(আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই প্রয়োজন একটা বারান্দার। যা সাময়িকভাবে আমাদের জীবনে এনে দেয় কিছুক্ষণের স্বস্তি, নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করে জীবনের কাছে ফিরে যেতে। এই ভাবনা নিয়েই মতি নন্দির উপন্যাস অবলম্বনে ছবি ‘‌বারান্দা’‌। অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসু ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ‘‌বারান্দা’‌ মুক্তি পেল শুক্রবার।)
 

 

সৌগত চক্রবর্তী: অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে ঘর যখন দূর্বিষহ হয়ে ওঠে তখন প্রয়োজন হয় একটা বারান্দার। যেখানে মুক্ত আলো ও হাওয়ার সংস্পর্শে দু’‌দন্ড তাজা হওয়ার অবকাশ পায় মানুষ। আমাদের জীবনেও এরকম একটা বারান্দার প্রয়োজন আছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই বারান্দা হয়ে উঠতে পারে একজন তৃতীয় মানুষ। মতি নন্দির এরকমই একটা গল্প ‘‌বারান্দা’‌। যেখানে রুনু তার বারান্দা হিসেবে খোঁজ পায় অম্বরের। সেই গল্পকেই বড়পর্দায় এনেছেন পরিচালক রেশমী মিত্র। ইতিমধ্যেই এই ছবি প্রদর্শিত হয়েছে ডালাস ও লন্ডন ফিন্ম ফেস্টিভ্যালে। প্রদর্শিত হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও। অবশেষে শুক্রবার কলকাতায় মুক্তি পেল ইন্দ্রজিৎ রায়ের ইজেল এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত এই ছবি।
এক নার্সের মেয়ে রুনু। তার মা নার্সের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্যে পতিতাবৃত্তি করতো বাধ্য হয়ে। রুনুর বাবা স্ত্রীর সেই কাজের দেখভাল করত। রুনুর মায়ের কাছে নিয়মিত আসত মোহন ও গিরিজা। একসময় রুনুর মা মারা যায় এবং একটা দুর্ঘটনায় গিরিজা পঙ্গু হয়ে যায়। দুটো মানুষ নিতান্ত প্রয়োজনেই বাঁচার তাগিদে পাশাপাশি আসে—রুনু ও গিরিজা। বিয়ে না হলেও তারা দীর্ঘ ১৫ বছর একসঙ্গে থাকে। এইভাবে থাকতে থাকতে রুনু যখন হাঁফিয়ে উঠেছে তখনই তাদের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হয়ে আসে মফস্‌সলের এক ফুটবলার অম্বর। ক্রমশ এই অম্বর হয়ে উঠতে থাকে রুনুর ‘‌বারান্দা’‌।
ছবিতে রুনুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বললেন, ‘‌মতি নন্দি এমন একজন লেখক যাঁর লেখায় একটা অদ্ভুত সিনেম্যাটিক উপাদান আছে। সেই কারণে তাঁর একাধিক উপন্যাস নিয়ে সিনেমা হয়েছে। আমার মনে হয় বাংলা ছবিতে রিমেক বন্ধ করে আবার সাহিত্যের কাছে ফিরে যাওয়া উচিত। বিভিন্ন ধাঁচের সাহিত্য নিয়ে সিনেমা করলে যেমন আমাদের বাংলা ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে তেমনি দর্শকদের মনও আলোকিত হয়ে উঠবে’‌। বললেন, ‘‌এই গল্পে রুনুর জীবনে একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব রয়েছে। গিরিজাকে সে ভালবাসে। কিন্তু একটা পরিস্থিতে অম্বরকেও নিজের সবকিছু দেওয়ার জন্যে তৈরি হয়ে যায় সে। যদিও গিরিজার প্রতি তার ভালবাসা একটুও কমেনি। এই চরিত্রে অভিনয় করে বেশ তৃপ্তি পেয়েছি।’‌ অন্যদিকে ছবিতে গিরিজার ভূমিকায় আছেন ব্রাত্য বসু। বললেন, ‘‌এই প্রথম যে মতি নন্দির কোনও উপন্যাসে অভিনয় করলাম তা নয়। এর আগে সঞ্জয় নাগের পরিচালনায় ‘‌পারাপার’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। সেটি মতি নন্দির ‘‌পূবের জানালা’‌ অবলম্বনে। সেই ছবিতেও‌ আমার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। তবে এই উপন্যাসটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের। মতি নন্দির লেখা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বাস্তব জীবনে আমি বারবার আউড়ে যাই সেই বিখ্যাত সংলাপ ‘‌ফাইট কোনি ফাইট’‌।’‌ বললেন, ‘‌আসলে আমাদের জীবনে একটা বারান্দার খুব দরকার। এই ছবিতে উত্তর কলকাতার বাড়িটা যেমন একদিকে রুনুর বারান্দা, তেমনি গিরিজারও বারান্দা। এই বারান্দায় বসেই ,এ পৃথিবীটাকে উপভোগ করে, ঘৃণা করে, গালাগাল দেয় বা চিৎকার করে।’‌ অম্বরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাহেব ভট্টাচার্য। জানালেন, ‘‌মফস্‌সল থেকে কলকাতায় খেলতে আসা এক ফুটবলারের চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। এই চরিত্রে অভিনয় করতে করতে মনে পড়ে যাচ্ছিল বাবা সুব্রত ভট্টাচার্যর কথা। তিনিও কমবয়সে এক মফস্‌সল শহর থেকেই কলকাতায় এসেছিলেন।’‌ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীলা মজুমদার। সঙ্গীত পরিচালনায় রাজা নারায়ণ দেব।    

জনপ্রিয়

Back To Top