সম্রাট মুখোপাধ্যায়: • হ্যাপি পিল। পরিচালনা:‌ মৈনাক ভৌমিক। অভিনয়ে:‌ ঋত্বিক চক্রবর্তী, পার্ণো মিত্র, সোহিনী সরকার, মীর, চন্দন সেন, কাবেরী মুখোপাধ্যায়, সৌম্যজিৎ মজুমদার, নন্দিনী চ্যাটার্জি, ডলি বসু, দেবপ্রসাদ হালদার।
ফিল গুড বটিকা। হঠাৎ পাওয়া এক বড়ি, যা বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনকে। হাশিখুশিতে ভরিয়ে তুলছে চারপাশ। রূপকথার মতো।
আর ঠিক এটাই মৈনাক ভৌমিকের এবারের ছবি ‘‌হ্যাপি পিল’‌–‌এর প্যাকেজিং। এক আধুনিক রূপকথা। প্রচণ্ড কষ্টদায়ক ‘‌রিয়েলিটি’‌–‌র চাপটা গল্পে প্রথম বেশ কিছুটা অংশ পর্যন্ত চারিয়ে রেখে, হঠাৎই সেটা সরিয়ে দেওয়া। মেজাজ ফুরফুরে করে দেওয়া। অবান্তর একটি উপাদানকে ব্যবহার করে। সেটাই ‘‌হ্যাপি পিল’‌। একটা ছোট্ট হাসি মুখের ‘‌ইমোজি’‌ আঁকা হলুদ–‌রঙা বড়ি। যেটা খেলেই মন ভাল হয়ে যায়।
গল্পে এটা তৈরি করেছে এক স্বপ্ন দেখা মানুষ। তার চারপাশের মানুষদের জীবন নানারকম অসুখে ভরা। তার বিধবা মা (‌কাবেরী মুখোপাধ্যায়)‌ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদের শিকার। তার বোন রিনি (‌পার্ণো মিত্র)‌ ন্যুনতম মানবিকতাহীন এক ছেলে সঞ্জীবকে (‌সৌম্যজিৎ মজুমদার)‌ ভালবেসে প্রতিনিয়ত অপমানিত হয় সঞ্জীব আর তার মা (‌নন্দিনী চ্যাটার্জি)‌ কিংবা বোনের কাছে। সে নিজে, মানে তার ভাল নাম সিদ্ধার্থ, ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়েছে এক দুর্ঘটনায়। এখন তার অবলম্বন বাবার রেখে যাওয়া একটা না–‌চলা মিষ্টির দোকান, সেটাও ঋণের দায়ে ব্যাঙ্ক বাজেয়াপ্ত করে নেবে কয়েকদিনের ভেতর। সিদ্ধার্থর (‌ঋত্বিক চক্রবর্তী)‌ এক বন্ধু আছে, যে দরদী, কিন্তু সেও ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধার্থর মতোই দিশাহীন, ব্যর্থ। পচাদা (‌মীর)‌। ফলে নেশার ঘোরে সঙ্গদান ছাড়া আর কিছুই সে করতে পারে না। আর এমন ঘোর কালো সময়ের ভেতরই কেমিস্ট্রিতে এক্সপার্ট সিদ্ধার্থ বানিয়ে ফেলে এক আশ্চর্য বড়ি। ‘‌হ্যাপি পিল’‌। অসুস্থ মার ওপর পরখ করে বুঝতে পারে এ বড়ির ক্ষমতা। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সুখের ঠিকানা।
তবে এ ‌ছবি যে দেখতে ভাল লাগে, তার কারণ বোধহয় হ্যাপি পিলের ‌‘‌ফিল গুড’‌ মার্কা গল্প নয়, বরং–‌এ ছবির পারিবারিক কাঠামো, যা বাস্তবসম্মতভাবেই ধরেছেন মৈনাক। এ ছবি প্রোডাকশান ডিজাইন আর কস্টিউমে প্রশংসার দাবিদার। এ ছবির সমস্যাঘন প্রথমার্ধ বেশি ভাল, সরল ‘‌প্রেডিক্টেবল্‌’‌ দ্বিতীয়ার্ধের চেয়ে। মৈনাক নিজের ছবি বানানোর স্টাইল এখানে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন। প্রশংসনীয় অভিনয় করেছেন নো–‌মেকআপ লুক–‌এ পার্ণো মিত্র, ঋত্বিক যথারীতি মাত করেছেন স্বাভাবিক অভিনয়ে। সাংবাদিক, কালক্রমে সিদ্ধার্থের প্রেমিকা চরিত্রে সোহিনী স্বচ্ছন্দ। কমিক রিলিফ জোগানোয় মীর অফুরান। কিন্তু আধুনিক কবিতায় কথা বলা ভিলেনের চরিত্রে চন্দন সেন এ ছবিতে এক কথায় অনবদ্য।‌

জনপ্রিয়

Back To Top