সম্রাট মুখোপাধ্যায়: বিখ্যাত জনপ্রিয় মারাঠি ছবির রিমেক। ‘‌সাইরাট’‌। যে ছবি গত বছর ঘুরে এসেছে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে। যে ছবি মারাঠি সিনেমার ইতিহাসে বক্স অফিসের হিসেবে সফলতম। বাণিজ্যের অঙ্কটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। মাত্র চার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ছবি ব্যবসা করেছে ১১০ কোটি টাকার!‌ এ ছবির ইতিমধ্যেই রিমেক হয়ে গছে পাঞ্জাবি, কন্নড়, তেলেগু, তামিল, মালায়ালম এমনকী বাংলাতেও। (‌রাজ চক্রবর্তীর প্রযোজনায় সে ছবির নাম ছিল ‘‌নূরজাহান’‌)‌। অতএব বলিউড আর বাকি থাকে কেন?‌ নাগরাজ মনজুলের পরিচালিত এ ছবির এবার হিন্দিতে ‘‌রিমেক’‌ হল ‘‌ধড়ক’‌ নামে। শশাঙ্ক খৈতানের পরিচালনায়। প্রযোজনা করেছেন করণ জোহর। 
হিন্দিতে আসার ক্ষেত্রে এই প্রযোজকের নামটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখানে। এ ছবি চিত্রনাট্যগতভাবে আদ্যন্ত প্রেমের। এই প্রেমের ছবি বানানোর ব্যাপারে করণ জোহর ও তাঁদের পরিবারের একটা চালু ঘরানা আছে। যে ঘরানার প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত পরিচালক শশাঙ্ক খৈতান। শশাঙ্কের পরিচিতি তৈরি করছে যে দুটি ছবি সেই ‘‌হাম্পটি শর্মাকে দুলহানিয়া’‌ আর ‘‌বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’‌–‌সে দুটি ছবিই করণের অর্থানুকূল্যে ও করণ–‌খ্যাত ‘‌হ্যাপি–‌হ্যাপি–‌নটি–‌নটি’‌ খুনসুটি মার্কা প্রেমের ঘরাণায় বানানো। এবারও শশাঙ্ক ঐ ছাঁচে ফেলেই অনুবাদ কিংবা ঢালাই করতে চেয়েছেন ‘‌সাইরাট’‌–‌কে।
আর মুশকিলটা সেখানেই বেঁধেছে। মারাঠি ছবি ‘‌সাইরাট’‌–‌এর মূল সুরটা বাঁধা ছিল প্রেমের কোমলতায় নয়, বরং প্রেমের বিরুদ্ধতার হিংস্রতায়। মারাঠি শব্দ ‘‌সাইরাট’‌–‌এর অর্থ বন্য। প্রবল আধিকারবোধের মধ্যুযুগীয় বন্যতা ‘‌সাইরাট’‌–‌এর চিত্রনাট্যকে শাসন করেছিল। ‘‌ধড়ক’‌–‌এ টিন–‌এজ প্রেম আছে। বাড়ি থেকে পালানো আছে। অধিকার–‌বোধের তুমুল দাপট আছে। নেই শুধু বন্যতাটা। আর চিত্রনাট্যের ‘‌ডাউন টু দ্য আর্থ’‌ ভাবটা। বাড়ি থেকে পালানোর পরে প্রবল লড়াই করে বেঁচে থাকার ঘাম–‌রক্ত–‌কান্নার বিষাদটা। ডিজাইনারস পোশাকের চাপে হারিয়ে গেছে সেটা। 
এ ছবিতে কলকাতায় সে লোকেশান যেমন সরিয়ে এনেছেন শশাঙ্ক, তেমনই মূল ছবির নাগরিক নিষ্ঠুরতাকে অনেকটা পেলব করে নিয়েছেন। এ শহরে দুজনে বড় সহায় হিসেবে পায় এক বাঙালি দাদাস্থানীয় ব্যক্তি শচীন ভৌমিককে। 
এই চরিত্রে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের মজাদার অভিনয় ছবির দ্বিতীয়ার্ধকে অনেকটাই ধরে রেখেছে। খরাজ কিন্তু ধারাবাহিকভাবে হিন্দি ছবিতে ভালো কাজ করে যাচ্ছেন।
কয়েক মাস আগেই মুক্তি পাওয়া মজিদ মাজিদির ছবি ‘‌বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’‌–‌এ নিজের অভিনয় দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন ঈশান। এখানেও অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। শ্রীদেবী-‌কন্যা জাহ্নবীও প্রথম ছবিতে যথেষ্ট ভাল।
‘‌সাইরাট’‌–‌এর শেষে একটা নিষ্ঠুর চমক ছিল। এ ছবিতেও আছে। তবে সেখানে ঘুঁটিগুলো একটু বদলে গেছে। এই বদলটার দরকার ছিল না। তবে যাঁরা সাইরাট দেখেননি, তাঁরা অবশ্য শেষটায় বেশ ঝাঁকুনি খাবেন। আর তারপরই ‘‌অনার কিলিং’‌ নিয়ে মূল বার্তাটি কালো পর্দায় আসায়, মনে মনে এ ছবির ভাবনার প্রতি একটা কুর্ণিশ জানিয়ে হল থেকে বেরোবেন। সেটাও বা কম কী!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top