দ্বৈপায়ন দেব: অতিথি‌। পরিচালনা:‌ সুজিত পাল। অভিনয়ে:‌ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সায়নী ঘোষ, প্রতীক সেন, রজত গঙ্গোপাধ্যায়, কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, তুলিকা বসু, বিশ্বনাথ বসু, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়।
স্মৃতি–‌হারানো। আর ভালবাসা–‌হারানো। আর তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা। এই নিয়েই ‘‌অতিথি’‌।
সুজিত পালের এ ছবির কেন্দ্রে আছে এক উন্মুক্ত মানসিক–‌আরোগ্যালয়। যেখানে মনোরোগীদের সাহচর্য আর মুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমে ঠিক করার চেষ্টা করেন এক বয়স্ক চিকিৎসক (‌রজত গঙ্গোপাধ্যায়)‌। তাঁর বড় সহায় তাঁর মেয়ে স্নিগ্ধা (‌ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত)‌ ও একদা ছাত্র চিকিৎসক ডাঃ অরিন্দম (‌প্রতীক সেন)‌।
স্নিগ্ধার বিবাহিত জীবন সুখের নয়। তার স্বামী (‌শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়)‌ প্রবল লম্পট ও মারকুটে। স্নিগ্ধা ডিভোর্সের জন্য লড়ছে, আর তার চোখের সামনেই চলছে ব্যভিচার। অন্যদিকে বন্ধু অরিন্দমকে সে পাশে পায় এসব বিপদের মুহূর্তে। কিন্তু তাদের সম্পর্কটা ঠিক প্রথাগত রোমান্সের নয়। এই ব্যাপারটা নিজের অভিনয়–ব্যক্তিত্ব দিয়ে চমৎকার ধরেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রতীক সেনের মতো একজন নতুন অভিনেতাও তাতে চমৎকার স্বচ্ছন্দ থাকতে পেরেছেন তাঁর পাশে।
স্নিগ্ধার বাবার এই মানসিক আরোগ্যালয়ের প্রতি বিষনজর পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রোমোটার লাহাবাবুর (‌শুভাশিস মুখোপাধ্যায় অদ্ভুত কিন্তু কার্যকরী কিছু ম্যানারিজম ব্যবহার করেছেন)‌। এ নিয়ে শুরু হয় লড়াই। তবে সেটাই চিত্রনাট্যের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু নয়। যেমন নয় স্নিগ্ধার অসুখী দাম্পত্য বা প্রেমও। এমন দুটি হাতে–গরম উপাদানকে যে নবাগত পরিচালক সুজিত পাল সংযমের সঙ্গে সরিয়ে রেখেছেন, এটাই তাঁর পক্ষে সবচেয়ে কৃতিত্বের কথা।
বরং একটু অনভ্যস্ত পথে হেঁটে তিনি তুলে আনতে চেয়েছেন ওই মানসিক আরোগ্যালয়ের ডিটেলিংস। সেখানকার নানা বাসিন্দাদের হাসি–‌কান্না–খুনসুটির রোজনামচা। এক যুবতীর (‌সায়নী ঘোষ)‌ সারাক্ষণ মজা করে চলা তার সঙ্গী যুবকের সঙ্গে। এক বিগত দিনের যাত্রাভিনেত্রীর (‌তুলিকা বসু)‌ স্মৃতি–‌রোমন্থন। এক হতে–চাওয়া চিত্রপরিচালকের (‌বিশ্বনাথ বসু)‌ ক্যামেরা–চোখ দিয়ে সব কিছু দেখা। এক ক্রিকেটপ্রেমীর (‌অরিন্দোল বাগচী)‌ কথায় কথায় স্কোর জানতে চাওয়া। এক কথা হারিয়ে ফেলা রোগীর বাবার (‌কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়)‌ বেদনা। এমন সব নানা টুকরো টুকরো সাবপ্লট। সবক’‌টা সিকোয়েন্সই যে উতরেছে এমনটা নয়। কিছু কিছু বড্ড দুর্বল লেগেছে। কিছু কিছু অনুমানযোগ্য। তবু এককালে বাংলা সিনেমায় হাসপাতাল, পান্থশালা, ভ্রমণস্থান, জেলখানা ইত্যাদি নিয়ে যেমনভাবে যৌথজীবনের ছবি আঁকা হত, সেই পথে হাঁটতে চাওয়ার সৎ প্রয়াস আছে এ ছবিতে, সাফল্য–‌ব্যর্থতার বিচারের ঊর্ধ্বে উঠে সেটাই বলার। এ ছবি নিছক নায়ক–‌নায়িকা আর রোমান্সনির্ভর হয়ে থাকতে চায়নি। একটি দৃশ্যে এক রক্ষণশীল উকিলের ভূমিকায় মনোজ মিত্র দর্শকদের প্রচুর মজা দিয়েছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top