আজকাল ওয়েবডেস্ক: একুশের বিধানসভা ভোট তাঁর কাছে ছিল নিজেকে প্রমাণ করার। আর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের গড় রক্ষার দায়িত্বও বর্তেছিল তাঁরই কাঁধে। আর সবকিছু সামলে আজ প্রথমবারের জন্য রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রামনগরের দীর্ঘদিনের বিধায়ক অখিল গিরি। দল এবং দলনেত্রীর প্রতি আস্থা রেখেছিলেন সবসময়। একসময় অধিকারী পরিবারের চাপে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে কোনও দিন যাননি তিনি। আজ তাই মর্যাদা ফিরে পেলেন অখিল গিরি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬ আসনের মধ্যে ৯ আসনে দলকে জয় এনে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া এই নেতা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনীতিতে সবসময়ই অধিকারীদের সঙ্গে ঠোকাঠুকি লেগেই থাকত অখিল গিরি শিবিরের। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে বারবার দাবি করেছেন জেলার সব আসনে বিজেপির জয় হবে। কিন্তু ভোটের ফল বলছে অন্য কথা। জেলার ৭ আসনে তৃণমূল হারলেও ৯ টি আসন তৃণমূল ধরে রাখতে পেরেছে। শুভেন্দু তৃণমূলে থাকাকালীন দাবি করতেন জেলায় তৃণমূলের সব আসন জেতার পিছনে তাঁর ভূমিকাই প্রধান ছিল। কিন্তু একুশের বিধানসভা ভোটের ফল সে কথা বলছে না। বরং পূর্ব মেদিনীপুরে ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে শিশির অধিকারী এবং শুভেন্দু অধিকারীর। ভোটের ফলে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমবারের জন্য মন্ত্রী হওয়ার পর অখিল গিরির প্রতিক্রিয়া, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার সুবাদেই নতুন দায়িত্ব পেলাম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমায় ভরসা করে এই নতুন দায়িত্ব তুলে দিয়েছে তা যথাযথ ভাবে পালন করে যাবো। জেলায় এবার বিজেপি এবং অধিকারী পরিবারের সঙ্গে লড়াই ছিল। সেই লড়াইয়ে আমরা জিতছি। কয়েকটা জায়গায় হয়তো আমরা পিছিয়ে আছি। তা এবার সংগঠনে মেরামত করে, মানুষের কাজ করে সব ঠিক হয়ে যাবে। আগামীদিনে জেলার সর্বত্র তৃণমূলের জয় হবে। দলকে আরও সাফল্য এনে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে বিধানসভা নির্বাচনে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে জোর লড়াই হয়েছে তৃণমূলের। আর তৃণমূলকে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন অখিল গিরি। তাই রাজ্যের মন্ত্রিসভায় অখিল গিরিকে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁকে স্বীকৃতি দিলেন, পুরস্কৃত করলেন।

জনপ্রিয়

Back To Top