। মনে পড়ে হঠাৎই একেবারে মৃত্যুকালে। বলে যান উত্তরা‌ধিকারীদের। তবে সরাসরি নয়, বরং এক হেঁয়ালির ভেতর দিয়ে। দু–‌টুকরো ছড়ার হেঁয়ালি। ছড়া দুটি সন্দেহ নেই যথেষ্ট আকর্ষক ‘‌আঠারো পেয়ের কাছে চোদ্দো পেয়ে আছে’‌। ‌আর ‘‌আদর শিকায় তুলে রাখে যেইজন, প্রতাপ অক্ষয় হয় বাড়ে মানধন’‌। শৌভিক মিত্রের ছবির এই প্রথম অংশ সব মিলিয়ে যেন ‘‌পদিপিসির বর্মীবাক্স’‌ র জগৎ–‌এ নিয়ে যায়। তবে শৌভিক কখনই হুবহু সেই প্লটের অনুকরন করেন না। বরং বর্তমান সময়ে এসে গল্প বদলে যায়। ঢুকে পড়ে দুর্গাপুজো। দুর্গাপুজোয় মিত্তির বাড়িতে এসে জড়ো হয় সব সদস্যেরা। তিন ভাই, যার ভেতর বড় ভাই (‌কুশলচক্রবর্তী)‌ দায়িত্বসচেতন, মেজ ভাই স্বার্থপর আর ছোট বাই (‌দেবদূত ঘোষ)‌ বাউন্ডুলে। আছে বড় দুই ভায়ের বউ আর বাচ্চা। এ’‌ বাড়িতেই থাকে গবু (‌সুমিত সমদ্দার)‌, সে আশ্রিত, কিন্তু বাড়ির ছেলের মতোই থাকে। সে মাথা ঘামিয়ে চলে ঐ ধাধা দুটোর সমাধান নিয়ে। যার জন্য খুন হতে হয় তঁাকে। এ’‌বাড়িতে ঢুকে পড়া দুই দুষ্টু লোক মনোহর (‌খরাজ মুখোপাধ্যায়)‌ আর গুনব্রতের (‌কাঞ্চল মল্লিক)‌ হাতে। এই  দুই মজাদার ভিলেন সন্দেহ নেই এ’‌ছবির বড় তাস। রহস্যের জাল গুটোতে শুরু করে বড় ভাইয়ের মেয়ে পুপু (‌পৌলমী দাশ)‌ বাড়িতে আসার পরে। সে এবং তার বয়ফ্রেন্ড (সাহেব ভট্টাচার্য্য)‌ রহস্যের সমাধানে হাত দেয়। এদের সঙ্গে থাকে বিশ্ব ভ্রামনিক জটামামা (‌পরান বন্দ্যোপাধ্যায়)‌। এ বাড়ির রাঙা ঠাকুমা (‌লিলি চক্রবর্তী)‌। এমন ডজনখানেক রংদার চরিত্রের আমদানিতে ছবি জমজমাট থাকার কথা। ছোট ছোট সিকোয়েন্সে মজা আছেও। কিন্তু চিত্রনাট্যে গল্পের ঘাটতি থেকে গেছে। ফলে বারবার একাই সংলাপে, একই ঘটনাবৃত্তে ছবি আটকে থেকেছে। বিশেষিত:‌ দ্বিতীয়ার্ধে। তবু এই ছবি যে শেষ অবধি দেখেতে হয়, তার কারন মজাদার ছড়ার উত্তর নিয়ে কৌতুহল। আর একগাদা ভালো অভিনেতার ভাল অভিনয়।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top