সম্রাট মুখোপাধ্যায়: রাস্তা বদলালেন মৈনাক ভৌমিক।
প্রায় ‘‌টিম এজ’‌ প্রেমের গল্পে ফিরলেন কোয়েল মল্লিক। সঙ্গে যিশু সেনগুপ্তও। প্রায় এক দশক পরে জুটি বেঁধে। সঙ্গে ছড়িয়ে–‌ছিটিয়ে থাকল খানিকটা ‘‌অ্যানিমেশন’‌–‌এ গল্প বলা, কিছুটা জোর করেই দুই–‌গোয়েন্দা ব্যোমকেশ আর কাকাবাবুর স্মৃতি জুড়ে দেওয়া, আর অনেকটা জুড়ে মিউজিক্যাল রোমান্স তৈরি করার জন্য এক ব্যান্ড আর তার রেঁস্তোরা খোলার গল্প।
ও হ্যাঁ, বেশ ভাল ‘‌কাস্টিং’‌–‌এর দৌলতে নজরে পড়ার মতো একটা ’‌ফ্যামিলি অ্যালবাম’‌ও। যেটা আবেগ সেভাবে জোগায়নি ঠিকই, তবে সারাক্ষণই একটা ‘‌কমেডি’‌ জুগিয়ে গেছে। আর সেটা বহু বহু বহুবার দেখাশোনা কনফিউজড লাভ স্টোরি’‌ টাকে একঘেয়ে হবার হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
কারণ এ ছবিকে পরিচালক মৈনাকের প্রকারান্তরে মুম্বই পাড়ি বললেও মন্দ হবে না। গত পৌনে একদশকে বলিউডে তৈরি হওয়া এত এত হাইস্কুল কমেডির সঙ্গে এ ছবির মিল আছে যে ছবি চলতে চলতেই সেই সব মিল নিয়ে স্মৃতির ‘‌ক্যুইজ’‌ খেলতে পারেন দর্শকেরা। নায়ক–‌নায়িকারা ছোটবেলা থেকেই আলাপ, দুষ্টুমির মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব। তারপর সেই বন্ধুত্বের খুনসুটিতে পাড়ি দেওয়া প্রথম যৌবনেও। সেখানে আবার মেয়েটি একটু বেশি দাপুটে। ফলে তার ধবধবে মুখ আর জবরদস্ত কিলের ভয়ে নায়ক বেচারা নিজের মনের ভিজে ভিজে কথাটা কিছুতেই জানিয়ে উঠতে পারে না মেয়েটি মানে নায়িকাকে। এদিকে নায়িকা ও নায়ক দুজনের বাড়িতেই বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। আর এখানেই ‘‌এন আর আই’‌ নামক অতি আকাঙ্ক্ষিত ‘‌অ্যাঙ্গেল’‌ বা বহুবার নিহত ‘‌কুক্কুট’‌–‌টির প্রবেশ। যাইহোক অনেক মণ তেল পুড়িয়ে ছবির একেবারে শেষে ফর্মুলা মেনে নায়িকা বুঝবে ওই ছেলেটির কাছেই ‘‌সন্ধ্যাতারা আছে’‌। অতএব বিয়ের পিঁড়ি থেকে দে ছুট। 
যাঁরা গত পৌনে এক দশকের হিন্দি ছবির দর্শক, তাঁরা নিশ্চয়ই এমন গল্প–‌সম্বলিত ছবিরও নিয়মিত দর্শক। সেই সব ছবির দর্শকে ভাগ বসাতেই বোধ করি মৈনাক ভৌমিকের এমনতর নতুন পথে হাঁটা। 
নতুনতর যে সব তথ্য জানানোর তা হল, এক— এখানে নায়ক–‌নায়িকা বাঙালি ও তাদের নাম অমিত রায় ও লাবণ্য  চ্যাটার্জি (‌না, এটা পড়ে মনে কোনওরকম ‘‌শেষের কবিতা’‌র অ্যাঙ্গেল আনবেন না)‌। এই দুই চরিত্রে যিশু সেনগুপ্ত ও কোয়েল মল্লিক অভিনয় করেছেন। দারুণ করেছেন। বোম্বের এই ধরনের ছবির নায়ক–‌নায়িকাদের থেকে তাঁদের ‘‌প্রেজেন্স’‌ বা ‘‌পারফরমেন্স’‌ কোনওটাই কম লাগেনি। জয় সেনগুপ্তর উপস্থিতি ও অভিনয় নিয়েও একই কথা।
দুই— এ ছবিতে পরিবারগুলোকে অবশ্য সাম্প্রতিক বাঙালি পরিবার বলে বেশ চেনা গেছে ও আকর্ষণীয় লেগেছে। তবে ভাল লাগেনি অপরাজিতা আঢ্যর মতো দাপুটে একজন অভিনেত্রীকে দিয়ে আদ্যন্ত ভাঁড়ামো করিয়ে যাওয়াটা। কী বিশ্রী অপচয়। আর এর থেকেও মাত্রাবোধের অভাব লেগেছে অহেতুক সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ আর কাকাবাবুকে গল্পে হাজির করে তাদের পাড়ার ছিঁচকে রোমান্স–‌সন্ধানী টিকটিকি বানিয়ে দেওয়াটা!‌ 
ও হ্যাঁ, অবশ্যই একটা তিন নম্বর কথা আছে। অনুপম রায় আর স্যাভির সুরে ছবি জুড়ে বেশ অনেকগুলোই গান আছে। তার অনেকগুলোই বেশ সুন্দর। দর্শকের পক্ষে ওই ছবির নগদ–‌বিদায় বলতে এটাই।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top