আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এক কথায় বললে, ‘রাইংগার্দ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যাবে‌ নয় এই সিরিজটিকে। এমিলি ইন প্যারিস দেখে থাকলে শব্দটির অর্থ বুঝতে সুবিধা হবে। যাঁরা দেখেননি, তাঁদের জন্য বলি, এই শব্দের অর্থ, যার মধ্যে নতুনত্ব নেই, পুরানো ধাঁচের। সিরিজটি একবার হলেও দেখা উচিত। কেন?‌ ১০ খানা এপিসোড ধরে প্যারিস শহরের রূপ রস আস্বাদন করার জন্য। প্যারিসবাসীর তাক লাগানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার জন্য। কোভিড অতিমারীতে যখন আবিশ্ব গৃহবন্দি, তখন পৃথিবীর সুন্দরতম শহরটিকে চেটেপুটে নিতে কে না চাইবে? আর এর চেয়ে বড় সুখ কীই বা হবে? এই সিরিজিটি আরও একটি কারণে দেখা যেতে পারে। ‘‌সিটি অফ লাভ’–এ প্রেম হওয়া না হওয়া একটি বুক দুরুদুরু প্রেমের জন্য। সিরিজটির ১০টি এপিসোড ধরে মনের কোণায় বেশ একটা হালকা চিনচিনে ব্যথা ধরে রাখে। আর তাতে বড্ডই আরাম।‌ 
‌কিন্তু সিরিজটি জুড়ে স্টিরিওটাইপ উপাদান। এমিলির বস (‌ফিলিপিন লেরয় বেউলিউ)‌, যে এমিলিকে নিয়ে খুশি নয়। তাকে খুশি করার আপ্রাণ চেষ্টা করে এমিলি (অভিনেতা লিলি কলিন্‌স‌)। হ্যান্ডসাম প্রতিবেশী (‌অভিনেতা লুকাস ব্রাভো)‌, যাকে ভাল লাগে এমিলির। শুধু প্রেম–প্রেম ভাব না। যৌন চিন্তাও মাথায় ঘোরে। কিন্তু.‌.‌.‌ কঠিন পথ। মজার সহকর্মীরা (স্যামুয়েল আর্নোল্ড‌, ব্রুনো গোইরি)‌, যারা প্রথমে পছন্দ না করলেও পরে এমিলিকে সাহায্য করতে থাকে। পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধুও (‌অভিনেতা অ্যাশলে পার্ক)‌ পায় সে। নতুন শহর, নতুন বন্ধু। খাপ খাইয়ে নিতে সবরকম ভাবে সঙ্গে থাকে যে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, সিরিজের শুরুর দিকেই শিকাগোবাসী দীর্ঘদিনের প্রেমিক এমিলির হাত ছেড়ে দিচ্ছে। নাহলে তো নতুন প্রেমের ভাবটাই থাকে না, তাই না?‌ একটি রোম্যান্টিক কমেডিতে এতদিন যা যা পেয়েছি। ঠিক তাই তাই। গল্পের মোড়?‌ যেরকম আগে দেখেছি, সেরকমই। শিকাগো থেকে প্যারিসে কাজ করতে এসেছে এমিলি‌। শুধু কাজ করতে এসেছে বললে ভুল বলা হবে। ফ্রান্সের মার্কেটিং সংস্থায় আমেরিকান দৃষ্টিভঙ্গির বীজ বপন করতে এসেছে সে। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখে আসার প্রয়োজন বোধ করেনি এমিলি। আর তার সেই বেচারি ভাবটাই শহরের কিছু পুরুষ ও নারীর কাছে আদুরে লেগেছে। 
কিন্তু ফরাসি নারী–পুরুষ, ফরাসি খাবার, ফরাসি মদ, ফরাসি প্রেম, ফরাসি চুমু, ফরাসি বেদনা, ফরাসি বিশ্বাসঘাতকতা বলতে যা দেখানো হয়েছে, তা যেন ভীষণই ‘‌বাইরে’‌ থেকে দেখানো হয়েছে। বাস্তবের সঙ্গে থেকে গিয়েছে ফরাসি ফ্যান্টাসির যোজন দূরত্ব। আমেরিকান দৃষ্টিভঙ্গি প্রোথিত হয়েছে সিনেমাটি জুড়ে। কিন্তু প্রতিটি চরিত্রের দুর্দান্ত অভিনয় শেষমেশ ‘‌এমিলি ইন প্যারিস’‌–কে করে তুলেছে আদ্যোপান্ত প্রেমের সিরিজ। সুন্দর লোকেশনে প্রেমের আনচান ব্যথা এই লকডাউনে অনেককেই নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। 
তবে, মিলেনিয়াল চরিত্র চিত্রণে কিছু আগলা সুতো রয়েই গিয়েছে। সেক্সিস্ট বিজ্ঞাপনকে আইডেন্টিফাই করলেও এমিলি সেটা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলতে পারে না। বরং সেক্সিস্ট অর্থাৎ নারীবিদ্বেষী বিষয়টি ফ্রান্সে যেন অজানা একটি বিষয়, সেভাবে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। বরং এই সময়ের একটি সচেতন মেয়ের থেকে সেক্সিস্ট প্রশ্নটি নিয়ে জোরালো প্রশ্নের আশা করেছিল সবাই। ভেবেছিল, সে শুধুই ইন্সটাগ্রামে ফলোয়ার বাড়ায় না, সে প্রশ্ন তোলে। কেন খাবার টেবিলে ওয়াইনের বোতলে মেয়েরা হাত দিতে পারে না, সেটা নিয়ে বিদ্রোহ করবে। কিন্তু এমিলি মেনে নেয়। কেন?‌

জনপ্রিয়

Back To Top