সম্রাট মুখোপাধ্যায়: এবার আর স্কুল নয়, বরং কলেজ। আর সে কলেজ নিছক দেশের নামী–‌দামী ইংরেজি মাধ্যম ‘‌এলিট’‌ কলেজ নয়, বরং একেবারে সরাসরি বিলেতের মাটিতে সেরা বিশ্ব–‌বিদ্যালয়। সেখানে পড়তে যাওয়ার আকাঙ্খা!‌ এক মধ্যবিত্ত রাজস্থানি হালুইকরের মেয়ের।
এই নিয়ে এবারের গল্প। এবারের ছবি কোনও ভাবেই আগের ছবির সিক্যুয়েল নয়। বড়জোর ‘‌স্পিন অফ’‌ বলা যেতে পারে। আলাদা ছবি হিসেবে দেখলেও ক্ষতি নেই। প্রযোজক এক থাকলেও বদলে গেছে পরিচালক। এবার সাকেত চৌধুরির জায়গায় এসেছেন ভারি নাম হোমি আদাজানিয়া। 
শুধু তাই নয় এবারের গল্পে যেমন বিদেশমুখী উড়ান  তেমনই ‘‌কাস্টিং–‌এও এবার বৈভবের ছোঁয়া। এই ‘‌ফ্র‌্যঞ্চাইইজি’‌র প্রাণ ইরফান খান। তিনি এবারও আছেন। তাঁকে ছাড়া ওই ছবি হয় না। এবারও দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে এসে, এই কামব্যাক ইনিংস। মধ্যবর্তী বিরতি এতটুকুও মর্চে ধরায়নি তাঁর তুনীরের সব প্রিয় অস্ত্রে। সেই একইরকম নীরবতা, বাঙ্ময় তাকিয়ে থাকা, অর্থময় হাসি, নিজস্ব মড্যুলেশানে মোক্ষম সংলাপ বলা, ঈষৎ ‘‌কনফিউশন’‌ আর কিঞ্চিৎ দৃঢ়তাকে এক অদ্ভূত অনুপাতে মিশিয়ে চরিত্রের ‘‌স্টান্স’‌ তৈরি করা। ইরফান আজও স্বমহিমায় মৌলিক। ওই ছবিতে তিনিই সমস্যার কেন্দ্রে থাকা ওই হালুইকর, যে নিজের মেয়েকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে জেরবার।
এই ছবি যতটা ইরফানময় (‌‌ছবিতে তার নাম চম্পক বনশাল)‌‌ ততটা দীপকময়ও। দীপক মানে দীপক দোবরিওয়াল। তিনি এই ছবিতে গোপী বনশাল। চম্পকের তুতো ভাই। দু’‌জনের মধ্যে প্রবল দ্বন্দ্ব কে প্রকৃত উত্তরাধীকারি প্রবল জনপ্রিয় ‘‌ঘসেটিরাম মিঠাই’‌ ব্র‌্যান্ডের। তা নিয়ে মামলা, ঝগড়া ইত্যাদি। এই পর্বটিকে স–‌আদালত ও স–‌জজসাহেব দু’‌টি চমৎকার ‘‌সাবপ্লট’‌ হিসেবে ব্যবহার করেছে চিত্রনাট্য। এবং এই সাবপ্লট দু’‌টিই ছবির সবচেয়ে আকর্ষক অংশ। 
চম্পকের মেয়ে তারিকা (‌‌রাধিকা মদন‌)‌‌। স্কুলের পড়া সেরে পাড়ি দিতে চায় ইংল্যান্ডে। পড়াশুনা করতে। অল্প বয়েসে তার মা মারা গেছে। বাবাই তাকে মানুষ করেছে মা–‌বাবা দু’‌জনের স্নেহ দিয়ে। এতে বাবার অধিকারবোধ আর নির্ভরতা বেড়েছে তার প্রতি। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ে মানসিকভাবে দূরে চলে গেছে বাবার থেকে, আরও স্বাধীনতার আকাঙ্খায়। সম্পর্কের এই বৈপরীত্যময় আকাঙ্খাই ওই ছবির মূল কেন্দ্রবিন্দু। হোমি তো ওই ব্যাপারটায় ‘‌মাস্টার’‌। কিন্তু এবার অবশ্য হোমি তাঁর সেই পুরোনো ম্যাজিকটা যেন দেখাতে পারেননি। বরং কিছু চেনা, প্রত্যাশিত প্যাঁচে জড়িয়ে পড়ে মাঝপথেই ছবি থেকে ‘‌সাসপে’‌ ব্যাপারটা হারিয়ে গেছে। যে ‘‌সাসপেন্স’‌–‌এর কেন্দ্রে ছিল একটা চ্যালেঞ্জ। মধ্যবিত্ত চম্পকের নেওয়া একটা চ্যালেঞ্জ। যে নানা বাধা পেরিয়ে, সে মেয়েকে লন্ডনে পড়াবেই।
এর মধ্যে এসে গেছে কিছু চরিত্র। যেমন চম্পকের বাল্যবন্ধু লন্ডন–‌প্রবাসী এক ব্যর্থ ড্রাগ ডিলার (‌‌রণবীর শোরে)‌‌, এক মহিলা সুপারকপ (‌‌করিনা কাপুর)‌‌, তার নিঃসঙ্গ অভিমানি মা (‌‌ডিম্পল কাপাডিয়া)‌‌, এক আন্তর্জাতিক বে আইনিভাবে সীমা–‌লঙ্ঘন করানো এজেন্ট (‌‌পঙ্কজ ত্রিপাঠি)‌‌। চরিত্রগুলো সবই সু–‌অভিনীত দক্ষ অভিনেতা–‌অভিনেত্রীগুণে। কিন্তু চরিত্রগুলোয় চিত্রনাট্য খুব বেশি শাঁস–‌রস দিতে পারেনি, এটাও বোঝা গেছে। ফলে, ছবির শেষে মনে কোনও রেশ থাকে না।

জনপ্রিয়

Back To Top